Ticker

6/recent/ticker-posts

প্রত্যুপকার (জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও সমাধান ) _ এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (৬০টি)

■ লেখক-পরিচিতি

প্রশ্ন-১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূল নাম কী?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশ্ন-৪. ঈশ্বরচন্দ্রের উপাধি কী ছিল?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্রের উপাধি ছিল 'বিদ্যাসাগর'。

প্রশ্ন-৫. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলকাতা সংস্কৃত কলেজের ছাত্র ছিলেন।

প্রশ্ন-৬. দানশীলতার জন্য বিদ্যাসাগরকে কী নামে ডাকা হতো?

উত্তর: দানশীলতার জন্য বিদ্যাসাগরকে 'দয়ার সাগর' নামে ডাকা হতো।

প্রশ্ন-৭. বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কাকে?

উত্তর: বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে।

প্রশ্ন-৮. বাংলা বর্ণমালাকে নতুনভাবে বিন্যাস করেন কে?

উত্তর: বাংলা বর্ণমালাকে নতুনভাবে বিন্যাস করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

প্রশ্ন-৯. বাংলা বর্ণমালার নতুন বিন্যাসে প্রকাশিত শিশুপাঠ্য বই কোনটি?

উত্তর: বাংলা বর্ণমালার নতুন বিন্যাসে প্রকাশিত শিশুপাঠ্য বই 'বর্ণপরিচয়'।

প্রশ্ন-১০. বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটান কে?

উত্তর: বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটান ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

প্রশ্ন-১১. ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আজও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত বইটির নাম কী?

উত্তর: ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আজও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত বইটির নাম হলো 'বর্ণপরিচয়'।

প্রশ্ন-১২. 'ব্যাকরণ কৌমুদী' গ্রন্থটি কার লেখা?

উত্তর: 'ব্যাকরণ কৌমুদী' গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা।

প্রশ্ন-১৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ সম্পর্কিত গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ সম্পর্কিত গ্রন্থের নাম 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব'।

প্রশ্ন-১৪. 'ভ্রান্তিবিলাস' কোন জাতীয় রচনা?

উত্তর: 'ভ্রান্তিবিলাস' অনুবাদ জাতীয় রচনা।

প্রশ্ন-১৫. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

■ মূলপাঠ

প্রশ্ন-১৬. কে খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন?

উত্তর: খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস।

প্রশ্ন-১৭. খলিফা কাকে বন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর: খলিফা হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তিকে বন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-১৮. হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির জন্মস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর: হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির জন্মস্থান ছিল দামেস্ক নগরীতে।

প্রশ্ন-১৯. আলী ইবনে আব্বাস কোন স্থানের উপর জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি কামনা করেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস দামেস্ক নগরীর উপর জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি কামনা করেন।

প্রশ্ন-২০. আলী ইবনে আব্বাস দামেস্ক নগরীর উপর ঈশ্বরের শুভদৃষ্টি কামনা করেন কেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস দামেস্ক নগরীর উপর ঈশ্বরের শুভদৃষ্টি কামনা করেন কারণ ওই অংশের এক অধিবাসী একসময় তাঁর প্রাণরক্ষা করেছিলেন।

প্রশ্ন-২১. আলী ইবনে আব্বাস কেন দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস প্রাণভয়ে দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-২২. আলী ইবনে আব্বাস আশ্রিত ছিলেন কত দিন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস এক মাস আশ্রিত ছিলেন।

প্রশ্ন-২৩. আলী ইবনে আব্বাসের জন্মস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের জন্মস্থান ছিল বাগদাদে।

প্রশ্ন-২৪. দামেস্ক নগরী কার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান?

উত্তর: দামেস্ক নগরী আলী ইবনে আব্বাসের কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান।

প্রশ্ন-২৫. 'এই হতভাগ্যই আপনাকে, এক মাসকাল আপন আলয়ে রাখিয়াছিল।'- কথাটি কে বলেছিল?

উত্তর: 'এই হতভাগ্যই আপনাকে, এক মাসকাল আপন আলয়ে রাখিয়াছিল।'- কথাটি বলেছিলেন হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তি।

প্রশ্ন-২৬. আলী ইবনে আব্বাস কাকে চিনতে পেরে আহ্লাদে পুলকিত হয়ে উঠেছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতাকে চিনতে পেরে আহ্লাদে পুলকিত হয়ে উঠেছিলেন।

প্রশ্ন-২৭. নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত কার উপর মিথ্যা দোষারোপ করেছিল?

উত্তর: নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার উপর মিথ্যা দোষারোপ করেছিল।

প্রশ্ন-২৮. হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তিকে কে প্রাণনাশের আশঙ্কা করতে নিষেধ করেছিলেন?

উত্তর: হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস প্রাণনাশের আশঙ্কা করতে নিষেধ করেছিলেন।

প্রশ্ন-২৯. আলী ইবনে আব্বাস কাকে মুক্ত করতে নিজ প্রাণের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস তাঁর বন্দি আশ্রয়দাতাকে মুক্ত করতে নিজ প্রাণের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন।

প্রশ্ন-৩০. বন্দিদশা হতে মুক্ত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কে?

উত্তর: বন্দিদশা হতে মুক্ত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা।

প্রশ্ন-৩১. আলী ইবনে আব্বাস বন্দি আশ্রয়দাতার মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে কার নিকট উপস্থিত হন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস বন্দি আশ্রয়দাতার মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে খলিফার নিকট উপস্থিত হন।

প্রশ্ন-৩২. খলিফা বন্দি ব্যক্তির শাস্তি প্রদানে কাকে প্রস্তুত হতে আদেশ দেন?

উত্তর: খলিফা বন্দি ব্যক্তির শাস্তি প্রদানে ঘাতককে প্রস্তুত হতে আদেশ দেন।

প্রশ্ন-৩৩. কে খলিফার চরণে পতিত হয়ে কাতর মিনতি করেছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস খলিফার চরণে পতিত হয়ে কাতর মিনতি করেছিলেন।

প্রশ্ন-৩৪. আলী ইবনে আব্বাসের কথায় কার কোপানল প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের কথায় খলিফার কোপানল প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন-৩৫. গল্পে কাকে পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: গল্পে বন্দি আশ্রয়দাতা ব্যক্তিকে পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৩৬. খলিফা কেমন প্রকৃতির পুরুষ ছিলেন?

উত্তর: খলিফা মহামতি ও অতি উন্নতচিত্তের পুরুষ ছিলেন।

প্রশ্ন-৩৭. কার প্রকৃত পরিচয় জেনে খলিফা খুশি হয়েছিলেন?

উত্তর: বন্দি ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জেনে খলিফা খুশি হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৩৮. অবশেষে কে প্রাণদণ্ড হতে অব্যাহতি পেয়েছিল?

উত্তর: অবশেষে বন্দি ব্যক্তি প্রাণদণ্ড হতে অব্যাহতি পেয়েছিল।

প্রশ্ন-৩৯. বন্দি ব্যক্তির প্রাণ কার দ্বারা রক্ষা হয়েছিল?

উত্তর: বন্দি ব্যক্তির প্রাণ আলী ইবনে আব্বাসের দ্বারা রক্ষা হয়েছিল।

প্রশ্ন-৪০. খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে কীভাবে সম্ভাষণ জানান?

উত্তর: খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে ও সাদর বচনে সম্ভাষণ জানান।

প্রশ্ন-৪১. খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে কী উপহার দিয়েছিলেন?

উত্তর: খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে মহামূল্যবান পরিচ্ছদ, দশটি অশ্ব, দশটি খচ্চর ও দশটি উষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৪২. খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে বিদায়কালে কার নামে অনুরোধপত্র দিয়েছিলেন?

উত্তর: খলিফা বন্দি ব্যক্তিকে বিদায়কালে দামেস্কের রাজপ্রতিনিধির নামে একটি অনুরোধপত্র দিয়েছিলেন।

■ শব্দার্থ ও টীকা

প্রশ্ন-৪৩. 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।

প্রশ্ন-৪৪. 'সমভিব্যাহারে' শব্দটি দ্বারা কী বোঝায়?

উত্তর: 'সমভিব্যাহারে' শব্দটির দ্বারা সঙ্গে বা সাহচর্যে বোঝায়।

প্রশ্ন-৪৫. 'প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: 'প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে' শব্দের অর্থ বন্ধুত্বের অনুভূতিতে আনন্দিত চোখে।

প্রশ্ন-৪৬. 'রোষারক্ত নয়ন' দ্বারা কী বোঝায়?

উত্তর: 'রোষারক্ত নয়ন' দ্বারা বোঝায় ক্রোধে লাল চোখ।

প্রশ্ন-৪৭. 'অবলোকনমাত্র' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: 'অবলোকনমাত্র' শব্দের অর্থ দেখামাত্র।

প্রশ্ন-৪৮. হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তাকে কী বলা হতো?

উত্তর: হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বপ্রধান শাসনকর্তাকে খলিফা বলা হতো।

প্রশ্ন-৪৯. রাজ্যের প্রধান শাসক ও ধর্মনেতাকে এককথায় কী বলা হতো?

উত্তর: রাজ্যের প্রধান শাসক ও ধর্মনেতাকে এককথায় খলিফা বলা হতো।

প্রশ্ন-৫০. সিরিয়ার রাজধানী কোনটি?

উত্তর: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক।

প্রশ্ন-৫১. দামেস্ক কোন মহাদেশের প্রাচীন নগরী?

উত্তর: দামেস্ক এশিয়া মহাদেশের প্রাচীন নগরী।

প্রশ্ন-৫২. সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা কে ছিলেন?

উত্তর: সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন আল মামুন।

প্রশ্ন-৫৩. খলিফা মামুনের পিতার নাম কী?

উত্তর: খলিফা মামুনের পিতার নাম খলিফা হারুনর রশীদ।

প্রশ্ন-৫৪. বাগদাদ কোন দেশের রাজধানী?

উত্তর: বাগদাদ ইরাকের রাজধানী।

প্রশ্ন-৫৫. মুসলিম সভ্যতার শ্রেষ্ঠ নগরী কোনটি ছিল?

উত্তর: মুসলিম সভ্যতার শ্রেষ্ঠ নগরী ছিল বাগদাদ।

প্রশ্ন-৫৬. বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন কে?

উত্তর: বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন আব্বাসীয় খলিফা মনসুর।

■ পাঠ-পরিচিতি

প্রশ্ন-৫৭. 'প্রত্যুপকার' রচনাটি কোন গ্রন্থ হতে সংকলিত হয়েছে?

উত্তর: 'প্রত্যুপকার' রচনাটি 'আখ্যানমঞ্জরী' দ্বিতীয় ভাগ হতে সংকলিত হয়েছে।

প্রশ্ন-৫৮. বিশ্বের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের গৌরবদীপ্ত ঘটনা কোন গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়?

উত্তর: বিশ্বের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের গৌরবদীপ্ত ঘটনা 'আখ্যানমঞ্জরী' গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।

প্রশ্ন-৫৯. 'প্রত্যুপকার' রচনাটি কোন ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে?

উত্তর: 'প্রত্যুপকার' রচনাটি আলী ইবনে আব্বাস নামক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে।

প্রশ্ন-৬০. 'প্রত্যুপকার' রচনাটিতে কীসের বর্ণনা পাওয়া যায়?

উত্তর: 'প্রত্যুপকার' রচনায় দুজন মহৎ ব্যক্তির উপকার ও প্রতি-উপকারের বর্ণনা পাওয়া যায়।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (৩০টি)

প্রশ্ন-১. আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা কেন বন্দি হয়েছিলেন?

উত্তর: 'প্রত্যুপকার' গল্পে কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে খলিফার কাছে অভিযোগ করায় আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা বন্দি হয়েছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা অত্যন্ত দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক ছিলেন। এক সময় তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে কোনো প্রকার স্বার্থ ছাড়াই তাঁর বাড়িতে একমাস অবস্থান করতে দিয়েছিলেন। সমাজের নীচপ্রকৃতি পরহিংসুক দুরাত্মারা, ঈর্ষাবশত অমূলক দোষারোপ করে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার সর্বনাশ করার জন্য খলিফার নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে খলিফার সৈন্যদল কর্তৃক তিনি বন্দি হন।

প্রশ্ন-২. আলী ইবনে আব্বাস কেন বন্দিকে আপন আলয়ে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: খলিফা মামুনের আদেশে আলী ইবনে আব্বাস বন্দিকে আপন আলয়ে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস একদিন বিকেলে খলিফার সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে তাঁদের সামনে আনা হলে খলিফা আলী ইবনে আব্বাসকে আদেশ করেন যেন বন্দি ব্যক্তিকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রুদ্ধ করে রাখা হয় এবং পরদিন খলিফার নিকট হাজির করা হয়। মূলত এ কারণেই তিনি বন্দিকে আপন আলয়ে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন।

প্রশ্ন-৩. আলী ইবনে আব্বাস কেন প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর: দামেস্কের পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হওয়ায় আলী ইবনে আব্বাস প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
বহু বছর পূর্বে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হলে উক্ত পদে যিনি অধিষ্ঠিত হন তাঁর সাথে আলী ইবনে আব্বাস সেখানে গিয়েছিলেন। পদচ্যুত শাসনকর্তা এই খবর পেয়ে সৈন্যদল নিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ করেন। তখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৪. 'আপনি কৃপা করিয়া আমার প্রাণ রক্ষা করুন।'- আলী ইবনে আব্বাস কোন প্রসঙ্গে এ কথাটি বলেছিলেন?

উত্তর: প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আলী ইবনে আব্বাস এ কথাটি বলেছিলেন।
বহু বছর পূর্বে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হলে তাঁর পরিবর্তে যিনি সেখানকার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন আলী ইবনে আব্বাস একদিন তাঁর সাথে সেখানে গিয়েছিলেন। এমন সময় পদচ্যুত শাসনকর্তা সৈন্যদের নিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ চালালে তিনি পালিয়ে গিয়ে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রবেশ করে প্রাণভয়ে তিনি গৃহস্বামীর কাছে নিজ প্রাণ রক্ষা করার আবেদন করে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। মূলত প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে জীবন রক্ষার্থেই তিনি এ কথাটি বলেছিলেন।

প্রশ্ন-৫. 'লজ্জাবশত তাহার নিকট আমি সে কথা ব্যক্ত করিতে পারিলাম না।'- এ কথা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যে মূলত আলী ইবনে আব্বাসের কাছে অর্থ না থাকার কথাটি বোঝানো হয়েছে।
আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হলে প্রাণভয়ে স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু বাগদাদে ফিরে যাওয়ার মতো অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। তাই তিনি লজ্জায় চুপ করে রইলেন।

প্রশ্ন-৬. 'কিন্তু তৎকালে কিছু না বলিয়া মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন।'- আশ্রয়দাতা কেন মৌনাবলম্বন করেছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের বাগদাদ পৌঁছানোর সমস্ত আয়োজন আগে থেকেই করে রাখার কারণে আশ্রয়দাতা তৎকালে কিছু না বলে মৌনাবলম্বন করেছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হলে প্রাণভয়ে স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু বাগদাদে ফিরে যাওয়ার মতো অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। তাই তিনি লজ্জায় চুপ করে রইলেন। আশ্রয়দাতা বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন কিছু না বলে মৌনাবলম্বন করেছিলেন। কেননা, তিনি আগে থেকেই আলী ইবনে আব্বাসের যাওয়ার জন্য সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করে রেখেছিলেন।

প্রশ্ন-৭. আলী ইবনে আব্বাস প্রস্থানকালে আশ্রয়দাতা কীসের আয়োজন করে রেখেছিলেন? ব্যাখ্যা করো。

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্থানকালে আশ্রয়দাতা তাঁর স্বদেশে ফেরার সমস্ত আয়োজন করে রেখেছিলেন।
স্বদেশে ফেরার জন্য আলী ইবনে আব্বাসের কাছে কোনো অর্থ ছিল না। এটা বুঝতে পেরে আশ্রয়দাতা বিদায়কালে তাঁর জন্য একটি উৎকৃষ্ট সুসজ্জিত অশ্ব, খাদ্যসামগ্রী, পথে পরিচর্যা করার জন্য একজন ভৃত্য এবং স্বর্ণমুদ্রার থলি দিলেন। এছাড়াও আশ্রয়দাতা তাঁর আত্মীয়দের সাথে তাঁর আলাপ করে দিলেন যাতে তারা বিপদে সাহায্য করতে পারে।

প্রশ্ন-৮. প্রস্থান দিবসে আলী ইবনে আব্বাস কী দেখে বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের বাগদাদে ফেরার সমস্ত ব্যবস্থা আগে থেকেই করা আছে দেখে প্রস্থান দিবসে বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের এক ব্যক্তির বাড়িতে একমাস আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্বদেশে প্রতিগমনের জন্য তাঁর কাছে কোনো টাকাপয়সা ছিল না। লজ্জাবশত এ কথা তিনি তাঁর আশ্রয়দাতাকে বলতে না পারলেও আশ্রয়দাতা তা বুঝতে পারেন। বিদায়ের দিন আলী ইবনে আব্বাস দেখেন তাঁর যাওয়ার জন্য সুসজ্জিত অশ্ব, খাদ্যসামগ্রী এবং স্বর্ণমুদ্রা ইত্যাদি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আর এসব দেখে তিনি বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৯. ডেমাস্কাস আলী ইবনে আব্বাসের সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান কেন?

উত্তর: ডেমাস্কাসের এক ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন বলে এটি তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান।
বহু বছর পূর্বে ডেমাস্কাসের শাসক পদচ্যুত হলে নতুন অধিষ্ঠিত শাসকের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস সেখানে গিয়েছিলেন। তখন পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদল তাঁদের উপর আক্রমণ করলে প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণরক্ষা করেন। এজন্যই ডেমাস্কাস আলী ইবনে আব্বাসের কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান।

প্রশ্ন-১০. 'তাহা হইলে মৃত্যুকালে আমার কোনো ক্ষোভ থাকে না।'- আলী ইবনে আব্বাস এ কথা কেন বলেছিলেন?

উত্তর: 'তাহা হইলে মৃত্যুকালে আমার কোনো ক্ষোভ থাকে না।'- কথাটি আলী ইবনে আব্বাস আক্ষেপ করে বলেছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস বহু বছর পূর্বে দামেস্কের পদচ্যুত শাসনকর্তার বহু সৈন্যদল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হলে প্রাণভয়ে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় লাভ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর সেই আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে আক্ষেপ করে বলেন, যদি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ পাই তাহা হইলে মৃত্যুকালে আমার কোনো ক্ষোভ থাকে না।

প্রশ্ন-১১. 'আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে'- কথাটি কেন বলা হয়েছিল?

উত্তর: কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ হওয়ায় আশ্রয়দাতা আলী ইবনে আব্বাসকে বলেছিলেন 'আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে'।
বহু বছর পূর্বে দামেস্কের এক ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন। কিন্তু, তিনি ওই আশ্রয়দাতা ব্যক্তির কোনো খোঁজ বা কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ করে যখন এ কথা বন্দি ব্যক্তিকে বলছিলেন তখন বন্দি আহ্লাদে বলে ওঠেন, আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে। অর্থাৎ বন্দিই তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী ব্যক্তি। তিনি এখন ইচ্ছা করলে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ গ্রহণ করে তাঁর মনের আক্ষেপ দূর করতে পারেন।

প্রশ্ন-১২. আলী ইবনে আব্বাস চমকে উঠেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বন্দি ব্যক্তিই আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা এ কথা শুনে তিনি চমকে উঠেছিলেন।
খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক এক ব্যক্তিকে বন্দি করা হয়। খলিফা তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে রুদ্ধ করে রাখার আদেশ দিলে তিনি সে বন্দিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কথায় কথায় সে বন্দিকে তিনি বলতে থাকেন আপনার অঞ্চলের এক ব্যক্তি আমার প্রাণ রক্ষা করেছিল কিন্তু তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের কোনো সুযোগ এখনো আমি পাইনি। তখন ওই ব্যক্তি বলে ওঠেন তিনি তাঁর সেই আশ্রয়দাতা হতভাগ্য ব্যক্তি। এ কথা শুনে আলী ইবনে আব্বাস চমকে উঠেছিলেন।

প্রশ্ন-১৩. 'কিয়ৎক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া, তাহাকে চিনিতে পারিলাম।'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: 'কিয়ৎক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া, তাহাকে চিনিতে পারিলাম।'- বলতে বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পারার বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।
আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সাথে কথা বলার সময়ে তাঁর আশ্রয়দাতার প্রশংসা করেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ পেলে তাঁর কোনো ক্ষোভ থাকবে না বলে জানান। তখন বন্দি ব্যক্তি নিজের আসল পরিচয় দিয়ে বলেন আপনার মনস্কামনা পূরণ হয়েছে। আমিই সেই হতভাগ্য আশ্রয়দাতা। আলী ইবনে আব্বাস এ কথা শুনে কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করেই তাঁকে চিনতে পারেন।

প্রশ্ন-১৪. 'আহ্লাদে পুলকিত হইয়া অশ্রুপূর্ণ নয়নে আলিঙ্গন করিলাম।' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: 'আহ্লাদে পুলকিত হইয়া অশ্রুপূর্ণ নয়নে আলিঙ্গন করিলাম।'- বলতে আশ্রয়দাতার পরিচয় পেয়ে খুশিতে তাঁকে জড়িয়ে ধরার কথা বোঝানো হয়েছে।
আলী ইবনে আব্বাস দুঃখ প্রকাশ করে বন্দি ব্যক্তিকে তাঁর দয়াময় আশ্রয়দাতার কথা বলছিলেন। আশ্রয়দাতার প্রতি যদি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ পান তাহলে মৃত্যুর সময় তাঁর কোনো ক্ষোভ থাকবে না বলেও তিনি জানান। তখন বন্দি ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে তাঁর নিজের পরিচয় দিলে তিনি চমকে উঠে কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করে তাঁকে চিনতে পেরে খুশিতে জড়িয়ে ধরেন।

প্রশ্ন-১৫. আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দুষ্টমতি দুরাচারদের মিথ্যা অভিযোগে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক। কিন্তু কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে তার উপর মিথ্যা দোষারোপ করে। খলিফা সত্য যাচাই না করে দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে তাঁকে বন্দি করেন আর এভাবেই তিনি খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-১৬. বন্দি ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?

উত্তর: বন্দি ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁর অবস্থানের খবর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা একদিন খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হয়েছিলেন। হঠাৎ করে বন্দি হওয়ার কারণে তিনি আসার সময় স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের সাথে দেখা করতে পারেননি। যার কারণে তিনি আক্ষেপ করেন এবং প্রাণদণ্ড হবে এই ভেবে তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে বিনীত বাক্যে প্রার্থনা করে পরিবারবর্গের নিকট তাঁর এই সংবাদটি পাঠাতে অনুরোধ করেছিলেন।

প্রশ্ন-১৭. আলী ইবনে আব্বাস বন্দির পরিচয় পেয়ে কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস বন্দির পরিচয় পেয়ে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষাকারী আশ্রয়দাতা কতিপয় নীচপ্রকৃতির পরহিংসুক লোকের মিথ্যা অভিযোগের কারণে খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস বন্দির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে তাঁকে মুক্ত করে হাতে হাজার স্বর্ণমুদ্রার থলি দিয়ে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-১৮. 'আমি কখনোই তাহাতে সম্মত হইতে পারিব না'- কথাটি বন্দি লোকটি, কোন প্রসঙ্গে বলেছিলেন? ব্যাখ্যা করো。

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস বন্দির পরিচয় পেয়ে তাঁকে প্রস্থান করার প্রস্তাব দিলে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
একদিন দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন। ভাগ্যের পরিহাসে তিনি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে খলিফা তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে রুদ্ধ করে রাখার আদেশ দেন। এক পর্যায়ে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন এই বন্দি ব্যক্তিই আসলে তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী সেই দয়াবান ব্যক্তি। তখন আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতাকে এক থলে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু আলী ইবনে আব্বাস এতে বিপদে পড়বে বলে বন্দি লোকটি তাঁর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

প্রশ্ন-১৯. আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্তাবে তাঁর আশ্রয়দাতা সম্মত হননি কেন?

উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকায় আশ্রয়দাতা তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হননি।
আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা খলিফার সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে খলিফা তাঁর প্রাণদণ্ড ঘোষণা করার জন্য উদ্যত হন। কিন্তু এক পর্যায়ে বন্দি ব্যক্তির আসল পরিচয় জানতে পেরে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে মুক্ত করে দেন। সহস্র স্বর্ণমুদ্রার থলি হাতে দিয়ে আশ্রয়দাতাকে প্রস্থান করার প্রস্তাব দিলে আলী ইবনে আব্বাস এতে খলিফার কোপে পতিত হবেন ভেবে আশ্রয়দাতা তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হননি।

প্রশ্ন-২০. 'তাহা হইলেই আপনার প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হইবে।'- এখানে কীভাবে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: খলিফা যেন বন্দি ব্যক্তির উপর আর রেগে না থাকেন সেই চেষ্টা করলেই যে প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হবে- সেটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
একদিন বিকেলে আলী ইবনে আব্বাস ও খলিফা মামুনের সামনে হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে আনা হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির আসল পরিচয় জানতে পেরে তাকে মুক্ত করে দিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পূর্বে যে এই বন্দি ব্যক্তিই তাঁর প্রাণরক্ষা করেছিলেন এখন নিজের মুক্তির জন্য তিনি তাঁর বিনাশের কারণ হতে পারবেন না। তাই তিনি খলিফার কাছে সত্য ঘটনা খুলে বলতে অনুরোধ করেন যাতে খলিফা তাঁকে প্রাণদণ্ড না দেন। তাহলেই আলী ইবনে আব্বাসের প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পাবে।

প্রশ্ন-২১. 'কৃপা করিয়া তাহা শুনিলে, চরিতার্থ হই।'- আলী ইবনে আব্বাস কথাটি কাকে বলেছিলেন? ব্যাখ্যা করো。

উত্তর: 'কৃপা করিয়া তাহা শুনিলে, আমি চরিতার্থ হই।'- কথাটি আলী ইবনে আব্বাস বলেছিলেন খলিফা মামুনকে উদ্দেশ করে।
খলিফা মামুন বন্দি ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে রুদ্ধ করে রাখতে এবং পরবর্তী দিন তাঁর সামনে হাজির করতে বলেছিলেন। কিন্তু আলী ইবনে আব্বাস বন্দিকে সাথে না নিয়ে একাই এসে বন্দির সম্পর্কে সঠিক ঘটনা প্রকাশ করার জন্য বলেছিলেন 'কৃপা করিয়া তাহা শুনিলে, চরিতার্থ হই।'

প্রশ্ন-২২. আলী ইবনে আব্বাস কেন বন্দির মুক্তির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেছিলেন?

উত্তর: আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাওয়ার কারণে আলী ইবনে আব্বাস বন্দির মুক্তির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেছিলেন।
খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। একদিন তিনি দামেস্কের এক ব্যক্তির কাছে আশ্রয় লাভ করে প্রাণে বাঁচেন। নীচপ্রকৃতির হিংসুক লোকের অভিযোগে তাঁর আশ্রয়দাতা খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। তারপর ঘটনাক্রমেও আলী ইবনে আব্বাস তাঁর সঠিক পরিচয় জানতে পারলে উপকারীর উপকার করার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দিকে মুক্তি দিতে খলিফার কাছে সুপারিশ করেছিলেন।

প্রশ্ন-২৩. 'তিনি এরূপ কোনো দোষে দূষিত হতে পারেন, আমার এরূপ বোধ ও বিশ্বাস হয় না।'- আলী ইবনে আব্বাস কেন এ কথা বলেছিলেন?

উত্তর: বন্দির উদারতা সম্পর্কে অবগত হওয়ায় আলী ইবনে আব্বাস এ কথা বলেছিলেন।
খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। একদিন দামেস্কের পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদলের আক্রমণের শিকার হলে স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে তিনি প্রাণ রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে ওই আশ্রয়দাতা খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে তিনি খলিফাকে অতীতে তাঁর দয়াশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

প্রশ্ন-২৪. 'এ ক্ষেত্রে আপনার যেরূপ অভিৰুচি হয় করুন।'- কথাটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রশ্নোক্ত কথাটি আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনকে বলেছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতার জন্য খলিফা মামুনের কাছে সুপারিশ করেন। তিনি বলেন আমি তাঁকে ছেড়ে দিতে চাইলে আমার বিপদ হবে দেখে তিনি চলে যেতে সম্মত হননি। তিনি অত্যন্ত দয়াশীল, ন্যায়পরায়ণ, পরোপকারী ও সদ্বিবেচক ব্যক্তি। তাঁর দ্বারা কোনো খারাপ কাজ হতে পারে না। বাকি সিদ্ধান্ত খলিফা মামুনের উপর ছেড়ে দিতেই তখন তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

প্রশ্ন-২৫. খলিফা কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: খলিফা মহামতি ও অতি উন্নতচিত্তের মানুষ ছিলেন।
দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে খলিফা মামুন বন্দি ব্যক্তির প্রাণদণ্ড করতে উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় ও তাঁর উদারতার কথা ব্যক্ত করলেন তখন খলিফা মামুন আহ্লাদিত হয়ে বন্দিকে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি দিলেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন।

প্রশ্ন-২৬. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বন্দি সম্পর্কে সত্য কথা জানতে পেরে খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন যাতে তিনি সঠিক এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নীচপ্রকৃতির পরহিংসুক দুরাত্মারা আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার সর্বনাশ করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করলে খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক তিনি বন্দি হন। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে খলিফা মামুনের কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। বন্দি ব্যক্তি সম্পর্কে সমস্ত সত্য কথা জানার পর সঠিক এবং উপযুক্ত বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন।

প্রশ্ন-২৭. 'বলিতে গেলে, তোমা হইতেই তাহার প্রাণরক্ষা হইল।'- খলিফা মামুন কাকে এ কথা বলেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রশ্নোক্ত কথাটি খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসকে বলেছিলেন।
খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক এক ব্যক্তি বন্দি হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দির সঠিক পরিচয় জানার পর দেখেন তিনি তাঁরই এক সময়ের প্রাণ রক্ষাকারী আশ্রয়দাতা। তখন আলী ইবনে আব্বাস বন্দির বিষয়ে সব সত্য কথা খুলে বললে খলিফা মামুন বন্দিকে প্রাণদণ্ড হতে অব্যাহতি দেন এবং বলেন, 'বলিতে গেলে, তোমা হইতেই তাহার প্রাণরক্ষা হইল।'

প্রশ্ন-২৮. 'তুমি যে এরূপ প্রকৃতির লোক, তাহা আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না।'- কথাটি খলিফা মামুন কেন বলেছিলেন?

উত্তর: আশ্রয়দাতার উদারতা সম্পর্কে জানতে পেরে খলিফা মামুন এ কথাটি বলেছিলেন।
খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতাকে বন্দি করা হয়। একদিন আলী ইবনে আব্বাস বন্দির আসল পরিচয় জানতে পেরে খলিফা মামুনের কাছে তাঁর উদারতা ও দয়াশীলতার কথা তুলে ধরেন। এসব কথা শুনেই খলিফা মামুন সেই আশ্রয়দাতাকে বলেছিলেন, 'তুমি যে এরূপ প্রকৃতির লোক, তাহা আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না।'

প্রশ্ন-২৯. খলিফা কেন বন্দির প্রাণদণ্ড করতে উদ্যত হয়েছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে খলিফা বন্দির প্রাণদণ্ড করতে উদ্যত হয়েছিলেন।
নীচপ্রকৃতির পরহিংসুক দুরাত্মারা, ঈর্ষাবশত আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার উপর অমূলক দোষারোপ করে খলিফার নিকট মিথ্যা অভিযোগ দেয়। যার ফলশ্রুতিতে খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক আশ্রয়দাতা বন্দি হন। দুষ্ট লোকেরা চেয়েছিল বন্দি ব্যক্তির ক্ষতি করতে আর তাদের ফাঁদে পা দিয়েই মিথ্যাকে বিশ্বাস করে খলিফা মামুন বন্দির প্রাণদণ্ড করতে উদ্যত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৩০. বিদায়কালে খলিফা বন্দির সাথে কী পাঠিয়েছিলেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বিদায়কালে খলিফা বন্দির সাথে অর্থসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন।
নীচপ্রকৃতির পরহিংসুক লোকদের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতাকে বন্দি করা হলে খলিফা পরবর্তী সময় সঠিক তথ্য জানতে পারেন এবং তাঁকে প্রাণদণ্ড থেকে মুক্তি দেন। তিনি তাঁকে মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশটি অশ্ব ও দশটি খচ্চর, দশটি উষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি তাঁকে দামেস্কের রাজপ্রতিনিধির নামে অনুরোধপত্র ও পাথেয়স্বরূপ বহুসংখ্যক অর্থ দিয়ে বিদায় করেছিলেন।

Post a Comment

0 Comments