টেক্সটবইয়ের অনুশীলনীর সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নের আলোকে
প্রশ্ন-১. জীববিজ্ঞানের তত্ত্বীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে এমন শাখাগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: জীববিজ্ঞানের ভৌত বিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখাগুলোর নাম হলো—
১.অঙ্গসংস্থানবিদ্যা,
২. শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি,
৩. শারীরবিদ্যা,
৪. হিস্টোলজি,
৫. ভ্রূণবিদ্যা,
৬. কোষবিদ্যা,
৭. বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স,
৮. বিবর্তনবিদ্যা,
৯. বাস্তুবিদ্যা,
১০. এন্ডোক্রাইনোলজি ও
১১. জীবভূগোল।
প্রশ্ন-২. জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো যেসব শাখায় আলোচনা করা হয় সেসব শাখার নাম লেখো।
উত্তর: জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। শাখাগুলো হলো—
১. জীবাশ্মবিজ্ঞান,
২. জীবপরিসংখ্যানবিদ্যা,
৩. পরজীবীবিদ্যা,
৪. মৎস্যবিজ্ঞান,
৫. কীটতত্ত্ব,
৬. অণুজীববিজ্ঞান,
৭. কৃষিবিজ্ঞান,
৮. চিকিৎসাবিজ্ঞান,
৯. জিনপ্রযুক্তি,
১০. প্রাণরসায়ন,
১১. পরিবেশবিজ্ঞান,
১২. সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান,
১৩. বনবিজ্ঞান,
১৪. জীবপ্রযুক্তি,
১৫. ফার্মেসি,
১৬. বন্য প্রাণিবিদ্যা,
১৭. বায়োইনফরমেটিকস্।
প্রশ্ন-৩. ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa নামকরণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa। এখানে Oryza গণ নাম ও sativa প্রজাতির নাম, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং এই নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বলে। আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয় এবং এই নামকরণে ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করা হয়। নামকরণ ল্যাটিন শব্দের হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
প্রশ্ন-৪. কোনো জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসের আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত ধাপগুলো লেখো।
উত্তর: কোনো জীবকে প্রজাতি পর্যায় পর্যন্ত বিন্যাসের আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত ধাপগুলো হলো—
রাজ্য (Kingdom)
পর্ব (Phylum) / বিভাগ (Division)
শ্রেণি (Class)
বর্গ (Order)
গোত্র (Family)
গণ (Genus)
প্রজাতি (Species)
রাজ্য (Kingdom)
পর্ব (Phylum) / বিভাগ (Division)
শ্রেণি (Class)
বর্গ (Order)
গোত্র (Family)
গণ (Genus)
প্রজাতি (Species)
অধ্যায়টির শিখনফলের আলোকে
প্রশ্ন-৫. জীববিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত ধারণা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিজ্ঞানের প্রধান দুটি ভাগ রয়েছে— জড়বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান। জীববিজ্ঞানের আলোচনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাদের জীবন আছে তাদের নিয়ে। জীববিজ্ঞান বেশ প্রাচীন বিজ্ঞান, একে ইংরেজিতে Biology বলে। এটি দুটি গ্রিক শব্দ Bios ও Logos এর সমন্বয়ে গঠিত। অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন-৬. জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখাগুলো ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত শাখাগুলোকে ভৌত এবং ফলিত এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ভৌত জীববিজ্ঞান শাখা বলতে সেসব শাখা বোঝানো হয় যেখানে তার তাত্ত্বিক ভিত্তি অনুসন্ধান করাটা প্রয়োগ সংক্রান্ত দিকের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়। যেমন- অঙ্গসংস্থান, শারীরবিদ্যা, কোষবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা ইত্যাদি। আবার, ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। যেমন: জীবাশ্মবিজ্ঞান, মৎস্যবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, জীবপ্রযুক্তি ইত্যাদি।
প্রশ্ন-৭. জীবের শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে যে বিদ্যার মাধ্যমে জানা যায় তাই হলো শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। এখন পর্যন্ত উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ ও প্রাণীর প্রায় তেরো লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক প্রকৃতিবিজ্ঞান এই বিস্তৃত জীবজগতকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। যার ফলে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা নামক স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন-৮. জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর: জীবজগতকে জানা, বোঝা এবং শেখার সুবিধার জন্য এর অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা প্রয়োজন। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা যায়। এছাড়াও জীবের জাতিজনিগত বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনীয় ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন।
প্রশ্ন-৯. জীবের শ্রেণিবিন্যাসকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আর. এইচ. হুইটেকার জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে বিভক্ত করেন। পরবর্তীতে মারগুলিস সমস্ত জীবজগতকে প্রোক্যারিওটা (আদিকোষী) ও ইউক্যারিওটা (প্রকৃতকোষী) নামক দুটি সুপার কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করেন। এদের মধ্যে মনেরা রাজ্যের জীবরা প্রোক্যারিওটা এবং প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লানটি ও অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবরা ইউক্যারিওটা সুপার কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন-১০. দ্বিপদ নামকরণের ধারণা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: গণ ও প্রজাতি এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং নামকরণের এ পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বলে। ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। তিনিই প্রথম Species plantarum নামক বইয়ে জীবের শ্রেণি, বর্গ, গণ ও প্রজাতি ধাপগুলো ব্যবহার করেন।
প্রশ্ন-১১. দ্বিপদ নামকরণের গুরুত্ব উল্লেখ করো।
উত্তর: জীবের দ্বিপদ নামকরণের ফলে বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে সঠিকভাবে জানা যায়। দ্বিপদ নামকরণের লক্ষ্য হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা। তাই প্রতিটি জীবকে জানতে দ্বিপদ নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন-১২. বাস্তবজীবনে শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের সাহায্যে বিস্তৃত জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা যায়। বাস্তবজীবনেও জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শ্রেণিবিন্যাসে একই বৈশিষ্ট্য সম্বলিত জীবসমূহকে একত্রে রাখা হয়েছে। ফলে কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট জীবের দল সম্পর্কে জানা যায়। জীবজগতের বেশিরভাগ জীবই মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। তাই জীবসমূহের সংরক্ষণে সচেতনতা জরুরি। তাই জীবসমূহকে চেনার জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন।
টপিকভিত্তিক আরও সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
■ জীববিজ্ঞানের ধারণা
প্রশ্ন-১৩. জীববিজ্ঞানের জন্য সহায়ক জ্ঞান কোনটি এবং কেন?
উত্তর: জীবনের ভিত্তিমূলে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের একই ধরনের নিয়ম, যা জড় জগতকেও নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য জীবজগতকে বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের তথা ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা জরুরি। অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন-১৪. জড় উপাদান থেকে জীবদেহ গঠিত হলেও জীব ও জড় আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয় কেন?
উত্তর: জীব হলো অনেকগুলো জড়ের এমন এক জটিল সমাবেশ যেখানে ঐ জটিলতার কারণে নতুন কিছু গুণের উদ্ভব ঘটেছে। জড়ের সুনির্দিষ্ট সন্নিবেশে জীব গঠিত হলেও তার মধ্যে এমন সব নতুন ধরনের বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে, যা তার জড় গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে ছিল না। তাই জড় উপাদান থেকে জীবদেহ গঠিত হলেও জীব ও জড় আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়।
■ জীববিজ্ঞানের শাখাগুলো
ভৌত জীববিজ্ঞান
প্রশ্ন-১৫. Ecology-কে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: Ecology বলতে জীব ও তাদের বাসস্থান সম্পর্কে জ্ঞানকে বোঝায়। আমাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে সকল জীবের সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞানই হলো Ecology। Ecology-তে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা করা হয়। আর ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায়ও তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এজন্যই Ecology-কে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-১৬. শারীরবিদ্যা জীববিজ্ঞানের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শারীরবিদ্যায় জীবের তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তবে এ শাখায় শারীরবিদ্যা সম্পর্কিত কোনো প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না। তাই শারীরবিদ্যা জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন-১৭. জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে কেন জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখায় আলোচনা করা হয়?
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে বংশগতিবিদ্যা শাখায় আলোচনা করা হয়। বংশগতিবিদ্যায় জীবের বংশগত গুণাবলি কীভাবে এক বংশ থেকে অন্য বংশে সঞ্চারিত হয় তার রীতি-নীতি, সংকর প্রজনন, পরিব্যক্তি, প্রকরণ সৃষ্টির কারণ ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলো আলোচিত হয়। এ প্রক্রিয়াগুলো সবই বংশগতিবিদ্যার তত্ত্বীয় বিষয়। তাই বংশগতিবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখায় আলোচনা করা হয়।
ফলিত জীববিজ্ঞান
প্রশ্ন-১৮. জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় সামুদ্রিক জীবন নিয়ে আলোচিত হয়- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ফলিত শাখায় তত্ত্বীয় বিষয়ের উপরে ব্যবহারিক পর্যায়ে জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে সামুদ্রিক জীবন অর্থাৎ সমুদ্র ও সমুদ্রের জীব সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এজন্য জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান আলোচিত হয়।
প্রশ্ন-১৯. ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদি মাইক্রোস্কোপিক জীব নিয়ে আলোচ্য শাখাকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদি মাইক্রোস্কোপিক জীবদেরকে অণুজীববিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়। এই শাখায় এসকল জীবদের গঠন, জৈবনিক কার্যাবলি, জীবনধারা ও প্রজনন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এদের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিন দ্বারা অণুজীবঘটিত রোগ নিরাময়ের উপায় এবং জিন প্রকৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় বলে অণুজীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-২০. কৃষিকে জীববিজ্ঞানের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষিবিজ্ঞানে জীবের তত্ত্বীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না, বরং জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ কারণে কৃষিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন-২১. কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে— ব্যাখ্যা করে লেখো।
উত্তর: জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয় বলেই কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন-২২. রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি জীবপ্রযুক্তি বা জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় আলোচিত হয়। কারণ এখানে জীবের তত্ত্বীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না, বরং জীবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে জীব সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচিত হয়। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি জীবপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ফলিত শাখা হিসেবে পরিচিত। তাই বলা যায়, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় আলোচিত হয়।
■ জীবের শ্রেণিবিন্যাস
প্রশ্ন-২৩. জীবজগতকে সহজে জানার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াস একটি চমৎকার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। জীবজগতকে জানতে তাঁর অনুসরণকৃত পদ্ধতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস কর্তৃক অনুসরণকৃত পদ্ধতিটি হচ্ছে পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে শ্রেণিবিন্যাস করা। এর ফলে বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়। কারণ এতে একটি দলের একটি জীব সম্পর্কে জানলেই ঐ দলের সমস্ত জীব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং অন্যান্য দল থেকে একে আলাদা করা যায়। তাই জীবজগতকে জানতে শ্রেণিবিন্যাসের ভূমিকা অপরিসীম।
প্রশ্ন-২৪. জীবজগতকে সহজ ও সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনের পদ্ধতি হচ্ছে শ্রেণিবিন্যাস। এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি জীবজগত এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
প্রশ্ন-২৫. জীবজগতের অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: জীবজগতের অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করার পদ্ধতিই হচ্ছে শ্রেণিবিন্যাস। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে জীবজগতকে সহজে জানা যায়। জীবের জাতিজনিগত বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনীয় ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া এই বিশাল জীবজগতকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবের শ্রেণিবিন্যাস অতীব প্রয়োজন।
প্রশ্ন-২৬. বিজ্ঞানী আর. এইচ. হুইটেকার জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন। তিনি কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে জীবজগতকে বিন্যস্ত করেন?
উত্তর: বিজ্ঞানী আর. এইচ. হুইটেকার নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন— i. কোষের DNA ও RNA-এর প্রকারভেদ, ii. জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য, iii. কোষের সংখ্যা ও iv. খাদ্যাভ্যাস।
প্রশ্ন-২৭. ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী জীবদের একটি রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই রাজ্যের জীবদের দুটি গঠনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া মনেরা রাজ্যের জীব। এই রাজ্যের জীবদের গঠনগত দুটি বৈশিষ্ট্য হলো—
i. কোষে ক্রোমাটিন তন্তু থাকে, কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
ii. কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নেই।
i. কোষে ক্রোমাটিন তন্তু থাকে, কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
ii. কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নেই।
প্রশ্ন-২৮. শৈবাল হওয়া সত্ত্বেও Nostoc-কে কেন মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: শৈবাল প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব যারা ক্লোরোফিল ধারণ করে। Nostoc বা নীলাভ সবুজ শৈবালের সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল সাইটোপ্লাজমের পরিধির অংশে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে। এছাড়াও এরা আদিকোষী জীব। অর্থাৎ এদের কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসবিহীন তাই এদেরকে মনেরা রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন-২৯. প্রোটিস্টা রাজ্যের কিছু জীব নিজের খাদ্য নিজেই প্রস্তুত করে। এরা কীভাবে খাদ্য প্রস্তুত করে?
উত্তর: শৈবাল এক প্রকার জলজ জীব যারা প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য এবং দেহে ক্লোরোফিল থাকে। জলজ জীব হওয়ায় শৈবাল পানি থেকে CO2 গ্রহণ করে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 এবং পানি থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। প্রস্তুতকৃত শর্করার কিছু অংশ শৈবাল তার প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে।
প্রশ্ন-৩০. এককোষী প্রোটিস্টাদের ক্ষেত্রে কীভাবে জনন সম্পন্ন হয়?
উত্তর: জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন প্রজনন ঘটে তাকে কনজুগেশন বলে। প্রোটিস্টা রাজ্যের এককোষী জীবে এরকম প্রজনন ঘটে। এতে কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় গঠন হয় না।
প্রশ্ন-৩১. মরা কাঠের গুঁড়িতে ছাতার মতো দেখতে কিছু সাদা সাদা জীব জন্মায়। এসকল জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।
উত্তর: ছাতার মতো দেখতে সাদা জীবগুলো হলো মাশরুম। এদের বৈশিষ্ট্য হলো— এরা স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এদের দেহে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
প্রশ্ন-৩২. বিভিন্ন জীব ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে খাদ্যগ্রহণ করে। এই ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে মানুষকে কোন ধরনের প্রাণী বলা হয় ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীব শোষণ পদ্ধতিতে পোষক বা আবর্জনা থেকে খাদ্য ও পুষ্টি সংগ্রহ করে। মানুষের দেহে সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম কোনো অঙ্গাণু না থাকায় নিজেরা খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তাই খাদ্যের জন্য অন্য খাদ্য উৎসের উপর নির্ভর করতে হয়। এই কারণে মানুষকে হেটারোট্রফিক জীব বলা হয়।
প্রশ্ন-৩৩. প্রজাতির ধারা বজায় রাখতে জীব বংশবৃদ্ধি করে। অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের প্রাণীরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষের ও স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয় যা নিষেকের মাধ্যমে জাইগোট এবং পরবর্তীতে ভ্রূণ গঠন করে। ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন-৩৪. উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রজনন সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী গ্যামেটের মিলনে যে যৌন জনন সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় অ্যানাইসোগ্যামাস। প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের ক্ষেত্রে অ্যানাইসোগ্যামাস পদ্ধতিতে যৌনজনন বা প্রজনন সম্পন্ন করে।
প্রশ্ন-৩৫. জীবজগতকে মারগুলিস নামক একজন বিজ্ঞানী দুইটি সুপার কিংডমের বিন্যাস করেন। এই কিংডমদ্বয়ের অন্তর্ভুক্ত জীবদের মধ্যে দুইটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: মারগুলিস প্রদত্ত শ্রেণিবিন্যাস মতে দুইটি কিংডমের অন্তর্ভুক্ত জীবদেরকে যথাক্রমে প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটা বলে। এদের ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ—
| প্রোক্যারিওটা | ইউক্যারিওটা |
|---|---|
| ১. এরা আদিকোষ বিশিষ্ট এককোষী, আণুবীক্ষণিক জীব। | ১. এরা প্রকৃতকোষ বিশিষ্ট এককোষী বা বহুকোষী জীব। |
| ২. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় এবং কোষে রাইবোজোম ব্যতীত অন্যান্য কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। | ২. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত এবং কোষে রাইবোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলজি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকাংসহ অন্যান্য সকল কোষীয় অঙ্গাণু থাকে। |
প্রশ্ন-৩৬. উদ্ভিদকে অটোট্রফ বলা হলেও মানুষকে কেন হেটারোট্রফিক প্রাণী বলা হয়?
উত্তর: উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। এজন্য উদ্ভিদকে অটোট্রফ বা স্বভোজী বলা হয়। অপরদিকে মানুষের দেহে ক্লোরোফিলের ন্যায় কোনো অঙ্গাণু না থাকায় নিজেরা খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য উদ্ভিদ বা অন্য খাদ্য উৎসের উপর নির্ভর করতে হয়। এজন্য মানুষকে পরভোজী বা হেটারোট্রফিক প্রাণী বলা হয়।
■ শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপ
প্রশ্ন-৩৭. মানুষ কোন বর্গের প্রাণী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষ অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি জীব। মানুষের কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত রয়েছে। এছাড়া মানুষের ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য Primate বর্গের প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান যা মানুষের বৈশিষ্ট্য। এজন্য মানুষ Primate বর্গের প্রাণী।
প্রশ্ন-৩৮. মানুষকে কোন প্রজাতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জীবজগতের প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করার জন্য মূলত জীবের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন জীবের বৈশিষ্ট্যগতভাবে পারস্পরিক মিল অমিলের ভিত্তিতে জীবগুলোকে বিভিন্ন দল ও উপদলে সাজানো হয়। একটি প্রজাতির সকল জীবের মধ্যে পরস্পর মিল সবচেয়ে বেশি থাকে। Homo গণের sapiens প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হলো এদের চওড়া ও খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিভিত্তিকভা্বে উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য মানুষের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ বলে মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
■ দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্রশ্ন-৩৯. বিশ্বের প্রতিটি জীব একটি একক নামে পরিচিতি পায়। এই নামকরণ পদ্ধতির ৪টি নিয়ম লেখো।
উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের মাধ্যমে প্রতিটি জীবের একক নাম নির্ধারিত হয়। দ্বিপদ নামকরণের ৪টি নিয়ম নিম্নরূপ—
i. নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
ii. নামের দুটি অংশ থাকবে; প্রথমটি গণ নাম ও দ্বিতীয়টি প্রজাতি নাম।
iii. নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে।
iv. নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে কিন্তু হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে।
i. নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
ii. নামের দুটি অংশ থাকবে; প্রথমটি গণ নাম ও দ্বিতীয়টি প্রজাতি নাম।
iii. নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে।
iv. নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে কিন্তু হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে।
প্রশ্ন-৪০. 'জীবের বৈজ্ঞানিক নাম জীবের অনন্য পরিচয় বহন করে'- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: দুটি পদ অর্থাৎ গণ ও প্রজাতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিপদ নামই হলো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম। এক্ষেত্রে প্রথম অংশটি জীবের গণ নাম ও দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতির নাম হয়। জীবের এ নামকরণের ক্ষেত্রে ICBN ও ICZN এর স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করা হয় যাতে করে সারা বিশ্বে একই নামে জীবটি পরিচিতি পায়।
প্রশ্ন-৪১. জীবের জন্য দ্বিপদ নামকরণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত অসংখ্য জীবকে জানতে জীবের দ্বিপদ নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি সদস্যকে আলাদা আলাদা ভাবে জানতে দ্বিপদ নামকরণ অত্যাবশ্যক। দ্বিপদ নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়, ফলে বিশ্বের সকল ভাষার লোকের কাছে যেকোনো জীবের শনাক্তকরণ সহজতর হয়। জীবের বিজ্ঞানভিত্তিক একক নাম ও সংশয়হীন একক পরিচিতির জন্য দ্বিপদ নামকরণ বিশেষভাবে প্রয়োজন।
প্রশ্ন-৪২. Oryza sativa এটি একটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম। একে দ্বিপদ নাম বলা হয় কেন?
উত্তর: জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশ বা পদটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ বা পদটি তার প্রজাতি নাম। এ ধরনের নামকে দ্বিপদ নাম বলে। ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Oryza sativa। এখানে Oryza দ্বারা গণ নাম এবং sativa দ্বারা প্রজাতি নাম বোঝায়। দুটি পদ নিয়ে গঠিত বলে ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে দ্বিপদ নাম বলা হয়।

0 Comments