Ticker

6/recent/ticker-posts

প্রত্যুপকার (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান ) _ এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

প্রশ্ন ১

চুরির অভিযোগে কিছু লোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

ক. 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়'— বিশ্লেষণ করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।
  • খ. বন্দি সম্পর্কে সত্য কথা জানার পরে খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়েছিলেন যাতে তিনি সঠিক এবং উপযুক্ত বিচার করতে পারেন। খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। একদিন খলিফার সৈন্যদল আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষাকারী ও আশ্রয়দাতাকে বন্দি করে আনে। আলী ইবনে আব্বাস বন্দির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে খলিফা মামুনের কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। আলী ইবনে আব্বাস বলেন নীচপ্রকৃতি পরহিংসুক দুরাত্মারা, ঈর্ষাবশত অমূলক দোষারোপ করে তাঁর সর্বনাশ করতে চায়। সত্য জানার পর খলিফা মামুন সঠিক এবং ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা করার জন্য কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: বন্দি ব্যক্তির সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানার পর পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ন্যায়বিচারের জন্যই খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন।
  • গ. উপকারীর বন্দি হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বন্দি হওয়ার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের জনৈক শাসক পদচ্যুত হন। সে সময় খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী ইবনে আব্বাস নতুন শাসকের সাহচর্যে গেলে সেখানে পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈনিকদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় লাভ করে প্রাণে বেঁচে যান। দুর্ভাগ্যবশত পরবর্তী সময়ে ঘটনাক্রমে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে প্রত্যুপকার করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন। খলিফা মামুনের কাছে তিনি আশ্রয়দাতা ব্যক্তির মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে কিছু লোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের নিকট হাজির করে। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি বন্দিকে আমজাদের বাড়িতে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীকালে আমজাদ জানতে পারে, এই বন্দি ব্যক্তি দশ বছর আগে তার সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল। অন্যদিকে 'প্রত্যুপকার' গল্পেও একইভাবে খলিফা মামুন জনৈক বন্দিকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন ওই ব্যক্তিই তাঁর এক সময়ের প্রাণ রক্ষাকারী। সুতরাং উদ্দীপকের উপকারীর বন্দি হওয়ার ঘটনা গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী ও আশ্রয়দাতার বন্দি ও মুক্তির ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের সৈনিকদের হাতে ধৃত দামেস্কবাসী, পরোপকারী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
  • ঘ. 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তি হলেও উদ্দীপকের আমজাদ অকৃতজ্ঞ হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক। আলোচ্য গল্পে খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের জনৈক শাসনকর্তা পদচ্যুত হলে, পদচ্যুত শাসকের সৈন্য কর্তৃক আলী ইবনে আব্বাস আক্রমণের শিকার হন। এ অবস্থায় স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আশ্রয়লাভ করে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। পরবর্তীকালে নীচপ্রকৃতির কিছু পরহিংসুক মানুষের ষড়যন্ত্রের কারণে সেই ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। বন্দির পরিচয় জানতে পেরে আলী ইবনে আব্বাস প্রত্যুপকার করার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর মুক্তির জন্য খলিফা মামুনের কাছে সুপারিশ করেন। উদ্দীপকে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গেলে তিনি সব ঘটনা শুনে চৌকিদার আমজাদের বাড়িতে সেই ব্যক্তিকে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারে বন্দি ব্যক্তিটি দশ বছর আগে তারই সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে তাকে না চেনার ভান করে চুপ থাকে, যা আমজাদের অকৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ! উপকারীর উপকার স্বীকার করে যে ব্যক্তি সে হলো কৃতজ্ঞ। অন্যদিকে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না যে সে হলো অকৃতজ্ঞ। উদ্দীপকের বন্দি ব্যক্তি আমজাদের ছেলের জীবন বাঁচালেও আমজাদ নিজের স্বার্থের কথা ভেবে বন্দি ব্যক্তির উপকারের জন্য কিছুই করেনি। অপরদিকে, 'প্রত্যুপকার' গল্পে খলিফা মামুনের সৈন্যদল যাকে বন্দি করেছিল তিনি এক সময় আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির পরিচয় জানতে পেরে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা বহিঃপ্রকাশ করেন এবং উপকার করে প্রত্যুপকারীর পরিচয় দেন। এ বিষয় দুটিই উদ্দীপকের আমজাদ এবং আলী ইবনে আব্বাসকে আলাদা করেছে। এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, আমজাদ এবং আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে একরকম নয়।
    উত্তরের সারবস্তু: আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও তারা একরকম নন; কেননা, তাদের একজন হলেন অকৃতজ্ঞ এবং অপরজন কৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী।

প্রশ্ন ২

ব্যাঘ্র মামা তুমি কেন শুয়ে আছ পাঁকে,
তুমি তো বনের মাথা, ওখানে কেউ থাকে?
ব্যাঘ্র বলে তোলো এবার বুঝেই যখন গেছ,
বানর ভায়া তোলো আমায়, তুমিই শুধু আছ।
ব্যাঘ্র এবার মুক্ত হয়ে গর্জন দিয়ে বলে,
অনেক কথা শুনিয়েছ, এবার খাব গিলে।
নিরুপায় হয়ে বানর করে হায় হায়,
এখন বুঝি উপকারীকেই বাঘে গিলে খায়॥
(/সূত্র: উপকারীকে বাঘে খায়, এম. আর তালুকদার/)

ক. 'রোষারক্ত নয়ন' কী?
খ. বন্দি ব্যক্তিটি আলী ইবনে আব্বাসের নিকট কী প্রার্থনা করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের কী সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "ব্যাঘ্র মামা এবং আলী ইবনে আব্বাস সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের অধিকারী।"— উক্তিটি সম্পর্কে যৌক্তিক মত দাও।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'রোষারক্ত নয়ন' হলো ক্রোধান্বিত লাল চোখ।
  • খ. বন্দি ব্যক্তিটি আলী ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁর বন্দি হওয়ার সংবাদটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন। বন্দি ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কতিপয় দুষ্টলোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে খলিফা মামুনের কাছে অভিযোগ করেছিল। এ কারণে খলিফার আদেশক্রমে ব্যক্তিটি বন্দি হন। তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে বা পরিবারের কারো সাথে সেসময় তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁরা তাঁর বন্দি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেনি। তাই তিনি বিনীত বাক্যে আলী ইবনে আব্বাসকে তাঁর পরিবারবর্গের কাছে বন্দি হওয়ার সংবাদটি পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন।
    উত্তরের সারবস্তু: বন্দি ব্যক্তিটি আলী ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁর এই বন্দিদশার সংবাদটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন।
  • গ. উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মানুষের উপকার করার বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের বন্দি সম্ভ্রান্ত পরোপকারী ব্যক্তিটি ছিলেন নিতান্ত ভালো মানুষ। তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে না চেনা সত্ত্বেও বিপদে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। এছাড়া তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে বাগদাদে যাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বিদায় বেলায় তাঁকে খাদ্যসামগ্রী এবং স্বর্ণমুদ্রা দিয়েও সাহায্য করেছিলেন। তাঁর উপকারের কারণেই আলী ইবনে আব্বাস নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পেরেছিলেন। উদ্দীপকের বানর একটি পরোপকারী চরিত্র। বাঘকে কাদায় পড়ে থাকতে দেখে সে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়। বাঘও তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তাই বানর বিনা স্বার্থে বাঘকে পাঁক থেকে উদ্ধার করে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি যেভাবে তাঁর সাধ্যমতো আলী ইবনে আব্বাসকে সাহায্য করেছিলেন, একইভাবে উদ্দীপকের বানরও তার সবটুকু দিয়ে বাঘকে সাহায্য করেছে। এক্ষেত্রে উভয়ই পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকারের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পটির সাদৃশ্য রয়েছে।
  • ঘ. আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার করেছিলেন কিন্তু উদ্দীপকের বাঘ মামা উপকারীর উপকার না করে উল্টা তাকে হত্যা করে খেতে চাওয়ায় তাদের দুজনের সম্পূর্ণ বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস যখন তাঁর প্রাণ রক্ষাকারীকে চিনতে পারলেন, তখন তিনি তাঁকে বন্দিদশা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দিতে চাইলেন। কিন্তু সেই বন্দি ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে ফেলে মুক্তি না নিয়ে তাঁর সম্পর্কে খলিফাকে বিস্তারিত বলতে অনুরোধ করলেন। আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনকে ওই ব্যক্তির সম্পর্কে বিস্তারিত বললেন। খলিফাও তাতে সন্তুষ্ট হয়ে ওই মহৎ ব্যক্তিকে মুক্ত করে পুরস্কার দিয়ে বিদায় করলেন। উদ্দীপকে বাঘ মামা পাঁকে পড়ে আটকে গিয়েছিল। তখন সে বানরকে অনুরোধ করে তাকে উদ্ধার করার জন্য। নিরীহ ও পরোপকারী বানর বাঘকে কাদা থেকে মুক্ত করে। কিন্তু পরক্ষণেই বাঘটি উপকারীর উপকার স্বীকার না করে বরং তাকে হত্যা করে খেয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তি। বহুকাল পরেও তিনি উপকারীর উপকার মনে রেখেছেন এবং তাঁকে সাহায্য করার মাধ্যমে উপকারের প্রতিদান দিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকের বাঘ কৃতঘ্ন। উপকার পাওয়ার সাথে সাথে সে উপকারীর উপর আক্রমণ করে তাকে গিলে খেতে চেয়েছে। এক্ষেত্রে উপকারীর সাথে আলী ইবনে আব্বাস এবং বাঘের আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক।
    উত্তরের সারবস্তু: বাঘ মামা উপকারীর অপকার করলেও আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার করায় তারা সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের অধিকারী। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন ৩

তরুতলে বসি পান্থ শ্রান্তি করে দূর,
ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর।
বিদায়ের কালে যাতে ডাল ভেঙে লয়,
তবু তরু অকাতর, কিছু নাহি কয়।
(/সূত্র: তরু, শেখ ফজলুল করিম/)

ক. সিরিয়ার রাজধানী কোথায়?
খ. আলী ইবনে আব্বাস তাঁর স্বদেশে ফেরার মুহূর্তে বিস্মিত হয়েছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব 'প্রত্যুপকার' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেছে কি? মতামত দাও।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক।
  • খ. আলী ইবনে আব্বাস স্বদেশে ফেরার মুহূর্তে আশ্রয়দাতার সুবন্দোবস্ত দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। একমাস দামেস্কে আশ্রিত থাকার পর অবশেষে আলী ইবনে আব্বাস স্বদেশে ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে কোনো অর্থই ছিল না। লজ্জায় তিনি আশ্রয়দাতার কাছে সে কথা বলতেও পারেননি। তবে, স্বদেশে ফেরার দিন তাঁর জন্য একটি উৎকৃষ্ট অশ্ব সুসজ্জিত ছিল। অন্য একটি অশ্বের পিঠে দেওয়া হয়েছিল খাদ্যসামগ্রী। এমনকি যাত্রাপথে খরচের জন্য স্বর্ণমুদ্রা এবং তাঁর সেবার জন্য একজন ভৃত্যেরও ব্যবস্থা করা হয়। এতসব আয়োজন তিনি আশাও করেননি। তাই এমন আয়োজন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার মাধ্যমে প্রাপ্ত অপ্রত্যাশিত সুবন্দোবস্ত দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।
  • গ. উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। খলিফা মামুনের একজন প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। দামেস্কের পদচ্যুত শাসনকর্তার হঠাৎ আক্রমণে ইবনে আব্বাস প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়ে দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত বাড়ির গৃহকর্তার কাছে আশ্রয় পেয়েছিলেন। দীর্ঘ একমাস ইবনে আব্বাস সেই বাড়িতে নিরাপদে ও নির্ভয়ে আশ্রিত ছিলেন। এমনকি আলী ইবনে আব্বাসকে স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থাও তিনি করে দিয়েছিলেন। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে গাছের নিঃস্বার্থ পরোপকারের কথা। গাছ ক্লান্ত পথিকের শ্রান্তি দূর করে এবং ফল দিয়ে আনন্দ দেয় এবং যদিও পথিক বিদায় বেলায় ডাল ভেঙে গাছকে কষ্ট দেয়, তবু গাছ কখনোই কোনো অভিযোগ করে না। 'প্রত্যুপকার' গল্পেও আমরা এমনি নিঃস্বার্থ পরোপকারের ঘটনা লক্ষ করি। অচেনা ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করা, নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া, তাঁকে একমাস নিরাপদে রাখা ও স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা— সবই একজন নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষের কাজ। গাছও সর্বদাই মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করে কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই। সুতরাং, এ থেকেই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
    উত্তরের সারবস্তু: 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাথে উদ্দীপকে পরোপকারিতার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ।
  • ঘ. নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি ছাড়া 'প্রত্যুপকার' গল্পের আর কোনো দিক উদ্দীপকে ফুটে না ওঠায় উদ্দীপকটি গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরতে পারেনি, আংশিক ভাব তুলে ধরেছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পটিতে দুজন মহৎ ব্যক্তির মনুষ্যত্বের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তাদের একজন নিঃস্বার্থ পরোপকারী এবং অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফা মামুনের প্রিয়জন আলী ইবনে আব্বাস প্রাণ রক্ষার জন্য দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন। আশ্রয়দাতার অভয় পেয়ে একমাস নিরাপদে যেখান থেকে স্বদেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীকালে সেই সম্ভ্রান্ত আশ্রয়দাতাকে খলিফার সৈন্যরা বিনা অপরাধে বন্দি করে। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে সুপারিশের মাধ্যমে তাঁর আশ্রয়দাতার প্রাণ রক্ষা করেন, যা দুজন মহৎ ব্যক্তির নিঃস্বার্থ উপকারী ও সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছে। এছাড়াও গল্পে খলিফার বিচক্ষণতা ও মহত্ত্বের পরিচয়ও পাওয়া যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে মানুষের পরম বন্ধু গাছের নিঃস্বার্থ পরোপকারের কথা। গাছ নিজের ছায়ায় মানুষের শ্রান্তি দূর করে। তার সুমিষ্ট ফল খেয়ে মানুষ আনন্দ পায়। যদিও মানুষ অকৃতজ্ঞের মতো বিদায়ের সময় তার ডাল ভাঙে, তবুও তাতে গাছের কোনো অভিযোগ নেই। নিঃস্বার্থ উপকারই তার ধর্ম। 'প্রত্যুপকার' গল্পের এ ধরনের নিঃস্বার্থ পরোপকারের পরিচয় ফুটে উঠেছে দামেস্কের সম্ভ্রান্ত আশ্রয়দাতা ব্যক্তির চরিত্রে। তাঁর এমন মানসিকতার ফলেই আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা হয়েছিল। এমনি নিঃস্বার্থ পরোপকারী বন্ধু গাছের বর্ণনাই উদ্দীপকে পাওয়া যায়। কিন্তু গল্পে এছাড়াও ফুটে উঠেছে আলী ইবনে আব্বাসের সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকারের ঘটনা। খলিফা মামুনও সঠিক বিচারের মাধ্যমে তাঁর মহৎ ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন গল্পে। সেক্ষেত্রে, উদ্দীপকে আমরা কেবল নিঃস্বার্থ পরোপকারের বিষয়টি ছাড়া আলোচ্য গল্পের আর কোনো দিক দেখতে পাই না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব 'প্রত্যুপকার' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরতে পারেনি, আংশিক ভাব তুলে ধরেছে।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকারের দিকটি ছাড়া উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আর কোনো ভাবের মিল নেই।

প্রশ্ন ৪

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল;
গাভি কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান。
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত。
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে。
(/সূত্র: পরোপকার, রজনীকান্ত সেন/)

ক. 'প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে' অর্থ কী?
খ. 'তাহা কখনও হইবে না'— কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের যে দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাদৃশ্য পূর্ণ দিকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের যে চরিত্রসমূহে বিদ্যমান তা বিশ্লেষণ করো।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে' অর্থ বন্ধুত্বের অনুভূতিতে আনন্দিত চোখে।
  • খ. বিপদ থেকে রক্ষা করা ব্যক্তিকে পুনরায় বিপদে ফেলে নিজে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে না চাওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই দামেস্কাসের আশ্রয়দানকারী ব্যক্তি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস যখন জানতে পারলেন যে, খলিফার কাছে অভিযুক্ত এবং তাঁর জিম্মায় থাকা লোকটিই অনেক বছর আগে তাঁকে চরম বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রত্যুপকারের সিদ্ধান্ত নেন। ডেমাস্কাস নিবাসী লোকটিকে খলিফার কোপ থেকে রক্ষা করতে চাইলেন। এজন্য নির্বিঘ্নে তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বললেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি আরেকজনের জীবন বিপন্ন করে নিজে বাঁচতে চান না বলেই বলেছেন, 'তাহা কখনও হইবে না'।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকারী, নিঃস্বার্থবান ব্যক্তিটি যে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েও অন্যজনের জীবন বিপন্ন করে তা গ্রহণ করতে চাননি— প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দিয়ে সেটিই বোঝানো হয়েছে।
  • গ. পরোপকারের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য বিদ্যমান। 'প্রত্যুপকার' গল্পে পরোপকারের একাধিক দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস এবং ডেমাস্কাসের জনৈক ব্যক্তির পারস্পরিক উপকৃত হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একদা আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কে গিয়ে বড়ো ধরনের বিপদে পড়লে উক্ত দামেস্ক নিবাসী তাঁকে আশ্রয় দেন। পক্ষান্তরে উক্ত ব্যক্তি বাগদাদে খলিফার দরবারে অভিযুক্ত হয়ে বন্দি হলে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে মুক্ত করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশটি পরোপকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কবি দেখিয়েছেন যে, নদী, গাভি, স্বর্ণ, মেঘ, কাঠ, বাঁশি— যেসব কাজ করে সেসব মূলত অন্যের উপকারের জন্যই করে; নিজের জন্য নয়। অর্থাৎ পরোপকারিতাই এদের প্রধান লক্ষ্য। তেমনিভাবে 'প্রত্যুপকার' গল্পেও আলী ইবনে আব্বাস এবং ডেমাস্কাস নিবাসী লোকটির মাঝে পরোপকারিতার গুণ লক্ষ করা যায়।
    উত্তরের সারবস্তু: নিঃস্বার্থভাবে পরের উপকারের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
  • ঘ. উদ্দীপকের নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করার দিকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস ও ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত লোকটির মাঝে বিদ্যমান। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস একদা ডেমাস্কাসে গিয়ে বড়ো ধরনের বিপদে পড়লে সেখানকার এক সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন এবং নিরাপদে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তী সময়ে সেই লোক খলিফার কোপে পতিত হলে আলী ইবনে আব্বাস তাঁর পরিচয় পেয়ে তাঁকে রক্ষা করে প্রত্যুপকার করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে পরোপকারের অনেকগুলো উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। নদী, গাছ, গাভি, কাঠ, স্বর্ণ, বাঁশি, জলধর ইত্যাদির উদাহরণ তুলে ধরে কবি এসবের পরোপকারিতার দিকটি তুলে ধরেছেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পেও আলী ইবনে আব্বাস এবং ডেমাস্কাস নিবাসী ব্যক্তিটি পরস্পরের বিপদে উপকার করেছেন। তাই দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের নদী, গাছ, গাভি, কাঠ প্রভৃতি যেভাবে পরোপকারে ব্রতী, তেমনি আলোচ্য গল্পে আলী ইবনে আব্বাস এবং ডেমাস্কাসের অধিবাসী ব্যক্তিটিও একইরকম আদর্শের পরিচয় দিয়েছেন। অন্যের উপকারের দৃষ্টান্ত উদ্দীপক এবং আলোচ্য গল্পের সর্বত্রই বিস্তৃত। এসব বিবেচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ও ডেমাস্কাসের লোক উভয়ের মাঝেই বিদ্যমান।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের মধ্যে নিঃস্বার্থভাবে পরের উপকার করার যে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি রয়েছে তা আলী ইবনে আব্বাস ও ডেমাস্কাসের লোক উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান।

প্রশ্ন ৫

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর。
যে মোরে করিল পথের বিবাগী
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর。
(/সূত্র: প্রতিদান, জসীমউদ্‌দীন/)

ক. 'প্রত্যুপকার' গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. 'তাহার এই কথা শুনিয়া, আমি চমকিয়া উঠিলাম'— উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. কোন দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. "উদ্দীপকটির মূলভাব 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাবের থেকে ভিন্ন।"— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'প্রত্যুপকার' গল্পটি 'আখ্যানমঞ্জরী' গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগ থেকে সংকলিত হয়েছে।
  • খ. খলিফা কর্তৃক বন্দি ব্যক্তিই যে আলী ইবনে আব্বাসকে ডেমাস্কাসে উপকার করা ব্যক্তি তা জানতে পেরে আলী ইবনে আব্বাস চমকে উঠেছিলেন। একদিন খলিফা মামুন একজন বন্দিকে এক রাতের জন্য আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে আটকে রাখতে বলেন। বন্দির সাথে কথা বলতে বলতে আলী ইবনে আব্বাস আবিষ্কার করেন যে, এই ব্যক্তিই একসময় তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন এবং সাধ্যমতো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। সেই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পেয়েই তিনি চমকে উঠে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
    উত্তরের সারবস্তু: দামেস্কে যে ব্যক্তি একদিন তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন সেই পরোপকারী মহান দয়ালু ব্যক্তিটি স্বয়ং আজ তাঁর ঘরে উপস্থিত রয়েছে, এ কথা জানতে পেরেই আলী ইবনে আব্বাস চমকে উঠলেন।
  • গ. নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে খলিফা মামুনের বন্দি একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। এককালে, আলী ইবনে আব্বাসের জীবন রক্ষা করেছিলেন। শত্রুরা আক্রমণ করলে আলী ইবনে আব্বাস ব্যক্তিটির বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানে এক মাস অবস্থান করেন। ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বিনাস্বার্থে সম্পূর্ণ অচেনা-অজানা আলী ইবনে আব্বাসকে সব রকমভাবে সহায়তা করেন। এমনকি শত্রুরা জানতে করলে তাঁর প্রাণনাশ হতে পারে জেনেও তিনি উপকার করা থেকে পিছপা হননি। উদ্দীপকের কবিতাংশে অন্যের উপকার করার বিষয়টি ব্যক্ত হয়েছে। কবি তাঁর উপকারী-অপকারী নির্বিশেষে সবার উপকার করতে চান। এমনকি যে কবির ঘর ভেঙেছে, যে কবিকে পথের বিবাগী করেছে, যে তাঁর নিদ্রা হরণ করেছে, কবি তারও উপকার করতে চান। কবির এই উপকার নিঃস্বার্থ উপকার। 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যেভাবে অচেনা-অজানা আলী ইবনে আব্বাসকে সাহায্য করেছিলেন, উদ্দীপকের কবিও সেভাবে অন্যকে বিনা স্বার্থে সাহায্য করার কথা বলেছেন। এমনকি যে ব্যক্তি তার ক্ষতি করেছে, কবি তাকেও সাহায্য করতে চান। তাই নিঃস্বার্থভাবে উপকারের মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
    উত্তরের সারবস্তু: নিঃস্বার্থভাবে পরোপকারের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
  • ঘ. 'প্রত্যুপকার' গল্পে উপকারীর উপকার করার কথা বলা হলেও উদ্দীপকে অপকারীর উপকার করার কথা বলা হয়েছে বিধায় দুইয়ের মূলভাব ভিন্ন। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার করার মাধ্যমে উপকারের প্রতিদান দিয়েছেন। বন্দি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি একদা আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। তাই আলী ইবনে আব্বাসও উপকারের সুযোগ পেয়ে খলিফা মামুনের শাস্তি থেকে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করে উপকারের যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকে কবি অপকারীর উপকার করতে চেয়েছেন। যার কারণে কবির ক্ষতি হয়েছে, কবি তার ক্ষতি না করে উলটা উপকার করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। যে কবির ঘর ভেঙেছে, কবি তার ঘর গড়ে দিতে চান। এছাড়া আরও নানান উপায়ে তিনি অপকারীর উপকার করার মাধ্যমে ব্যতিক্রমী প্রতিদান দিতে চেয়েছেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূল বিষয় হলো অন্যের উপকার করা, উপকারীর উপকার করার চেষ্টা করা এবং সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকা। অন্যদিকে, উদ্দীপকের মূল বিষয় হলো ক্ষতি করা সত্ত্বেও কারোর প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া এবং উলটা তার উপকার করার মাধ্যমে মহানুভবতার পরিচয় দেওয়া। অর্থাৎ, উভয় ক্ষেত্রে উপকারের বিষয়টি থাকলেও উভয়ের মূলভাব ও এর মাধ্যমে প্রদত্ত বার্তাটি ভিন্ন। তাই উক্ত মন্তব্যটিকে আমি যথার্থ বলে মনে করি।
    উত্তরের সারবস্তু: যারা অপকার করে তাঁদের উপকার করতে চাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাবের ভিন্নতা রয়েছে; কেননা, গল্পে নিঃস্বার্থভাবে পরোপকারের ঘটনা থাকলেও উদ্দীপকের মতো অপকারীর উপকার করার মতো কোনো ঘটনা নেই।

প্রশ্ন ৬

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় গতকাল ধামাহার গ্রামে হাবিবুর রহমানের মতো আড়াইশ অসহায় ও শীতার্ত নারী-পুরুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতের কষ্টের মধ্যে কম্বল উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। শীতে কাঁপতে কাঁপতে হাবিবুর বলেন, 'বয়স হয়ে গেছে, কাজকর্ম করতে পারি না। ঠান্ডার কাপড় কিনার টাকা কই?' খুব উপকার হলো কম্বলটা পেয়ে।'
(/সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪/)

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাস প্রস্থান দিবসে বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপকের হাবিবুর ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মাঝে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও তারা হুবহু একই রকম নয়।"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • খ. 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের ডেমাস্কাসের আশ্রয়দাতা তাঁর বাগদাদ ফিরে যাওয়ার জন্য নানা রকম উদ্যোগ আগে থেকেই গ্রহণ করে রেখেছিলেন দেখে তিনি প্রস্থান দিবসে বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস নামে এক লোক একদা ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে বিপদে পড়ে জনৈক সহৃদয় ব্যক্তির কাছে আশ্রিত হন। তাঁর আশ্রয়দাতা পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাগদাদগামী কাফেলার সাথে ঘোড়া, বিভিন্ন উপহার ও নগদ অর্থসহ বিদায় জানাতে আসলে এসব আয়োজন দেখে তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়ে যান। সেদিনের সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি তাঁর বিস্ময়াপন্নতার কথা বলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের বাগদাদে ফিরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি আশ্রয়দাতা গ্রহণ করে রাখায় প্রস্থানদিবসে তিনি বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন।
  • গ. উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের বিপদাপন্ন মানুষের উপকার করার দিকটি ফুটে উঠেছে। আলী ইবনে আব্বাস নামে এক ব্যক্তি ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে চরম বিপদে পড়ে এখানকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সে ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। আলী ইবনে আব্বাস প্রায় এক মাস তাঁর বাড়িতে অবস্থান করেন। পরোপকারের এ ধরনের দৃষ্টান্ত উদ্দীপকে উঠে এসেছে। উদ্দীপকে প্রথম আলো ট্রাস্ট ও বন্ধুসভার প্রচেষ্টায় শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র এসব মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা পরোপকারে ব্রত হয়েছেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পে বিদেশি-বিভূঁইয়ে বিপদাপন্ন আলী ইবনে আব্বাসকে সহায়তা ও আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ডেমাস্কাসের লোকটিও ঠিক একইরকম কাজ করেছেন।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের পরোপকারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
  • ঘ. উপকারীর উপকার স্বীকার করার দিক থেকে হাবিবুর ও আলী ইবনে আব্বাসের মিল থাকলেও প্রত্যুপকার করার দিক থেকে দুজনের মাঝে ভিন্নতা থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে উপকারীর উপকার স্বীকার করার পাশাপাশি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রত্যুপকার করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে চরম বিপদে পড়লে সেখানকার একজন সম্ভ্রান্ত লোক তাঁকে বিপদ থেকে বাঁচাতে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরবর্তী সময়ে সেই লোক খলিফার রোষে পড়ে বাগদাদে বন্দি হয়ে এলে তাঁর পরিচয় পেয়ে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে খলিফার রোষানল থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকে শীতার্ত দরিদ্র মানুষ হাবিবুর শীতবস্ত্র উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিজের আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক দুরবস্থার কথা বলে শীতবস্ত্র প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন যে, অত্যন্ত উপকার হয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের মাঝেও এ বিষয়টি দেখা যায়। তিনিও ডেমাস্কাস শহরে পাওয়া উপকারের সম্পর্কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকের হাবিবুর এবং 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস উভয়েই উপকারীর উপকার স্বীকার করে কৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে আলী ইবনে আব্বাস সুযোগ পেয়ে তাঁর উপকারী ব্যক্তিকে খলিফার রোষে পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করে প্রত্যুপকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও হাবিবুর তেমন কিছু করতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের হাবিবুর ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মাঝে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও তারা হুবহু একই রকম নন।
    উত্তরের সারবস্তু: অন্যের উপকার গ্রহণের দিক থেকে উদ্দীপকের হাবিবুর ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও প্রত্যুপকারের দিক থেকে তাদের কোনো মিল নেই। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন ৭

বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন। তিনি শুধু দানবীরই ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানুষের প্রতি মায়ামমতার এক মূর্ত প্রতীক। মুসলমানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে তিনি ১৮০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর 'মহসিন ফান্ড' নামক সংস্থায় তাঁর সর্বস্ব দান করেছিলেন। দান ও মহানুভবতার জন্য তাঁর অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ক. 'কোপানল' শব্দের অর্থ কী?
খ. বিদায়কালে খলিফা বন্দির সাথে কী পাঠিয়েছিলেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে হাজী মুহাম্মদ মহসিনের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রের বিদ্যমান বৈসাদৃশ্যসমূহ তুলে ধরো।
ঘ. "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্পে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের উপকার করার চিত্রই আমরা দেখতে পাই।"— মন্তব্যটির সম্পর্কে তোমার মতামত তুলে ধরো।

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'কোপানল' শব্দের অর্থ ক্রোধ বা রাগের আগুন।
  • খ. বিদায়কালে খলিফা বন্দির সাথে অর্থসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। নীচপ্রকৃতির পরহিংসুক লোকদের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতাকে বন্দি করা হলে খলিফা পরবর্তী সময় সঠিক তথ্য জানতে পারেন এবং তাঁকে প্রাণদণ্ড থেকে মুক্তি দেন। এছাড়াও তিনি তাঁকে মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশটি অশ্ব ও দশটি খচ্চর, দশটি উষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি তাঁকে দামেস্কের রাজপ্রতিনিধির নামে অনুরোধপত্র ও পাথেয়স্বরূপ বহুসংখ্যক অর্থ দিয়ে বিদায় করেছিলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: বিদায়কালে খলিফা বন্দির সাথে অর্থসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন।
  • গ. দানশীলতা, সমাজসংস্কার ও সুশিক্ষার ব্যবস্থা করার দিক থেকে উদ্দীপকের হাজী মুহাম্মদ মহসিনের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন নিতান্ত ভালো মানুষ এবং কৃতজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র। ডেমাস্কাসে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন বলে তিনি খলিফার প্রাণদণ্ড থেকে সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করে প্রত্যুপকার করেছিলেন। গল্পে আলী ইবনে আব্বাসকে একজন কৃতজ্ঞ, পরোপকারী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দীপকে হাজী মুহাম্মদ মহসিনের দানশীলতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন দানবীর ও মায়ামমতার মূর্ত প্রতীক। তিনি সমাজসংস্কারের সাথে যুক্ত ছিলেন। মুসলমানদের উচ্চশিক্ষার জন্য এবং তাদের সুশিক্ষিত করতে তিনি 'মহসিন ফান্ড' নামক সংস্থায় তাঁর সর্বস্ব দান করেছিলেন। তাঁর চরিত্রে দয়াশীলতা, মহানুভবতা ও দানশীলতার মতো গুণাবলি প্রকাশ পেয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন কৃতজ্ঞ ও পরোপকারী ব্যক্তি হলেও তিনি দান, সমাজসংস্কার ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে জড়িত ছিলেন না। হাজী মুহাম্মদ মহসিনের মতো তিনি তাঁর সবকিছু সমাজসেবার স্বার্থে দান করে দেননি। তিনি উপকারীর উপকার করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আবার, উদ্দীপকে হাজী মুহাম্মদ মহসিনের মধ্যে আলী ইবনে আব্বাসের মতো কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। তাই এসব দিক থেকে উভয় চরিত্রের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
    উত্তরের সারবস্তু: দানশীলতা, সমাজসংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারের দিক থেকে উদ্দীপকের হাজী মুহাম্মদ মহসিনের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
  • ঘ. উদ্দীপকের হাজী মুহাম্মদ মহসিন এবং 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও আলী ইবনে আব্বাস নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার ও কল্যাণ করায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ হয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের বন্দি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি নিজে বিপদে পড়তে পারেন জেনেও আলী ইবনে আব্বাসকে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এর বহু বছর পরে সেই ব্যক্তি খলিফা কর্তৃক বন্দি হলে আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে বক্তব্য রাখেন এবং খলিফাকে বুঝিয়ে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করেন। এখানে তাঁরা দুজনই নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে একে অপরকে সাহায্য করেছেন। উদ্দীপকে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের দানশীলতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি মুসলমানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ১৮০৬ সালে 'মহসিন ফান্ড' নামক সংস্থায় তাঁর সর্বস্ব দান করেছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি পয়সাও সঞ্চয় করে রাখেননি। নিজের সমুদয় সম্পদ মানুষের উপকার ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছিলেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও আলী ইবনে আব্বাস যেমন নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে অন্যের উপকার করেছিলেন, উদ্দীপকের হাজী মুহাম্মদ মহসিনও একইভাবে নিজের যাবতীয় সব স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সমাজের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। উভয় ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং উপকারের ধরন ভিন্ন হলেও নিজেদের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্যের উপকার করার চেতনাটি অভিন্ন। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রে আমরা নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের উপকার করার চিত্রই দেখতে পাই। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন ৮

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও。
পরের কারণে মরণেও সুখ,
'সুখ-সুখ' করি কেঁদো না আর;
যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে,
ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার。
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে。
(/সূত্র: কামিনী রায়/)

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিশুপাঠ্য বইয়ের নাম কী?
খ. 'আপনি কৃপা করিয়া আমার প্রাণ রক্ষা করুন।'— আলী ইবনে আব্বাসের এ কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. 'প্রত্যুপকার' এবং উদ্দীপকের মধ্যে যে ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে তার বর্ণনা দাও।
ঘ. "'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস যেন উদ্দীপকের 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী পরে'— চরণ দুইটিরই প্রতিনিধি।"— এই মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিশুপাঠ্য বইয়ের নাম হলো 'বর্ণপরিচয়'।
  • খ. প্রশ্নোক্ত কথাটি আলী ইবনে আব্বাস প্রাণনাশের আশঙ্কায় জনৈক ব্যক্তির কাছে বলেছিলেন। দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হলে নতুন শাসনকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর সাহচর্যে যান। কিন্তু পদচ্যুত শাসনকর্তা পথিমধ্যে তাঁদের উপর আক্রমণ করলে আলী ইবনে আব্বাস প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং সেখানকার স্থানীয় এক লোকের বাড়িতে আশ্রয় প্রার্থনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাস শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রাণভয়ে উক্ত কথাটি বলেছিলেন।
  • গ. 'প্রত্যুপকার' এবং উদ্দীপক উভয়ের মধ্যে যে ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে সেটি হলো পরোপকার। 'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায় খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হন। নতুন শাসকের সাহচর্যে উপস্থিত হন খলিফার প্রিয় পাত্র আলী ইবনে আব্বাস। সেসময় তাঁদের উপর পদচ্যুত শাসক আক্রমণ করলে আলী ইবনে আব্বাস স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয়লাভ করেন। আশ্রয়দাতার বাড়িতে তিনি একমাস অবস্থান করেন এবং তাঁরই সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বাগদাদে পৌঁছাতে সক্ষম হন। উদ্দীপকের কবিতায় মানুষকে স্বার্থপরতা ত্যাগ করে পরার্থপর হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। জীবনের প্রকৃত সুখ নিহিত আছে মানবসেবায়, ত্যাগে ও অন্যের জন্য কাজ করার মধ্যে। কারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সেবার মনোভাবই পারে সমাজকে সুপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা তাঁর ব্যক্তিজীবনে এই আদর্শকেই ধারণ করেছেন। তিনি প্রতিদানের আশায় নয় বরং পরোপকারের উদ্দেশ্যে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। অতএব আমরা বলতে পারি, 'প্রত্যুপকার' এবং উদ্দীপক উভয়ের মধ্যেই পরোপকারের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
    উত্তরের সারবস্তু: 'প্রত্যুপকার' গল্প ও উদ্দীপক উভয় জায়গাতেই পরোপকারের মহান দৃষ্টান্তের প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়।
  • ঘ. প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ কেননা মানবজীবনের সার্থকতা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নয় বরং অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ায়। 'প্রত্যুপকার' গল্পে দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। সেখানে একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হন। খলিফার প্রিয়পাত্র আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসনকর্তা কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে আব্বাসের প্রাণরক্ষাকারী ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আলী ইবনে আব্বাস এ সময় তাঁর পরিচয় জানতে পেরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। প্রশ্নোক্ত উদ্দীপকের চরণ দুটিতে বলা হয়েছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য কেউই পৃথিবীতে আসেনি। মানুষের উচিত নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে অপরের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। উদ্দীপকের মূল কথায় এই সুরেই বলা হয়েছে যে, প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে পরের কল্যাণ করার মধ্যে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে উপকারীর উপকার করা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার দিকটি রয়েছে। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী ব্যক্তির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেন। তিনি চাইলে তাঁর আশ্রয়দাতাকে না চেনার ভান করতে পারতেন কিন্তু সেটা না করে নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রশ্নোক্ত চরণেও ঠিক এরকমই অন্যের জন্য এগিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, আলী ইবনে আব্বাস 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী পরে'— মন্তব্যটিরই যথার্থ প্রতিনিধি।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাস মৃত্যুর হাত হতে যার মাধ্যমে রক্ষা পায় তাঁকেই পরবর্তী সময়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুদণ্ড হতে রক্ষা করায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।

প্রশ্ন ৯

আব্দুর রশিদ একজন মাছ বিক্রেতা। মাছ বিক্রি করে যে আয় হয় তাতেই তার সংসারের খরচ চলে। আব্দুর রশিদের পাশের বাড়িতেই থাকেন একজন দরিদ্র বৃদ্ধা। বৃদ্ধার আপন বলতে আছে এক ছেলে। ছেলে শহরে চাকরি করে। বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে সেখানেই থাকে। মায়ের খোঁজ রাখে না। গ্রামের কেউ তার মায়ের হয়ে কথা বললে সে না শোনার ভান করে। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের নিজের অর্থ কম থাকলেও তিনি বৃদ্ধার খোঁজ নেন। কখনো তাঁর বাড়ি থেকে খাবার পাঠান বৃদ্ধার জন্য। রশিদের ধারণা কোনো ভালো কাজই বৃথা যায় না।

ক. 'প্রতীতি' শব্দের অর্থ কী?
খ. "কিন্তু তৎকালে কিছু না বলিয়া মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন"— আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা কেন মৌনাবলম্বন করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের বুড়ির ছেলের সাথে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বৈসাদৃশ্য বর্ণনা দাও।
ঘ. 'প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের রশিদ এবং আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চিন্তা-চেতনা একই রকম।'— উদ্দীপক এবং 'প্রত্যুপকার' গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'প্রতীতি' শব্দের অর্থ বিশ্বাস বা ধারণা।
  • খ. আলী ইবনে আব্বাসের বাগদাদ পৌঁছানোর সমস্ত আয়োজন আগে থেকেই করে রাখার কারণে আশ্রয়দাতা তৎকালে কিছু না বলে মৌনাবলম্বন করেছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের পদচ্যুত শাসকের সৈন্যদল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হলে প্রাণভয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু বাগদাদে ফিরে যাওয়ার মতো অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। তাই তিনি লজ্জায় চুপ করে রইলেন। আশ্রয়দাতা বিষয়টি বুঝতে পারলেও তখন কিছু না বলে মৌনাবলম্বন করেছিলেন। কেননা, তিনি আগে থেকেই আলী ইবনে আব্বাসের যাওয়ার জন্য সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করে রেখেছিলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা বোঝার পরেও মৌনাবলম্বন করেছিলেন।
  • গ. উপকৃতের কাছ থেকে উপকার ফিরে পাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের রশিদের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একদিন দামেস্কের সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তির আশ্রয় লাভ করে জীবন বাঁচান। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফার সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহে তাকে বন্দি করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে উপকারীর উপকারের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। উদ্দীপকে আব্দুর রশিদ একজন স্বল্প আয়ের মানুষ। তার বাড়ির পাশেই থাকেন দরিদ্র এক বৃদ্ধা। বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে তাঁর কোনো খোঁজখবর রাখেন না। রশিদের অর্থ কম থাকলেও তিনি বৃদ্ধার খোঁজ নেন, খাবার পাঠান। উদ্দীপকের রশিদ বৃদ্ধার উপকার করার বিনিময়ে কোনো প্রকার উপকার গ্রহণ করার সুযোগ পাননি। বৃদ্ধাও রশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিছু করতে পারেননি। অন্যদিকে, 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস যেমন তাঁর আশ্রয়দাতার কাছ থেকে উপকার গ্রহণ করেছেন তেমনি তার বিনিময়ে আশ্রয়দাতার প্রাণও রক্ষা করেছেন। এদিক থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের রশিদের সাথে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
    উত্তরের সারবস্তু: উপকৃতের কাছ থেকে উপকার ফিরে পাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের আব্দুর রশিদের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
  • ঘ. 'প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের আব্দুর রশিদ এবং আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চিন্তা-চেতনা একই রকম।'— মন্তব্যটি সঠিক কেননা তারা দুইজনেই নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্যের কল্যাণ চিন্তা করেছেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পে এমন দুইজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে যেখানে একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। একইসাথে গল্পে খলিফা মামুনের মহত্ত্বও প্রকাশিত হয়েছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক ব্যক্তি তৎকালীন দামেস্কের পদচ্যুত শাসক দ্বারা আক্রমণের শিকার হলে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয়লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। আশ্রয়দাতার বাড়িতে একমাসে নির্ভয়ে ও নিরাপদে অবস্থানের পরে, আশ্রয়দাতার সহযোগিতায় আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদে পৌঁছান। উদ্দীপকের আব্দুর রশিদ একজন মাছ বিক্রেতা। তিনি যা আয় করেন তাতেই কোনোভাবে তার সংসার চলে। আব্দুর রশিদের বাড়ির পাশেই একজন দরিদ্র বৃদ্ধা থাকেন। শহরে বৃদ্ধার ছেলে আছে, সে মায়ের কোনো খোঁজখবর রাখে না, অন্যদিকে প্রতিবেশী হয়েও আব্দুর রশিদ সবসময় বৃদ্ধার খোঁজখবর নেন, প্রয়োজনীয় সাহায্য করেন। তিনি মনে করেন মানুষের কল্যাণ করার জন্য ইচ্ছাই যথেষ্ট। মানবকল্যাণের জন্য প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি এবং সুন্দর একটি মন। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা নিজের কথা চিন্তা না করে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। তিনি কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশায় নয় বরং নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করেছিলেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকের আব্দুর রশিদের আয় কম হলেও তিনি বাড়ির পাশের বৃদ্ধাকে সবসময় সাহায্য-সহযোগিতা করেন এবং তাঁর খোঁজখবর নেন। কোনোপ্রকার প্রতিদান পাওয়ার আশায় নয় বরং মানবকল্যাণের জন্যই তিনি তা করেন। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের আব্দুর রশিদ এবং আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চিন্তা-চেতনা একইরকম।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের রশিদ ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা উভয়ই নিঃস্বার্থভাবে অন্যের কল্যাণ চিন্তা করেছেন।

প্রশ্ন ১০

দিলীপ কুমার দাসের বাড়ি আনোয়ারোয়া উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের কাসখামা গ্রামে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার তিনি নিজের গাড়িতে করে খাসখামা, গুজরা ও উত্তর ইছাখালীর গরিব রোগীদের বিনা ভাড়ায় আনোয়ারোয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা-নেওয়া করেন। তাছাড়া রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নিয়ে যান। কেন এ রকম করেন তা জানতে চাইলে বলেন, 'মনের কষ্ট দূর করতেই এটি করি, আর বুধবার একজন রোগীও নিতে না পারলে খুব খারাপ লাগে।'

ক. খলিফা মামুনের পূর্ণ নাম কী?
খ. আলী ইবনে আব্বাস কেন বন্দির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের দিলীপ কুমারের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বর্ণনা করো।
ঘ. "উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।"— মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. খলিফা মামুনের পূর্ণনাম আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুন।
  • খ. উপকারের প্রতিদান দিতে আলী ইবনে আব্বাস বন্দির মুক্তির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেছিলেন। খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। একদিন তিনি বিপদে পড়ে দামেস্কের একজন ব্যক্তির কাছে আশ্রয় লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তাঁর আশ্রয়দাতা খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আলী ইবনে আব্বাস এ সময় বন্দির আসল পরিচয় জানতে পারলে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপকারীর উপকার করার জন্য খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের কাছে থাকা বন্দি ব্যক্তি এক সময়ে তাঁকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই তিনিও খলিফার কাছে উক্ত বন্দির মুক্তির সুপারিশ করেছিলেন।
  • গ. উদ্দীপকের দিলীপ কুমারের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার পরোপকার করার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও দিলীপ কুমারের মনের কষ্ট দূর করার অভিপ্রায়ের সাথে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার নিঃস্বার্থপরতার বিষয়টি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস নামক ব্যক্তি খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হন, পদচ্যুত শাসক আলী ইবনে আব্বাসের উপর আক্রমণ করলে তিনি প্রাণভয়ে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয়লাভ করেন। আলী ইবনে আব্বাস উক্ত আশ্রয়দাতার বাড়িতে নির্ভয়ে ও নিরাপদে একমাস থাকার পর তারই সহযোগিতায় বাগদাদে ফিরে আসেন। উদ্দীপকে দিলীপ কুমার নামের এক ব্যক্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বিনা ভাড়ায় তিনি রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা-নেওয়া করেন। কেন এমনটি করেন তা জানতে চাইলে বলেন মনের কষ্ট দূর করতে তিনি এটা করেন। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চরিত্রের সাথে তাঁর এ আচরণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা, তাঁর আশ্রয়দাতা প্রকৃত অর্থে মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যেই তাঁকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছিলেন কোনো প্রতিদান পাওয়ার আশায় নয়।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকারী মনোভাবের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও প্রতিদানের বিষয়ে উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
  • ঘ. উদ্দীপকে শুধু পরোপকারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু 'প্রত্যুপকার' গল্পে পরোপকারের পাশাপাশি সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারীর দিকটিও প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হন। তখন আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসকের আক্রমণের শিকার হলে স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট আশ্রয় লাভ করে প্রাণ রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে সেই আশ্রয়দাতা খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আসল পরিচয় জানতে পারেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। ফলে আশ্রয়দাতার প্রাণ রক্ষা পায়। উদ্দীপকে দেখা যায় দিলীপ কুমার দাস একজন গাড়িচালক। তিনি প্রতি বুধবার গরিব রোগীদের বিনা ভাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা-নেওয়া করেন। কেন এ রকম করেন তা জানতে চাইলে দিলীপ বলেন মনের কষ্ট দূর করতেই এ রকম করেন। এখানে শুধু দিলীপের উপকারের দিকটি প্রকাশ পায় কিন্তু উপকারীর উপকার করার বিষয়টি প্রকাশ পায় না, তাই এটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে না। প্রতিদানের আশায় মানবকল্যাণ করলে তার মধ্যে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে না। মানুষের কল্যাণ করা উচিত নিঃস্বার্থভাবে, কোনো প্রতিদানের আশায় নয়। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আশ্রয়দাতা চরিত্রের মধ্যে সেটি বিদ্যমান। অপরদিকে, উদ্দীপকের দিলীপ শুধু উপকারই করেছেন কিন্তু আলী ইবনে আব্বাসের মতো প্রত্যুপকারীর সদৃশ কোনো ঘটনা তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেনি। সুতরাং উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
    উত্তরের সারবস্তু: শুধু পরোপকারের দিকটি উদ্দীপকের সাথে মিল থাকলেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার প্রতিদানের বিষয়টি উদ্দীপকে না থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ১১

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নৈতিক সমর্থন জানানো অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণকে সহায়তার জন্য উদ্যোগটি নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনিই প্রথম কথা বলেন পপ সংগীতের সুপরিচিত ব্যান্ড বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে এবং তিনি সম্মত হওয়ার পরে নিজেই যোগাযোগ করেন আরও শিল্পীদের সাথে। এরপর রচিত হয়েছে একটি ইতিহাস। ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরনের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনো দেখেনি। আর জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

ক. 'বর্ণপরিচয়' কোন ধরনের গ্রন্থ?
খ. 'না না, আপনি এক মুহূর্তের জন্যও প্রাণনাশের আশঙ্কা করিবেন না।'— প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশি শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন দিকটির কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'মানুষের উপকার করেই মানুষ ইতিহাসে অমর হতে পারে।'— উদ্দীপক এবং 'প্রত্যুপকার' গল্পের বিষয়বস্তু বিবেচনায় নিয়ে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. 'বর্ণপরিচয়' শিশুদের জন্য প্রণীত পাঠ্যবই।
  • খ. আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী ব্যক্তিকে প্রাণদণ্ডের আশঙ্কা থেকে মুক্ত করতে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন। খলিফা মামুন এক রাতের জন্য তাঁর একজন বন্দিকে আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় রাখেন। বন্দি ব্যক্তির সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন যে, এই ব্যক্তিই একদিন তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। অথচ খলিফা মামুন সেই সহৃদয় ও পরোপকারী ব্যক্তিকেই মিথ্যা অভিযোগের কারণে প্রাণদণ্ড দিতে চলেছেন। তাই আলী ইবনে আব্বাস তখন ওই ব্যক্তিকে মুক্ত করে দিতে চান এবং তাঁকে প্রাণনাশের আশঙ্কামুক্ত থাকার জন্য প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী আশ্রয়দাতাকে অভয় প্রদানে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন।
  • গ. উদ্দীপকে ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশি শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি কর্তৃক আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে সাহায্য করার দিকটির কথাই মনে করিয়ে দেয়। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একবার ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদলের আক্রমণের শিকার হন। তখন তিনি প্রাণভয়ে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই ব্যক্তি তাঁর প্রাণরক্ষার পাশাপাশি একমাস তাঁকে নিজের বাড়িতে রাখা এবং নিরাপদে বাগদাদে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেন। ওই ব্যক্তির সাহায্যের জন্যই আলী ইবনে আব্বাস প্রাণে বাঁচেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিউইয়র্কে আয়োজিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর কথা বলা হয়েছে। সেসময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টার পাশাপাশি বাংলাদেশকে সমর্থন জানানো এবং এ দেশের জনগণকে সাহায্য করার জন্য এই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন রবি শঙ্কর। তিনি জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের সাথে যোগাযোগ করে এ কনসার্টের আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পায় এবং আর্থিক অনুদানও লাভ করে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যেমন বিনা স্বার্থে আলী ইবনে আব্বাসকে সাহায্য করেছিলেন, উদ্দীপকের পণ্ডিত রবি শঙ্কর ঠিক তেমনিভাবেই ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশি শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে উভয় ঘটনাই পরোপকার ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের পরোপকারের দিকটির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
    উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি আলী ইবনে আব্বাসের তাঁর আশ্রয়দাতার পরোপকারী মনোভাবের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
  • ঘ. 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত পরোপকারী ব্যক্তি, উদ্দীপকের রবি শঙ্কর ও অন্যান্য শিল্পীরা সবাই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে উপকার করার মধ্য দিয়ে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন বিধায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক। 'প্রত্যুপকার' গল্পের বন্দি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি একদিন আলী ইবনে আব্বাসের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস কখনো তাঁর এ উপকারের কথা ভুলেননি, তাই তো সেই ব্যক্তি যখন খলিফা মামুনের বন্দি হিসেবে তাঁর কাছে এলেন, তখন তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করে খলিফাকে বুঝিয়ে ওই পরোপকারী বন্দির প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। এক্ষেত্রে একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। নিঃস্বার্থ উপকারই ওই উপকারী ব্যক্তিকে সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী ব্যক্তির মনে অমর করে রেখেছিল। উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সহায়তার জন্য কনসার্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবি শঙ্কর। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে আয়োজিত এ কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন জর্জ হ্যারিসন ও বব ডিলানের মতো বিখ্যাত তারকারা। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ শরণার্থীদের কাজে ব্যয় হয় এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ জনসমর্থন লাভ করে। এ কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে রবি শঙ্কর, জর্জ হ্যারিসন ও বব ডিলান চির স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁদের পরোপকারী মানসিকতাই তাঁদের অমর করে রেখেছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে এবং উদ্দীপকে মানুষের বিপদে সাহায্য করা এবং সাধ্যমতো উপকার করার ঘটনা রয়েছে। আর এ উপকারের কারণেই উভয় ক্ষেত্রে উপকারী ব্যক্তিদের মানুষ চিরকাল মনে রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের বিপদের সময়ে যারা পাশে দাঁড়ান, সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাঁদের মানুষ মনে রাখে। আর এই উপকার যদি করা হয় কোনো দেশ ও জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্লান্তিলগ্নে, তাহলেই সেই দেশের ইতিহাসে উপকারী ব্যক্তিদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে।
    উত্তরের সারবস্তু: মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। এটি মানুষকে অমর করে রাখতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ১২

(উদ্দীপক চিত্র: একদল স্বেচ্ছাসেবক নৌকা নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে এবং একটি অসহায় শিশু ত্রাণ গ্রহণ করছে।)

ক. বহু বছর পূর্বে কোন এলাকার শাসনকর্তা পদচ্যুত হয়েছিলেন?
খ. খলিফা মামুনের ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার বর্ণনা দাও।
গ. উদ্দীপকের চিত্রটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন চেতনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও 'প্রত্যুপকার' গল্পের কিছু অংশের সাথে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।"— মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. বহু বছর পূর্বে দামেস্কের শাসনকর্তা পদচ্যুত হয়েছিলেন।
  • খ. খলিফা মামুন তাঁর বন্দিকৃত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পেয়ে তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। খলিফা মামুন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে মিথ্যা অভিযোগে প্রাণদণ্ড দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আলী ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে ওই ব্যক্তির দয়া, পরোপকারিতা এবং অপরাধ না করার মানসিকতা সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি তাঁকে মুক্তি দেন। উপরন্তু তাঁর প্রশংসা করেন এবং তাঁকে বহুমূল্যবান উপহার দেন। এর মাধ্যমে খলিফা মামুনের ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
    উত্তরের সারবস্তু: প্রাণদণ্ডের আদেশ দেওয়ার পরেও খলিফা মামুন বন্দির পরোপকারিতার কথা জানতে পেরে তাঁকে মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।
  • গ. উদ্দীপকের চিত্রটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের পরোপকারের এবং মানুষের বিপদে সাহায্য করার চেতনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে পরোপকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। একবার আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কে গিয়ে সেখানকার ক্ষমতাচ্যুত শাসকের সৈন্যদলের আক্রমণের মুখে পড়েন। তখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি নিজের বিপদ হতে পারে জেনেও আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেন এবং তাঁর বাড়িতে থাকতে দেন। এরপর ওই পরোপকারী ব্যক্তিটি আলী ইবনে আব্বাসকে নিরাপদে স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। উদ্দীপকে বন্যাত মানুষকে ত্রাণ দেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। চিত্রে একদল স্বেচ্ছাসেবক নৌকা নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে। আর বন্যাকবলিত অঞ্চলের একটি অসহায় শিশু তাদের কাছ থেকে ত্রাণ গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে চিত্রটিতে মানুষের বিপদে মানুষের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যেমন আলী ইবনে আব্বাসের বিপদে সাহায্য করেছিলেন, উদ্দীপকের স্বেচ্ছাসেবকরাও তেমনিভাবে বন্যাত মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের মতো তারাও পরোপকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই পরোপকার ও অন্যের বিপদে সাহায্য করার চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকার ও মানুষকে সাহায্য করার চেতনার সাথে উদ্দীপকের চিত্রটি ও 'প্রত্যুপকার' গল্প সাদৃশ্যপূর্ণ।
  • ঘ. উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য করার দিকটি থাকার কারণে 'প্রত্যুপকার' গল্পের কিছু অংশের সাথে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে বন্দি থাকা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির নিঃস্বার্থ পরোপকার এবং আলী ইবনে আব্বাসের সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। বন্দি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে সাহায্য করেছিলেন এবং তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাস তাঁর এ উপকারের কথা স্মরণে রেখে খলিফা মামুনকে বন্দি ব্যক্তির সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন এবং তাঁকে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকে মানুষকে বিপদে সাহায্য করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চিত্রটিতে একদল স্বেচ্ছাসেবক বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে। একটি শিশু তাদের কাছ থেকে ত্রাণ গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকরা বিনা স্বার্থে ঝুঁকি গ্রহণ করে বন্যাত মানুষকে সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছে, যা তাদের পরোপকারী মানসিকতার পরিচায়ক। 'প্রত্যুপকার' গল্পে পরোপকার ও প্রত্যুপকার উভয় বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু পরোপকারের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রত্যুপকারের দিকটি উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। আবার 'প্রত্যুপকার' গল্পে বৃহৎ আকারে ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও 'প্রত্যুপকার' গল্পের পরোপকারের বিষয়গুলোর সাথে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণরুপে একমত।
    উত্তরের সারবস্তু: পরোপকার ও কৃতজ্ঞতাবোধের বিষয়টির সাথে উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্প সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ১৩

(i) নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জমির মিয়া যখন চোখে অন্ধকার দেখছিল, তখন কাসেম মৃধা নিজের ফসলি জমি থেকে বেশকিছু পরিমাণ জমি তাকে বাড়ি করতে দেন। বাড়ি করার পর এর সামনে কিছুটা অংশে সে শাকসবজির বাগান করে এখন স্বাবলম্বী। সে কাসেম মৃধার এহেন উপকারের কথা স্বীকার করে স্রষ্টার কাছে তার জন্য দোয়া করে।
(ii) ছোটবেলায় এক কঠিন রোগে পড়েছিল বাবুল। তার প্রতিবেশী করিম মাঝি তখন বর্ষার থইথই জলে নৌকা বেয়ে দশ মাইল দূরের এক কবিরাজের কাছ থেকে ওষুধ এনে তাকে খাওয়ালে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই থেকে বাবুল করিম মাঝির প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এবারের বন্যায় যখন করিম মাঝির ঘরবাড়ি ডুবে যায়, তখন পুরো দুই সপ্তাহ ধরে তার পরিবারের সবাইকে বাবুল নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাদের খাওয়া দাওয়াসহ যথাযথ সমাদর করে বাবুল ও তার স্ত্রী।

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. 'আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে'— কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. (i) নং উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "(i) নং উদ্দীপকের জমির মিয়ার তুলনায় (ii) নং উদ্দীপকের বাবুলের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য অধিকতর।"— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
  • খ. আলী ইবনে আব্বাসের স্বীয় উপকারীর দেখা পাওয়া এবং তাঁর উপকার করার ইচ্ছা পূরণের সুযোগ আসায় ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত লোকটি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি লোকটির কাছে অতীতে জনৈক ডেমাস্কাস নিবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত উপকারের ঘটনা বর্ণনা করেন। পাশাপাশি এটিও বলেন যে, কখনো সুযোগ পেলে সেই লোককে তাঁর যথাযথ প্রতিদান দিতে চান তিনি। তখন বন্দি লোকটি তাঁর স্বীয় পরিচয় প্রদান করেন এবং তিনিই যে সেই ব্যক্তি সেটাও প্রকাশ করেন। আলী ইবনে আব্বাস চাইলে তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন বলে মনে করেন লোকটি।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাস মনে মনে তাঁর জীবন রক্ষাকারী ডেমাস্কবাসী জনৈক ব্যক্তির উপকারের প্রতিদান দেওয়ার যে ইচ্ছা পোষণ করতেন ঘটনাক্রমে সেই ব্যক্তিটি তাঁর গৃহে অবস্থান করায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
  • গ. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে (i) নং উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে ডেমাস্কাস নিবাসী একজন লোক খলিফার রোষে পড়েন। এরপর আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কথোপকথন হয়। বন্দি লোকটির বাড়ি ডেমাস্কাসে এই তথ্য জানার পর আলী ইবনে আব্বাস বলেন যে, ওখানে গিয়ে একবার তিনি ভয়াবহ বিপদে পড়েছিলেন। তখন সেখানকার এক ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন বলে তিনি তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। উদ্দীপক (i)-এ নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো জমির মিয়া কাসেম মৃধার কাছ থেকে জমি পেয়ে বাড়ি করে এবং বাড়ির পাশে সবজি বাগান করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। বিপদের দিনে উপকার পাওয়ায় জমির মিয়া কাসেম মৃধার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং স্রষ্টার কাছে তার জন্য দোয়া করে। প্রায় একইরকম কৃতজ্ঞতাবোধ লক্ষ করা যায় 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে।
    উত্তরের সারবস্তু: জমির মিয়া এবং আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপক (i)-এর সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পটির সাদৃশ্য রয়েছে।
  • ঘ. কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পাশাপাশি প্রত্যুপকারী হওয়ায় জমির মিয়ার তুলনায় বাবুলের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের অধিকতর সাদৃশ্য রয়েছে বলেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস বন্দি লোকটির সাথে কথা বলতে গিয়ে অতীতে ডেমাস্কাসে গিয়ে কঠিন বিপদে পড়ে সেখানকার জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া উপকারের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এরপর যখন তিনি জানতে পারলেন যে, সেদিনের সেই লোকটিই আজ খলিফার দ্বারা বন্দি হিসেবে আসা লোক; তখন তিনিও তাঁর উপকারের প্রতিদান দিয়ে লোকটিকে মুক্ত করতে তৎপর হলেন। উদ্দীপক (i)-এর জমির মিয়া এবং উদ্দীপক (ii)-এর বাবুল উভয়ই অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়েছে। নদীভাঙনে বসতবাড়ি হারানো জমির মিয়া কাসেম মৃধার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে এবং বাবুলকে ছোটবেলায় কঠিন রোগ থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে সাহায্য করেছে করিম মাঝি। তারা উভয়ই উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসও একইভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকদ্বয়ে জমির মিয়া ও বাবুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে জমির মিয়া শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও বাবুল এবং গল্পের আলী ইবনে আব্বাস পুনরায় সুযোগ পেয়ে তাদের উপকারীর বিপদে প্রত্যুপকারও করে। তাই বলা যায় যে, জমির মিয়ার তুলনায় বাবুলের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য অধিকতর। অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
    উত্তরের সারবস্তু: কৃতজ্ঞতাবোধ ও প্রত্যুপকারের দিক থেকে উদ্দীপকের জমির মিয়ার তুলনায় বাবুলের সাথে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য অধিকতর।

প্রশ্ন ১৪

'কৃতজ্ঞতা হলো সৌজন্যের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট রূপ' কথাটি বলেছেন ফরাসি দার্শনিক জাক মারিত্যা। প্রাচীন রোমের রাজনীতিবিদ্ ও দার্শনিক সিসেরোর বিবেচনায় কৃতজ্ঞতাবোধ কেবল একটি শ্রেষ্ঠ গুণই নয়, অন্য সব গুণেরও জনক। সত্যিই কৃতজ্ঞতাবোধের চেয়ে সুন্দরতম বোধ ও মনুষ্য বৈশিষ্ট্য আর হয় না। কৃতজ্ঞ মানুষ সবচেয়ে সুন্দর। কৃতজ্ঞতা অনেক শীতল সম্পর্ককে যেমন উষ্ণ করে, তেমনি সদ্য পরিচিত মানুষের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে সুন্দর সম্পর্কও তৈরি করে।
(/সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩/)

ক. কাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়?
খ. 'তিনি প্রাণদণ্ড হতে অব্যাহতি পেলেন।'— কোন প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ কি 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যেও ছিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়।"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

  • ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
  • খ. খলিফা মামুনের বন্দিদশা থেকে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পরোপকার, মহানুভবতা ও নির্দোষ হওয়ার বিষয়গুলো খলিফা মামুনকে বিস্তারিত বলেছিলেন। সব শুনে খলিফা মামুন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং ওই ব্যক্তিকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিলেন। শুধু তাই নয়, খলিফা মামুন ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে মূল্যবান পুরস্কার ও অনেক অর্থও দিলেন। এভাবে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হতে অব্যাহতি পাওয়া প্রসঙ্গে উক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
  • গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে ছিল বলে আমি মনে করি। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী ব্যক্তি। একদিন যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন তিনি সেই ব্যক্তিকেও খলিফা মামুনের প্রাণদণ্ড থেকে রক্ষা করেন। এক্ষেত্রে আলী ইবনে আব্বাস উপকারী ব্যক্তির উপকার মনে রেখেছেন এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই সেই উপকারীর উপকার করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। উদ্দীপকে কৃতজ্ঞতা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির উক্তি তুলে ধরা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কৃতজ্ঞতাবোধের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কৃতজ্ঞতাবোধের চেয়ে সুন্দরতম মানবিক বৈশিষ্ট্য আর হয় না। কৃতজ্ঞতা হলো সৌজন্যের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট রূপ। কৃতজ্ঞতা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটি একজন মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে উদ্দীপকে বর্ণিত এই কৃতজ্ঞতাবোধের গুণটি লক্ষণীয়। তিনি উপকারীর উপকার করার মাধ্যমে উপকারীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় দিয়েছেন। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে অবশ্যই উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল।
    উত্তরের সারবস্তু: আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতাবোধের ফল স্বরূপ তাঁর আশ্রয়দাতা প্রাণদণ্ড হতে মুক্তি লাভ করেন।
  • ঘ. উদ্দীপকে পরোপকার ও প্রত্যুপকারের স্পষ্ট কোনো দৃষ্টান্ত না থাকায় উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়। 'প্রত্যুপকার' গল্পে একজন মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকার এবং আরেকজন মানুষের প্রত্যুপকারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। গল্পে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি একদিন আলী ইবনে আব্বাসকে আশ্রয়দানের মাধ্যমে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। এর প্রতিদানস্বরূপ আলী ইবনে আব্বাসও ওই ব্যক্তিকে খলিফা মামুনের দেওয়া প্রাণদণ্ড থেকে রক্ষা করেন। এখানে কৃতজ্ঞতার দিকটি প্রকাশিত হলেও পরোপকার ও প্রতি-উপকারের বিষয়টিই মুখ্য। উদ্দীপকে কৃতজ্ঞতাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এখানে ফরাসি দার্শনিক জাক মারিত্যা এবং রোমের রাজনীতিবিদ্ ও দার্শনিক সিসেরোর কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পর্কিত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। কৃতজ্ঞতাবোধ হলো সুন্দরতম মানবিক বৈশিষ্ট্য। আর কৃতজ্ঞ মানুষ হলেন সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তি। কৃতজ্ঞতাবোধের মাধ্যমেই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 'প্রত্যুপকার' গল্পের পরোপকারের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি শুধু কৃতজ্ঞতাবোধের স্বরূপ উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। 'প্রত্যুপকার' গল্পের মতো উপকারী ব্যক্তির প্রতি প্রতি-উপকার করার মতো কোনো বিষয় উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। ফলে উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের কৃতজ্ঞতাবোধের দিকটি প্রতিফলিত হলেও এটি আলোচ্য গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়।
    উত্তরের সারবস্তু: 'প্রত্যুপকার' গল্পে কৃতজ্ঞতাবোধের বাস্তব চিত্র থাকলেও উদ্দীপকে শুধু কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments