Ticker

6/recent/ticker-posts

ফুলের বিবাহ (কনসেপ্ট নোট ) _ এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

ফুলের বিবাহ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
[১৮৩৮-১৮৯৪]

'ফুলের বিবাহ' রচনাটিতে নসী বাবুর ফুলবাগানের রূপকে আমাদের সমাজের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এ রচনায় ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার বিড়ম্বনা, দেনা-পাওনা, বরপক্ষের দেমাক, ঘটকের আধিপত্য ইত্যাদি। সাধারণত বিয়ের উপযুক্ত কন্যাকে বিয়ের জন্য ভালো বর খুঁজে আনে ঘটক। রচনায় লেখক ঘটক রূপে উপস্থাপন করেছেন ভ্রমরকে। ভ্রমর মল্লিকা ফুলের জন্য পাত্র সন্ধান করছেন। বাঙালি সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে যেমন পাত্র ও পাত্রী পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হয় তেমনি রচনায়ও দেখা যায় ভ্রমর বাগানের মল্লিকা ফুলের মর্যাদা বজায় রেখে পাত্রের সন্ধান করে। স্থলপদ্মের উচ্চ ঘর, জবার রাগ ও গন্ধরাজের দেমাক অতিরিক্ত হওয়ায় তাদের সাথে বিয়ে হয় না মল্লিকার। গোলাপের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হওয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালি সমাজের বৈবাহিক চিরায়ত রূপ ফুটে উঠেছে। সে বিয়েতে চিরায়ত বাংলার বিয়ের মতোই বরযাত্রী, বাসর ঘরে বরকে নিয়ে সুন্দরীদের হাসি-তামাশা দেখা যায়। মূলত এরকম বর্ণিত বিবাহ যেন বাঙালি সমাজে প্রচলিত বিবাহের বাস্তব চিত্র। এ রচনায় লেখক প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের চিরবাস্তব মেলবন্ধন উপস্থাপন করেছেন।

■ অধ্যায়টির শিখনফল

এখানে অধ্যায়ের শিখনফলগুলোর গুরুত্ব স্টার (★) চিহ্নিত করে বোঝানো হয়েছে। এ অধ্যায়টি পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে নতুন সংযোজিত হয়েছে; তাই এখানে বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন নেই। এ অধ্যায়ে কোন শিখনফলের ওপর কী কী প্রশ্ন রয়েছে তা এ ছক থেকে জানতে পারবে তুমি।

শিখনফল বোর্ড ও সাল প্রশ্ন নম্বর
★★ ১. ফুলের প্রতি আকর্ষণের স্বরূপ ১, ২, ৩
★★ ২. বাঙালি সমাজে বিবাহের স্বরূপ ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০
★ ৩. নানাধরনের ফুলের পরিচয় ১১, ১২
৪. কাল্পনিক ভাবনার স্বরূপ ১৩
অ্যানালাইসিস
● পাঠ বিশ্লেষণ | পৃষ্ঠা ৪০
✓ পাঠ সহায়ক বিষয়বস্তু | পৃষ্ঠা ৪০
✓ কুইজের উত্তরমালা | পৃষ্ঠা ৪২
অ্যাপ্লিকেশন
● সৃজনশীল বহুনির্বাচনি প্রশ্ন | পৃষ্ঠা ৪৩
✓ অনুশীলনীর প্রশ্ন ✓ মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত প্রশ্ন
● জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন | পৃষ্ঠা ৫০
● সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন | পৃষ্ঠা ৫৩
✓ অনুশীলনীর প্রশ্ন ✓ মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত প্রশ্ন
অ্যাসেসমেন্ট
● নিজেকে যাচাই করি | পৃষ্ঠা ৬৩
✓ প্রশ্নব্যাংক | পৃষ্ঠা ৬৩
● অধ্যায়ভিত্তিক মডেল টেস্ট | পৃষ্ঠা ৬৫
✓ সৃজনশীল বহুনির্বাচনি অভীক্ষা | পৃষ্ঠা ৬৫
✓ সৃজনশীল রচনামূলক অভীক্ষা | পৃষ্ঠা ৬৬

অ্যানালাইসিস অংশ: পাঠ বিশ্লেষণ

■ পাঠ সহায়ক বিষয়বস্তু (নতুন পাঠ্যবইয়ের টপিকের ভিত্তিতে)

(অ) কঠিন শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা

ক. পাঠ্যবইয়ের শব্দার্থ ও টীকা [পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯ দেখো]
খ. পাঠ সহায়ক আরও কিছু শব্দার্থ
উদ্যান — কানন বা বাগান
সায় — সমর্থন
বৃক্ষ — গাছ
প্রদক্ষিণ — আবর্তন করা
ঠানদিদি — দাদি বা ঠাকুরমা
ফর্দ — তালিকা
কর্ণ — কান


মহিমা — গৌরব
স্বহস্তারোপিত — নিজের হাতে রোপণ করা এমন
গোধূলিলগ্ন — দিন ও রাত্রির সন্ধিক্ষণ বা বিবাহের শুভলগ্ন
ফুকারানো — উচ্চৈঃস্বরে ডাকা বা চিৎকার করা
সবংশে — বংশের সকলকে নিয়ে
করবী — বর্ষাকালে থোকায় থোকায় ফোটে এমন লাল গোলাপি রঙের মৃদু গন্ধ ফুল।
মোসাহেব — তোষামোদকারী ব্যক্তি বা চাটুকার।
অনিত্য — নশ্বর

(আ) বানান সতর্কতা

▶ পাঠ্য রচনার বানান সতর্কতা: বৈকাল, সন্ধ্যা, লক্ষ্মী, স্নিগ্ধ, স্থলপদ্ম, ভ্রমর, স্বহস্ত, পুষ্প, লগ্ন, উঁচিজোড়া, করবী, বাঙ্মালী, শুভ্রস্মিত, অবগুণ্ঠনবর্তী, সম্প্রদান, আহ্লাদিত

▶ পাঠ সহায়ক বানান সতর্কতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ, অন্তর্গত, উত্তীর্ণ, ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর, পথিকৃৎ, উন্মোচন, যুগলাঙ্গুরীয়, কমলাকান্ত, সম্পৃক্ত, গার্হস্থ্য, কৌতূহলী, পর্যবেক্ষণশীল, দৃষ্টিভঙ্গি

(ই) লেখক-সম্পর্কিত তথ্য

জন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে ২৬শে জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা তাঁর পিতার নাম যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি পেশায় ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর।
শিক্ষাজীবন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
পেশা ১৮৫৮ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন।
সাহিত্যসাধনা ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু। তিনি মূলত উপন্যাস রচনা করেছেন। এছাড়া প্রাবন্ধিক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ৩৪।
বিশেষ পরিচয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়। তাঁকে সার্থক বাংলা উপন্যাসের জনকও বলা হয়।
উল্লেখযোগ্য রচনা 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। 'কপালকুণ্ডলা', 'মৃণালিনী', 'বিষবৃক্ষ', 'কৃষ্ণকান্তের উইল', 'ইন্দিরা', 'যুগলাঙ্গুরীয়', 'রাধারানী', 'আনন্দমঠ', 'চন্দ্রশেখর', 'সীতারাম', 'দেবী চৌধুরাণী', 'রাজসিংহ' ইত্যাদি ছাড়াও 'Rajmohan's Wife' নামে একটি ইংরেজি উপন্যাসও তিনি রচনা করেছেন। এছাড়া ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা ও সমাজবিষয়ক অনেক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। 'লোকরহস্য', 'বিজ্ঞানরহস্য', 'কমলাকান্তের দপ্তর', 'সাম্য', 'কৃষ্ণচরিত্র', 'বিবিধ প্রবন্ধ' ইত্যাদি তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
উপাধি বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যসম্রাট' উপাধিতে ভূষিত হন।
মৃত্যু তিনি ১৮৯৪ সালের ৮ই এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

▶ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম মনে রাখার কৌশল

  • উপন্যাস: দেবী চৌধুরাণীর স্বামী রাজসিংহের আদেশে দুর্গেশনন্দিনী-কপালকুণ্ডলার জন্য বিষবৃক্ষের নিচে রজনীতে আনন্দমঠ তৈরি করেন। সীতারাম-এর স্ত্রী মৃণালিনী, ইন্দিরাকে এ কথা বললে রাধারানীর স্বামী চন্দ্রশেখর যুগলাঙ্গুরীয়র পরিবর্তে কৃষ্ণকান্তের উইল ফিরিয়ে নেয়।
  • প্রবন্ধ: বঙ্গদেশের কৃষকেরা কৃষ্ণচরিত্রের লোকরহস্য এবং বিজ্ঞানরহস্যের সাম্য বুঝতে না পেরে কমলাকান্তের দপ্তরে হাজির হলো। সেখানে বিবিধ প্রবন্ধ পাঠের পর তারা সব বুঝতে পারল।

(ঈ) রচনার বিশ্লেষণ

ক. উৎস পরিচিতি: 'ফুলের বিবাহ' রচনাটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লঘুরচনা 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের নবম সংখ্যক লেখা।

খ. মূলবক্তব্য: এ রচনায় লেখক ফুলের বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি দেখিয়েছেন বাঙালি সমাজের বিয়ের প্রথা, প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় নানা অনুষঙ্গ। রচনাটিতে মূলত বিয়ে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এমন নানা ব্যক্তির পরিবর্তে বিভিন্ন ফুলের উল্লেখ করে অসাধারণ দক্ষতায় লেখক বাঙালির বিয়ের অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করেছেন।

গ. নামকরণ: রচনাটি নামকরণ করা হয়েছে এর বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে। আলোচ্য রচনাটিতে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ফুলের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে তাদের চরিত্রের অনুকরণে বাঙালি বিবাহের প্রথাকেই তুলে ধরেছেন। তাই এই রচনার নামকরণ যথার্থ।

ঘ. গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: কমলাকান্ত (কমলাকান্ত), কুসুমলতা, মল্লিকা, গোলাপ, ভ্রমর।

ঙ. ভাষা: রচনাটি সাধু ভাষায় রচিত।

▶ রচনার বিষয়বস্তুর খুঁটিনাটি

  • বিবাহের মাস— বৈশাখ।
  • ফুল বাগানটি ছিল— নসী বাবুর।
  • মল্লিকা ফুলকে দেখতে এসেছে— ভ্রমররাজ ঘটক।
  • বাঙ্মালীর সন্তান— গোলাপ।
  • সানাইয়ের বায়না নিয়েছিল— মৌমাছি।
  • দিবাবসানে অসুখের বলে আসতে পারে না— রাজকুমার স্থলপদ্ম।
  • শ্বেত জবা, রক্ত জবা, জবা— জবাগোষ্ঠী।
  • রাজাদিগের মতো উঁচু ডালে চড়ে উপস্থিত হয়— করবী।
  • নীতবর হবে বলে সেজে এসেছে— সেঁউতি।
  • উগ্র গন্ধ, গরদের জোড় পরে— চাঁপা।
  • গন্ধ বিলিয়ে, দেশ মাতিয়ে, দলে দলে আসে— গন্ধরাজ।
  • অশোকের সাথে মোসাহেব হয়ে এসেছে— একপাল পিঁপড়া।
  • পুরোহিত নসী বাবুর নবযুবতীয়া কন্যা— কুসুমলতা।
  • বাসর ঘরে বরকে ঘিরে বসল— রসময়ী মধুময়ী সুন্দরী।
  • কন্যার সই— জুঁই।
  • যত গুণ তত রূপ নেই— বকুলের
  • রাজা প্রজা, পর্বত সমুদ্র, গ্রহ নক্ষত্রাদি গিয়েছে বা যাবে— ধ্বংসপুরে।
  • সব শূন্যে মিশাবে, বাতাসে গলে যাবে— বিবাহের ন্যায়

(উ) চরিত্র বিশ্লেষণ

কমলাকান্ত: কমলাকান্ত বা কমলাকান্ত 'ফুলের বিবাহ' রচনার কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার দৃষ্টিকোণ থেকে হাস্যরসের মধ্য দিয়ে মল্লিকা ও গোলাপ ফুলের বিবাহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে ব্যক্তির পরিবর্তে ফুলের বিয়ের কাল্পনিক চিত্র উপস্থাপন করেছেন। সেখানে একাধারে বর-কনে, তাদের মাতাপিতা, কনের পড়শি, এমনকি ঘটকও উপস্থিত ছিল। এই চরিত্রগুলোর মধ্যে যথাযথ রূপকার্য প্রতীয়মান হয়েছে। কমলাকান্ত চরিত্রটি আপাত অর্থে, ঘুমন্ত অসচেতন একটি চরিত্র মনে হলেও তার মধ্যে যথেষ্ট বাস্তবজ্ঞান বিদ্যমান। ফুলের মতো একটি উপাদানের মাধ্যমে তিনি সমাজের বৃহৎ একটি প্রথার ফাঁকফোকর ফুটিয়ে তুলেছেন।

মল্লিকা: 'ফুলের বিবাহ' রচনার কনে চরিত্রটি হলো মল্লিকা ফুল। তার সাথে বিয়ে ঠিক হয় গোলাপ ফুলের। রচনায় মল্লিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'বৈকাল-শৈশব অবসানপ্রায়'। অর্থাৎ সন্ধ্যায় মল্লিকা ফুল পূর্ণ বিকশিত হয়। তাই তার আগেই তার বিয়ে হওয়া দরকার। মল্লিকা বড়োই লাজুক ফুল।

গোলাপ: গোলাপ হলো 'ফুলের বিবাহ' রচনার বর। গোলাপের সম্পর্কে বলা হয়েছে সে কুলের দিক থেকে অনেক উঁচু। তার বংশের অনেক গৌরব। যখন ভ্রমররাজ গোলাপের বিবাহের খবর নিয়ে আসে তখন গোলাপ বাতাসের সঙ্গে নেচে নেচে, হেসে হেসে, লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করছিল।

ভ্রমররাজ: ভ্রমররাজ চরিত্রটি এ রচনার ঘটক চরিত্র। তিনি গুণ গুণ করে আর পাত্র-পাত্রী দেখেন। গোলাপ ও মল্লিকা ফুলের এভাবেই বিয়ে ঠিক হয়। এমনকি তিনি বাঙালি সমাজের ঘটকদের মতো যৌতুকের প্রতি লোভ দেখান। ঘটকালির খরচ স্বরূপ কিছু আগাম দেওয়ার কথাও বলেন। মূলত আমাদের চারপাশে দেখা একটি জীবন্ত চরিত্র হিসেবে অভিহিত করা যায় ভ্রমরকে।

(ঊ) জটিল প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা

  1. বৈকাল-শৈশব অবসানপ্রায়, কলিকা-কন্যা বিবাহযোগ্যা হইয়া আসিল।
    মল্লিকা ফুলের প্রস্ফুটিত হওয়ার সময়কাল হলো সন্ধ্যা। তাই তার কাছে বিকাল শৈশবের ন্যায়। রচনার কন্যা কলি সন্ধ্যা হলেই প্রস্ফুটিত হবে। আর প্রস্ফুটিত হলেই তাকে পাত্রস্থ করতে হবে।
  2. কন্যার পিতা বড়োলোক নহে, ক্ষুদ্র বৃক্ষ, তাহাতে আবার অনেকগুলি কন্যাভারগ্রস্ত।
    মল্লিকা ফুল বেশি দামি ফুল নয়। সহজেই মেলে, আবার গাছটিও বেশ ছোটো। মল্লিকা গাছে যখন ফুল আসে তখন একসাথে অনেক ফুল আসে। এজন্য মল্লিকা ফুলের ছোটো বৃক্ষকে বহু কন্যাভারগ্রস্ত পিতা বলা হয়েছে।
  3. কন্যা গুণবতী বটে। ঘরে মধু কত?
    মল্লিকা ফুল রূপবতী, গুণবতী হলেও ভ্রমররাজ অন্যান্য বাঙালি ঘটকের মতোই কন্যাপক্ষের যৌতুকের সাধ্য কত, তা জানতেই ঘরে মধুর পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। বাঙালি সমাজের বিবাহ প্রথায় অবিচ্ছেদ্য অংশ যৌতুক। লেখক এই অমানবিক প্রথার ব্যঙ্গ করতেই মল্লিকা বৃক্ষের ঘরের সম্পদ বা মধুর পরিমাণ জানতে চাওয়ার প্রসঙ্গ এনেছেন।
  4. নগদ দান বড়ো গুণ-গুণ গুণ গুণ।
    ঘটক ভ্রমররাজ ঘটকালির জন্য অগ্রিম পারিশ্রমিক চান। বাঙালি সমাজের ঘটকদের মতোই সেও অর্থলোভী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছে। সে পাত্র ঠিক হওয়ার আগেই অর্থাৎ ঘটকালি সম্পন্ন হওয়ার আগেই নগদ অর্থ চায়। এজন্য সে বলে নগদ দান বড়ো গুণ।
  5. যদি বল, এ ফুলে কাঁটা আছে, কোন্ ফুলে বা কোন্ ফুলে নাই?
    পাত্র হিসেবে গোলাপ ফুল ঠিক হওয়ার পরেই গোলাপের দোষ হিসেবে কাঁটার প্রসঙ্গ তোলেন ভ্রমররাজ। তিনি বোঝাতে চান, গোলাপের কাঁটা থাকার মতো দোষ থাকতে পারে কিন্তু ফুল হিসেবে গোলাপ অতি উচ্চ বংশীয়। আর দোষের কথা যদি বলা হয় তাহলে কোন পাত্রেই-বা তা থাকে না! অতএব, পাত্রের কিঞ্চিৎ দোষ থাকা অতি সাধারণ বিষয়।
  6. তাহাদের গুণের সঙ্গে সম্বন্ধ নাই, কিন্তু দাঁতের জ্বালা বড়ো— কোন্ বিবাহে না এরূপ বরযাত্রী জোটে, আর কোন্ বিবাহে না তাহারা হুল ফুটাইয়া বিবাদ বাধায়?
    বাঙালি সমাজের বিবাহে বরযাত্রীদের হট্টগোল খুব সাধারণ বিষয়। তাদের ইঙ্গিত করতেই মূলত লেখক পিঁপড়া দলের প্রসঙ্গটি এনেছেন। বরযাত্রী দলের মধ্যকার পিঁপড়া রূপী আত্মীয়ের দল ইচ্ছা করেই কন্যাপক্ষের অনেক দোষ-ত্রুটি ধরে সমস্যার সৃষ্টি করেন। আর এই আচরণ এতটাই স্বাভাবিক যে রচনায় বলা হয়েছে, কোন বিয়েতেই-বা এমন হুল ফুটিয়ে বিবাদ বাধানোর ঘটনা ঘটে না!
  7. আর ঝুমকা ফুল বড়ো মানুষের গৃহিণীর মতো মোটা নীল শাড়ি ছাড়াইয়া জমকাইয়া বসিল।
    ঝুমকা ফুল দেখতে নীল রঙের। তার পাপড়িগুলোও ছড়ানো। এজন্য কমলাকান্তের মনে হয়েছে, ঝুমকা ফুল যেন বড়ো মানুষের গৃহিণীর মতো মোটা নীল শাড়ি পরে এসেছে বিয়েবাড়িতে এবং তার মোটা শাড়ির মতো দেখতে পাপড়িগুলো ছড়িয়ে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে বসেছে বিয়ের আসরে।
  8. যেখানে সব যাইবে, সেইখানে— স্মৃতির দর্পনতলে, ভূতসাগরগর্ভে।
    পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। সবকিছুই একসময় নশ্বরতার অতল গর্ভে তলিয়ে যাবে। কমলাকান্তের স্বপ্নও যেমন কুসুমের ডাকে হঠাৎ অতল গর্ভে তলিয়ে গেছে ঠিক তেমনই। এজন্যই কমলাকান্ত বলেছে, তাঁর দেখা ফুলের বিবাহের ফুলেরা হঠাৎ ভস্ম হলো, চলে গেলো অতীত হয়ে, স্মৃতির দর্পণ তলে।

কুইজ সমূহ

কুইজ-১

প্রশ্ন-১. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
প্রশ্ন-২. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
প্রশ্ন-৩. 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
প্রশ্ন-৪. কথাসাহিত্যে নবদিগন্ত উন্মোচন করে কোন উপন্যাস?
প্রশ্ন-৫. 'কপালকুণ্ডলা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন জাতীয় রচনা?
প্রশ্ন-৬. 'রাজসিংহ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
প্রশ্ন-৭. 'কৃষ্ণচরিত্র' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন জাতীয় রচনা?
প্রশ্ন-৮. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

কুইজ-২

প্রশ্ন-১. 'ফুলের বিবাহ' রচনাটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
প্রশ্ন-২. শিক্ষার্থীদেরকে নানা ফুল সম্পর্কে ধারণা দেয় কোন রচনা?
প্রশ্ন-৩. 'ফুলের বিবাহ' রচনাটি কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
প্রশ্ন-৪. 'ফুলের বিবাহ' রচনায় বিবাহের মাস কোনটি?
প্রশ্ন-৫. 'ফুলের বিবাহ' রচনায় ফুল বাগানটির মালিক কে?
প্রশ্ন-৬. মল্লিকা ফুলকে দেখতে এসেছে কে?
প্রশ্ন-৭. সানাইয়ের বায়না নিয়েছিল কে?
প্রশ্ন-৮. ফুলের বিয়ে দিচ্ছিলেন কে?

কুইজ-৩

প্রশ্ন-১. 'ফুলের বিবাহ' রচনায় কেন্দ্রীয় চরিত্র কে?
প্রশ্ন-২. কমলাকান্ত বাঙালি সমাজের কী নিয়ে রসিকতা করেছেন?
প্রশ্ন-৩. 'ফুলের বিবাহ' রচনায় কনে চরিত্র কে?
প্রশ্ন-৪. কোন ফুল বড়োই লাজুক?
প্রশ্ন-৫. 'ফুলের বিবাহ' রচনায় বরের নাম কী?
প্রশ্ন-৬. 'ফুলের বিবাহ' রচনার ঘটকের নাম কী?
প্রশ্ন-৭. ফুলের বিবাহ রচনায় কে গুণ গুণ করে আর পাত্র-পাত্রী দেখেন?
প্রশ্ন-৮. বাঙালি সমাজের ঘটকদের মতো যৌতুকের প্রতি লোভ দেখান কে?

কুইজ-৪

প্রশ্ন-১. মল্লিকা ফুলের প্রস্ফুটিত হওয়ার সময়কাল কখন?
প্রশ্ন-২. কোন ফুল বেশি দামি ফুল নয়?
প্রশ্ন-৩. কোন ফুল রূপবতী ও গুণবতী?
প্রশ্ন-৪. বাঙালি সমাজের বিবাহ প্রথায় অবিচ্ছেদ্য অংশ কী?
প্রশ্ন-৫. ঘটক ভ্রমররাজ ঘটকালির জন্য অগ্রিম কী চান?
প্রশ্ন-৬. ঝুমকা ফুল দেখতে কোন রঙের?
প্রশ্ন-৭. পৃথিবীতে কোনো কিছুই কী নয়?
প্রশ্ন-৮. কোন ফুলের পাপড়িগুলো ছড়ানো?

কুইজের উত্তরমালা

কুইজ-১ ১। ১৮৩৮ সালে; ২। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়; ৩। ১৮৬৫ সালে; ৪। দুর্গেশনন্দিনী; ৫। উপন্যাস; ৬। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; ৭। প্রবন্ধগ্রন্থ; ৮। ১৮৯৪ সালে
কুইজ-২ ১। কমলাকান্তের দপ্তর; ২। ফুলের বিবাহ; ৩। সাধু ভাষায়; ৪। বৈশাখ; ৫। নসী বাবু; ৬। ভ্রমররাজ ঘটক; ৭। মৌমাছি; ৮। কমলাকান্ত
কুইজ-৩ ১। কমলাকান্ত; ২। প্রথা; ৩। মল্লিকা; ৪। মল্লিকা; ৫। গোলাপ; ৬। ভ্রমর; ৭। ভ্রমর; ৮। ভ্রমর
কুইজ-৪ ১। সন্ধ্যা; ২। মল্লিকা; ৩। মল্লিকা; ৪। যৌতুক; ৫। পারিশ্রমিক; ৬। নীল; ৭। চিরস্থায়ী; ৮। ঝুমকা

Post a Comment

0 Comments