Ticker

6/recent/ticker-posts

এসএসসি জীববিজ্ঞান অধ্যায়ঃ ১ (জ্ঞান ও অনুধাবন মুলক প্রশ্ন ও সমাধান )

অ্যাপ্লিকেশন অংশ: জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
নিশ্চিত নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর ১২ (পাঠ্যবই ও বোর্ডের সূত্র উল্লেখসহ)
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
■ জীববিজ্ঞানের ধারণা ও শাখাসমূহ
প্রশ্ন-১. জীববিজ্ঞানের জনক কে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৩ / য. বো. ২০১৭
উত্তর: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল হলেন জীববিজ্ঞানের জনক।
প্রশ্ন-২. ভৌত জীববিজ্ঞান কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / দি. বো. ২০২২
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই হলো ভৌত জীববিজ্ঞান।
প্রশ্ন-৩. Morphology কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক বর্ণনা নিয়ে ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাই Morphology।
প্রশ্ন-৪. Endocrinology কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / কু. বো. ২০২৪, ২০২০; য. বো. ২০২৩
উত্তর: জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক জ্ঞানই হলো Endocrinology।
প্রশ্ন-৫. শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: পৃথিবীর বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানার উদ্দেশ্যে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করার জন্য জীববিজ্ঞানের স্বতন্ত্র শাখাই হলো শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
প্রশ্ন-৬. বাস্তুবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / সি. বো. ২০২৪
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই বাস্তুবিদ্যা।
প্রশ্ন-৭. বিবর্তনবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / ঢা. বো., রা. বো. ২০২৩
উত্তর: বিবর্তনবিদ্যা হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের পরিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশ্ন-৮. জীবভূগোল কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: জীবভূগোল হলো জীবের ভৌগোলিক বিস্তারের সাথে ভূমণ্ডলের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত বিদ্যা।
প্রশ্ন-৯. পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও জীবের বিবর্তন আলোচনা করা হয় কোন শাখায়? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও জীবের বিবর্তন আলোচনা করা হয় বিবর্তনবিদ্যা শাখায়।
প্রশ্ন-১০. বংশগতিবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জিন ও জীবের বংশগতির ধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সে শাখাই হলো বংশগতিবিদ্যা।
প্রশ্ন-১১. শারীরবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / য. বো. ২০২১
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি এবং জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই শারীরবিদ্যা।
প্রশ্ন-১২. হিস্টোলজি কাকে বলে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / কু. বো., চ. বো. ২০২৩; রা. বো. ২০২০
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে হিস্টোলজি বলে।
প্রশ্ন-১৩. ফলিত জীববিজ্ঞান কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / চ. বো. ২০২৩
উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে সকল শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়সমূহ আলোচিত হয় সেগুলোই ফলিত জীববিজ্ঞান।
প্রশ্ন-১৪. Entomology কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫
উত্তর: কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো Entomology।
প্রশ্ন-১৫. পরজীবীবিদ্যা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫
উত্তর: ফলিত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পরজীবিতা, পরজীবী জীবের জীবনপ্রণালি এবং রোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাই পরজীবীবিদ্যা।
প্রশ্ন-১৬. বায়োইনফরমেটিকস কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / ঢা. বো., সি. বো. ২০২০
উত্তর: কম্পিউটার প্রযুক্তির্নিভর জীববিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যই হলো বায়োইনফরমেটিকস্।
প্রশ্ন-১৭. জীবাশ্মবিজ্ঞান কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / ঢা. বো. ২০২২
উত্তর: প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো জীবাশ্মবিজ্ঞান।
■ জীবের শ্রেণিবিন্যাস
প্রশ্ন-১৮. শ্রেণিবিন্যাস কাকে বলে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৬ / য. বো. ২০২৩; ব. বো. ২০১৯
উত্তর: পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে সাজানো বা বিন্যাসকরণকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
প্রশ্ন-১৯. শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হলো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা।
প্রশ্ন-২০. শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের জনক হলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস।
প্রশ্ন-২১. ডায়াটম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮
উত্তর: ডায়াটম হলো প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের এককোষী শৈবাল।
প্রশ্ন-২২. Nostoc কোন রাজ্যের জীব? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮
উত্তর: Nostoc মনেরা রাজ্যের জীব।
প্রশ্ন-২৩. কনজুগেশন কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯ / সি. বো. ২০২৩
উত্তর: জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগত ভাবে এক এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন প্রজনন ঘটে তাই কনজুগেশন।
প্রশ্ন-২৪. ফানজাই-এর কোষ প্রাচীর কী দিয়ে তৈরি? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯
উত্তর: ফানজাই-এর কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
প্রশ্ন-২৫. অ্যানাইসোগ্যামাস কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯
উত্তর: অ্যানাইসোগ্যামাস হলো আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে সম্পন্ন যৌন জনন।
প্রশ্ন-২৬. আর্কিগোনিয়াম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯ / য. বো. ২০২৪; য. বো. ২০২২
উত্তর: উদ্ভিদের স্ত্রী জনন অঙ্গই হলো আর্কিগোনিয়াম।
প্রশ্ন-২৭. হেটারোট্রফিক কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০ / কু. বো. ২০২২
উত্তর: পরভোজী জীব অর্থাৎ যারা খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল তারাই হেটারোট্রফিক।
■ শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপ
প্রশ্ন-২৮. শ্রেণিবিন্যাসের একক কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০
উত্তর: জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি ধাপই শ্রেণিবিন্যাসের একক।
প্রশ্ন-২৯. শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন একক কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন একক প্রজাতি।
প্রশ্ন-৩০. ট্যাক্সন কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০
উত্তর: জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একক বা ধাপই হলো ট্যাক্সন।
প্রশ্ন-৩১. শ্রেণিবিন্যাসের এককগুলো কী কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের এককগুলো হলো- জগৎ, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি।
প্রশ্ন-৩২. প্রজাতি কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০
উত্তর: প্রজাতি শ্রেণিবিন্যাসের একটি মৌলিক এবং সর্বনিম্ন একক, যা দ্বিপদ নামকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্ন-৩৩. নেস্টেড হায়ারার্কি কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১১
উত্তর: জীবজগতের জীবসমূহকে রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি এভাবে বড় থেকে ছোট ধাপে ধাপে শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতিই হলো নেস্টেড হায়ারার্কি।
■ দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্রশ্ন-৩৪. দ্বিপদ নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২ / রা. বো. ২০২২
উত্তর: গণ ও প্রজাতি এই দুটি পদ নিয়ে গঠিত জীবের বৈজ্ঞানিক নামই হলো দ্বিপদ নাম।
প্রশ্ন-৩৫. দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি কাকে বলে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২ / দি. বো. ২০২৩; ঢা. বো. ২০১৭
উত্তর: গণ ও প্রজাতি নামক দুইটি পদের সমন্বয়ে জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বলে।
প্রশ্ন-৩৬. দ্বিপদ নামকরণ কে প্রবর্তন করেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস।
প্রশ্ন-৩৭. ICBN এর পূর্ণরূপ লেখো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: ICBN এর পূর্ণরূপ হলো- International Code of Botanical Nomenclature।
প্রশ্ন-৩৮. ICZN কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: ICZN হলো International Code of Zoological Nomenclature-এর সংক্ষিপ্ত রূপ যা প্রাণীর নামকরণের একটি নীতি নির্ধারণী দলিল।
প্রশ্ন-৩৯. কেবল ঢাকায় পাওয়া নতুন আবিষ্কৃত ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: ঢাকায় পাওয়া নতুন আবিষ্কৃত ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Zakerana dhaka।
প্রশ্ন-৪০. Zakerana dhaka নামক ব্যাঙটি কে আবিষ্কার করেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: তরুণ প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার Zakerana dhaka নামক ব্যাঙটি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন-৪১. ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: ধানের বৈজ্ঞানিক নাম- Oryza sativa
প্রশ্ন-৪২. বাংলাদেশের সোনালী আঁশের বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: বাংলাদেশের সোনালী আঁশের বৈজ্ঞানিক নাম- Corchorus capsularis
প্রশ্ন-৪৩. শাপলা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম লেখো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩ / কু. বো., রা. বো. ২০১৬
উত্তর: শাপলা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphaea nouchali
প্রশ্ন-৪৪. ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Plasmodium vivax
প্রশ্ন-৪৫. জবা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩ / সি. বো. ২০২২
উত্তর: জবা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Hibiscus rosa-sinensis
প্রশ্ন-৪৬. দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম লেখো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩ / কু. বো. ২০১৭
উত্তর: দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis
প্রশ্ন-৪৭. কুনোব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: কুনোব্যাঙের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Duttaphrynus melanostictus
প্রশ্ন-৪৮. আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম Periplaneta americana
প্রশ্ন-৪৯. মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৩
উত্তর: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
■ জীববিজ্ঞানের ধারণা ও শাখাসমূহ
প্রশ্ন-১. জীবজগৎকে বুঝতে হলে ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান জরুরি কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৩
উত্তর: জীবনের ভিত্তিমূলে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের একই ধরনের নিয়ম, যা জড় জগৎকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবজগৎকে বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের তথা ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা জরুরি।
প্রশ্ন-২. জীব গঠনে জড়ের প্রভাব থাকলেও জীবের বৈশিষ্ট্য জড়ের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে ভিন্ন হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৩
উত্তর: জীব হলো অনেকগুলো জড়ের এমন এক জটিল সমাবেশ যেখানে ঐ জটিলতার কারণে নতুন কিছু গুণের উদ্ভব ঘটেছে। জড়ের সুনির্দিষ্ট সন্নিবেশে জীব গঠিত হলেও তার মধ্যে এমন সব নতুন ধরনের বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে, যা তার জড় গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে ছিল না। তাই জীব গঠনে গাঠনিক উপাদান হিসেবে জড়ের প্রভাব থাকলেও জীবের বৈশিষ্ট্য জড়ের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে ভিন্ন হয়।
প্রশ্ন-৩. বাস্তুবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: বাস্তুবিদ্যা বলতে জীব ও তাদের বাসস্থান সম্পর্কে জ্ঞানকে বোঝায়। আমাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে সকল জীবের সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞানই হলো বাস্তুবিদ্যা। যেহেতু বাস্তুবিদ্যায় তত্ত্বীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তাই বাস্তুবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-৪. শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪ / কু. বো. ২০২২
উত্তর: শারীরবিদ্যায় জীবের তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তবে এ শাখায় শারীরবিদ্যা সম্পর্কিত কোনো প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না। তাই শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-৫. বংশগতিবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। বংশগতিবিদ্যায় জীবের বংশগত গুণাবলি কীভাবে এক বংশ থেকে অন্য বংশে সঞ্চারিত হয় তার রীতি-নীতি, সংকর প্রজনন, পরিব্যক্তি, প্রকরণ সৃষ্টির কারণ ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলো আলোচিত হয়। এ প্রক্রিয়াগুলো সবই বংশগতিবিদ্যার তত্ত্বীয় বিষয়। তাই বংশগতিবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-৬. হিস্টোলজি বলতে কী বোঝ? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৪
উত্তর: ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। হিস্টোলজি ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি অন্তর্ভুক্ত শাখা। জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
প্রশ্ন-৭. অণুজীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / কু. বো. ২০২৪
উত্তর: অণুজীববিজ্ঞানে বিভিন্ন অণুজীব যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদির গঠন, জৈবনিক কার্যাবলি, জীবনধারা ও প্রজনন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এদের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ, প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিন দ্বারা অণুজীব ঘটিত রোগ নিরাময়ের উপায় এবং জিন প্রকৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় বলে অণুজীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্রশ্ন-৮. কৃষিবিজ্ঞানকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / কু. বো. ২০২০
উত্তর: জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষিবিজ্ঞানে জীবের তত্ত্বীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না, বরং জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ কারণে কৃষিবিজ্ঞানকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয়।
প্রশ্ন-৯. জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা-বুঝিয়ে লেখো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫
উত্তর: জীবপ্রযুক্তিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়, কারণ এখানে জীবের তত্ত্বীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না, বরং জীবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে জীব সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচিত হয়। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি জীবপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ফলিত শাখার একটি দিক।
প্রশ্ন-১০. কীটতত্ত্ব-কে ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৫ / সি. বো. ২০২৩
উত্তর: জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়। এই কারণেই কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
■ জীবের শ্রেণিবিন্যাস
প্রশ্ন-১১. কোন কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭
উত্তর: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়; যথা— i. কোষের DNA ও RNA-এর প্রকারভেদ, ii. জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য, iii. কোষের সংখ্যা ও iv. খাদ্যাভ্যাস।
প্রশ্ন-১২. জীবের শ্রেণিবিন্যাসের কারণ ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭ / চ. বো. ২০২৩
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাস জীবজগৎকে জানার একটি সহজ পদ্ধতি। জীবের জাতিজনির বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনিক ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া এই বিশাল জীবজগৎকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবের শ্রেণিবিন্যাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই জীবের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
প্রশ্ন-১৩. জীবজগৎকে জানতে শ্রেণিবিন্যাসের ভূমিকা কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭
উত্তর: পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এর ফলে বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়। কারণ এতে একটি দলের একটি জীব সম্পর্কে জানলেই ঐ দলের সমস্ত জীব সম্পর্কে জানা হয়ে যায় এবং অন্যান্য দল থেকে একে আলাদা করা যায়। তাই জীবজগতকে জানতে শ্রেণিবিন্যাসের ভূমিকা অপরিসীম।
প্রশ্ন-১৪. শ্রেণিবিন্যাস বলতে কী বোঝায়? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭ / দি. বো. ২০১৬
উত্তর: সুবিশাল জীবজগৎকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে জানা, বোঝা এবং শেখার সুবিধার্থে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানোকেই শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়। জীবের জাতিজনিগত বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনিক ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন।
প্রশ্ন-১৫. জীবের শ্রেণিবিন্যাসকরণ গুরুত্বপূর্ণ কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭ / ম. বো. ২০২৪; রা. বো. ২০২২
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতকে সহজে জানার একটি পদ্ধতি। জীবের জাতিজনিগত বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনিক ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া এই বিশাল জীবজগতকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবের শ্রেণিবিন্যাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন-১৬. শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য কী? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৭
উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি জীবজগৎ এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
প্রশ্ন-১৭. প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটা বলতে কী বোঝায়? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮
উত্তর: সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন কোষই প্রোক্যারিওটা। এদের নিউক্লিয়াসে ক্রোমাটিন দানা থাকে। এতে সাধারণত রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোনো কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে ঘটে। যেমন— ব্যাকটেরিয়ার কোষ। সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে ইউক্যারিওটা বলে। এদের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম থাকে। এতে রাইবোসোমসহ সব ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু থাকে। কোষ বিভাজন মাইটোসিস পদ্ধতিতে ঘটে। যেমন— উন্নত জীবের দেহকোষ।
প্রশ্ন-১৮. নীলাভ সবুজ শৈবাল মনেরা জগতের অন্তর্ভুক্ত কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮
উত্তর: নীলাভ সবুজ শৈবালের সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল সাইটোপ্লাজমের পরিধির অংশে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে। এছাড়াও এরা আদিকোষী জীব। অর্থাৎ এদের কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসবিহীন। তাই এদেরকে মনেরা জগতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন-১৯. প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলোকে ইউক্যারিওট বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮ / য. বো. ২০২২
উত্তর: ইউক্যারিওটরা প্রকৃতকোষ বিশিষ্ট এককোষী বা বহুকোষী জীব। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। এরা এককভাবে অথবা কলোনি আকারে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবদের মধ্যে দেখা যায় বলে এদের ইউক্যারিওট বলা হয়।
প্রশ্ন-২০. শৈবাল কীভাবে খাদ্য উৎপাদন করে? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮ / রা. বো. ২০২০
উত্তর: শৈবাল এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ এবং এর দেহে ক্লোরোফিল থাকে। জলজ উদ্ভিদ হওয়ায় শৈবাল পানি থেকে CO2 গ্রহণ করে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 এবং পানি থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে। উৎপাদিত শর্করার কিছু অংশ শৈবাল তার প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে।
প্রশ্ন-২১. ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী জীব বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮ / ব. বো. ২০১৯
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এ কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিওবস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। এর কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না। কিন্তু রাইবোজোম থাকে। ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। এ সকল কোষীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ আদিকোষী জীবের কোষীয় বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ বলে ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী জীব বলা হয়।
প্রশ্ন-২২. অ্যামিবা কোন রাজ্যের অন্তর্গত? কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮ / কু. বো. ২০১৭
উত্তর: অ্যামিবা প্রোটিস্টা (প্রোটকটিস্টা) রাজ্যের অন্তর্গত। কারণ অ্যামিবার বৈশিষ্ট্য হলো— এরা এককোষী, সুকেন্দ্রিক বা সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, কোষের ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা বেষ্টিত এবং DNA, RNA ও প্রোটিন সমৃদ্ধ, অযৌন ও যৌন জনন বিদ্যমান। এদের যৌন জনন ঘটে সংশ্লেষণ বা কনজুগেশনের মাধ্যমে যা প্রোটিস্টা (প্রোটকটিস্টা) রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রশ্ন-২৩. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে কোন রাজ্যের অণুজীব ব্যবহার করা হয়? ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৮
উত্তর: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া নামক অণুজীব ব্যবহার করা হয়। এরা মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস এবং কলোনিয়াল। এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্যান্য কোষীয় অঙ্গাণু অনুপস্থিত থাকে। সাধারণত দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজিত হয় এবং শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে।
প্রশ্ন-২৪. ছত্রাক খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯
উত্তর: সবুজ উদ্ভিদে ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে। ছত্রাক এক ধরনের মৃতজীবী উদ্ভিদ, যার দেহে সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা অর্থাৎ ক্লোরোফিল থাকে না। এ কারণে ছত্রাক খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না।
প্রশ্ন-২৫. Penicillium প্রকৃতকোষী কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯ / সি. বো. ২০২২
উত্তর: Penicillium প্রকৃতকোষী। কারণ এর নিউক্লিয়াস সুগঠিত, অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিয় বস্তুমূহ পরিবেষ্টিত ও সুগঠিত থাকে। এছাড়াও Penicillium এর কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
প্রশ্ন-২৬. ইস্ট ফানজাই রাজ্যভুক্ত কেন? ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ৯
উত্তর: ইস্টের দেহ এককোষী এবং মৃতজীবী। এর নিউক্লিয়াস সুগঠিত এবং ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি। এর খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফানজাই রাজ্যের। এজন্য ইস্টকে ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন-২৭. মানুষকে হেটারোট্রফিক প্রাণী বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১০ / সি. বো. ২০২৪
উত্তর: উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। মানুষের দেহে এরকম কোনো অঙ্গাণু না থাকায় নিজেরা খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তাই খাদ্যের জন্য অন্য খাদ্য উৎসের উপর নির্ভর করতে হয়। এই কারণে মানুষকে হেটারোট্রফিক জীব বলা হয়।
■ শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপ
প্রশ্ন-২৮. মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১১ / দি. বো. ২০২৩; সি. বো. ২০২০
উত্তর: জীবজগতের প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করার জন্য মূলত জীবের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন জীবের বৈশিষ্ট্যগতভাবে পারস্পরিক মিল অমিলের ভিত্তিতে জীবগুলোকে বিভিন্ন দল ও উপদলে সাজানো হয়। একটি প্রজাতির সকল জীবের মধ্যে পরস্পর মিল সবচেয়ে বেশি থাকবে। Homo গণের sapiens প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হলো এদের চওড়া ও খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য মানুষের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ বলে মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন-২৯. মানুষকে Primate বর্গের প্রাণী বলার কারণ ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১১ / কু. বো. ২০২০
উত্তর: মানুষ অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি জীব। মানুষের কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত রয়েছে। এছাড়া এদের ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য Primate বর্গের অন্তর্গত। এজন্য মানুষকে Primate বর্গের প্রাণী বলা হয়।
■ দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্রশ্ন-৩০. বৈজ্ঞানিক নামকরণ কী? ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২ / রা. বো. ২০২৩
উত্তর: দুটি পদ অর্থাৎ গণ ও প্রজাতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণই হলো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ। এক্ষেত্রে প্রথম অংশটি জীবের গণ নাম ও দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতির নাম হয়। জীবের এ নামকরণের ক্ষেত্রে ICBN ও ICZN এর স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করা হয় যাতে করে সারা বিশ্বে একই নামে জীবটি পরিচিতি পায়।
প্রশ্ন-৩১. দ্বিপদ নামকরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত অসংখ্য জীবকে জানতে জীবের দ্বিপদ নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি সদস্যকে আলাদা আলাদা ভাবে জানতে দ্বিপদ নামকরণ অত্যাবশ্যক। দ্বিপদ নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়, ফলে বিশ্বের সকল ভাষার লোকের কাছে যেকোনো জীবের শনাক্তকরণ সহজতর হয়।
প্রশ্ন-৩২. Binomial Nomenclature কেন পরিচিত? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: Binomial Nomenclature জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য পরিচিত। এই নামকরণে জীবের বৈজ্ঞানিক নামে দুটি অংশ বা পদ থাকে। এদের প্রথম অংশটি হলো গণের নাম এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতির নাম। দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকরণের প্রক্রিয়াই Binomial Nomenclature।
প্রশ্ন-৩৩. ICBN এবং ICZN বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে উদ্ভিদের নাম ICBN কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয় এবং প্রাণীর নাম ICZN কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়। সুতরাং, ICBN হলো উদ্ভিদের নামকরণের একটি নীতির্নির্ধারণী দলিল এবং ICZN হলো প্রাণীর নামকরণের একটি নীতির্নির্ধারণী দলিল। প্রকৃতপক্ষে Code দুটি হলো পুস্তকাকারে লিখিত দলিল।
প্রশ্ন-৩৪. দ্বিপদ নামকরণের ৪টি নিয়ম লেখো। ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: দ্বিপদ নামকরণের ৪টি নিয়ম:
i. নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
ii. নামের দুটি অংশ থাকবে। প্রথমটি গণ নাম ও দ্বিতীয়টি প্রজাতি নাম।
iii. নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষরের এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষরের হবে।
iv. নাম মুদ্রণের সময় ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে।
প্রশ্ন-৩৫. দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝ? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২
উত্তর: একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দু'টি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি হলো প্রজাতি নাম। এরূপ দু'টি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং এ ধরনের নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বলা হয়। যেমন- ধানের দ্বিপদ নামকরণে নির্ধারিত দ্বিপদ নামটি হলো- Oryza sativa। এখানে Oryza গণ নাম এবং sativa প্রজাতির নাম।
প্রশ্ন-৩৬. লিনিয়াসকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২ / দি. বো. ২০২২
উত্তর: সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস তার Systema Naturae নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম দ্বিপদ নামকরণনীতি প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। তিনিই প্রথম এই গ্রন্থে জীবের শ্রেণি, বর্গ, গণ এবং প্রজাতির ধাপগুলো ব্যবহার করেন। তাই ক্যারোলাস লিনিয়াসকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন-৩৭. ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে দ্বিপদ নাম বলা হয় কেন? ◄সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১২ ও ১৩ / য. বো. ২০২৩
উত্তর: জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশ বা পদটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ বা পদটি তার প্রজাতির নাম। এ ধরনের নামকে দ্বিপদ নাম বলে। ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Oryza sativa। এখানে Oryza দ্বারা গণ নাম এবং sativa দ্বারা প্রজাতির নাম বোঝায়। দুটি পদ নিয়ে গঠিত বলে ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে দ্বিপদ নাম বলা হয়।

Post a Comment

0 Comments