Ticker

6/recent/ticker-posts

কপোতাক্ষ নদ (সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান ) _ এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন ১
ছোটোকালে ছিলাম বাঙ্গালিদের বালুচরে,
সাঁতরায়ে নদী পাড়ি দিতাম বারবার এপার হতে ওপারে,
ডিভি লটারি সুযোগ করে দিলে ছুটে চলে যাই আমেরিকায়
কিন্তু আজ মন শুধু ছটফটায় আর শয়নে স্বপনে বাড়ি দিয়ে যায়,
মধুমাখা স্মৃতিগুলো আমাকে কাঁদায়, তবু দেশে আর নাহি ফেরা হয়।
ক. সনেটের ষটকে কী থাকে?
খ. ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার আলোকে তুলে ধরো。
ঘ. “উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতির অন্তরালে যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে তা-ই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব”— কথাটির সত্যতা বিচার করো।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে।
খ. জন্মভূমির যে নদ কবিকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছিল, প্রবাসজীবনে সেই নদের সৌন্দর্যে কবির তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে বোঝানো হয়েছে。

শৈশবে কবি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হয়েছেন, এই নদের বয়ে চলা সান্নিধ্যেই তিনি প্রশান্তি লাভ করেছেন। এই নদই কবিকে মাতৃভূমির সাথে অকৃত্রিম বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। কবি ফ্রান্সে বসবাসরত অবস্থায় অনেক নদনদীর সান্নিধ্যে এলেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। তাই আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষের জলে মনের তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই কবি ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উত্তরের সারবস্তু: জন্মভূমির যে নদ কবিকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছিল, প্রবাসজীবনে সেই নদের সৌন্দর্যে কবির তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে বোঝানো হয়েছে।
গ. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রবাসজীবনে কবির মাতৃভূমির প্রতি প্রেম ও স্মৃতিকাতরতার যে অনুভূতি রূপায়িত হয়েছে উদ্দীপকেও সেই অনুভূতিই প্রতিফলিত হয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রগাঢ় দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি তাঁর প্রবাসজীবনেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা ভুলতে পারেন নি। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতা প্রকাশের মাধ্যমে কবির স্বদেশপ্রীতি ও গভীর ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছে。

উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রবাসজীবনে জন্মভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতা ও স্বদেশপ্রীতি প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাংশের কবি ডিভি লটারি পেয়ে উন্নত জীবনযাপনের আশায় আমেরিকায় চলে যান। প্রবাসজীবনে স্বদেশের মধুময় স্মৃতিগুলো তাঁকে আবেগতাড়িত করলেও দেশে ফিরে আসা সম্ভব হয়ে ওঠে না তাঁর পক্ষে। উদ্দীপকের এ আক্ষেপ পাঠ্য কবিতাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মাতৃভূমির সাথে আর দেখা সম্ভব হবে কি না, এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিবেচনায় উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় একই রকমের অনুভূতি প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রবাসজীবনে কবির দেশপ্রেম ও স্মৃতিকাতরতার যে অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে উদ্দীপকেও সেই অনুভূতিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের বক্তার স্মৃতিকাতরতার অনুভূতির অন্তরালে জন্মভূমিপ্রীতির ভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবেও সে বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে。

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। জন্মভূমির প্রকৃতি ও কপোতাক্ষ নদ কবিমনে যে গভীর রেখাপাত করেছে, তারই স্মৃতি কবিমনকে প্রবাসজীবনেও ব্যথিত করে রেখেছে। আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত কবির এই দেশাত্মবোধের অনুভূতি উদ্দীপকের কবিতাংশেও প্রতিফলিত হয়েছে। আর তার মূলে রয়েছে দেশপ্রেম。

উদ্দীপকের কবিতাংশের বক্তা প্রবাসজীবনে জন্মভূমিতে কাটানো মধুর দিনগুলোর স্মৃতিতে কাতর। এই অনুভূতির অন্তরালেও রয়েছে দেশাত্মবোধের চেতনা। উন্নত জীবনযাপনের জন্য বা ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যাশায় অনেকেই দেশ ত্যাগ করে। দেশ ত্যাগ করলেও মানুষের মনে দেশাত্মবোধের চেতনা থেকেই যায়। দেশের বাইরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জন্মভূমিকে নিয়ে স্মৃতিকাতরতা ও জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার আক্ষেপ ছাড়া তখন আর কিছুই করার থাকে না。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি প্রবাসজীবনে বসে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের প্রতি গভীর ভাবানুভূতির রূপায়ণ ঘটিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জন্মভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতার আড়ালে কবির দেশাত্মবোধই প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশটিতেও কবি বাংলা ও বাঙালিদের নিয়ে যেভাবে স্মৃতিতাড়িত হয়েছেন তার অন্তরালেও রয়েছে কবিমনের দুর্বার দেশপ্রেম। সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতির অন্তরালে যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে, তা-ই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব— কথাটি পুরোপুরি সত্য।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের বক্তার স্মৃতিকাতরতার অনুভূতির অন্তরালে জন্মভূমিপ্রীতির যে ভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবেও সেই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
(i) সুরমার তীরে হয়নি বসা
সে তো অনেক কাল
হয় না দেখা উত্তাল হাওয়ায়
উড়ছে নায়ের পাল。

(ii) একটা নদী কলকলিয়ে দুলদুলিয়ে চলে
দুই কূলে তার দুঃখ, সুখের হাজার কথা বলে。
রাগলে নদী গর্জনে তার বুক কাঁপে থরথর
শান্ত হলে অনেক সুখে জাগায় বুকে চর。
চরের বুকে বাঁধলে সে ঘর প্রাণের মেলায় ঘাসে
শান্ত নদী যমুনা সে জীবন ভালোবাসে।
ক. সনেটের অষ্টকে কী থাকে?
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!’— বুঝিয়ে লেখো。
গ. উদ্দীপকের (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকের (ii)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।”— উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে।
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এসময় তিনি কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলে কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি নিজের আত্মতৃপ্তির বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন।
গ. উদ্দীপক (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে। কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ কবির মনে স্থায়ী আসন লাভে সমর্থ হয়েছে। জন্মভূমি থেকে সুদূর প্রবাসে গিয়েও কবি ভুলতে পারেননি কপোতাক্ষ নদকে। সেখানে বসেই যেন তিনি কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তিনি অনেক নদনদী দেখলেও কপোতাক্ষ নদের ন্যায় স্নেহাদরে ভরপুর জলধারা কোথাও পাননি; এ যেন মাতৃদুগ্ধের ধারা。

উদ্দীপক (i)-এ সুরমা নদী নিয়ে স্মৃতিকাতর জনৈক কবির স্মৃতিচারণা লক্ষ করা যায়। কবি অনেক কাল আগে সুরমার তীরে সময় কাটালেও এখন তা শুধুই স্মৃতি। নদীর উথালপাথাল ঢেউয়ে পালতোলা নৌকার মোহনীয় দৃশ্যও আর দেখা হয়বিধা। তাঁর এ স্মৃতিকাতরতা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতাকে মনে করিয়ে দেয়। উভয় কবিই স্মৃতিকাতরতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক (i) এ স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত কবির স্মৃতিকাতরতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
ঘ. জনজীবনের সাথে নদীর গভীর সম্পৃক্ততা বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যকে যথার্থ বলা যায়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে কবির অত্যুজ্জ্বল স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। বঙ্গভূমি ও বঙ্গজ জন বা বাঙালি জাতির সাথে কবি ও তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের গভীর মিতালি। তাইতো প্রবাসী কবি নদীর মাধ্যমে নিজের আবেগ-অনুভূতির কথা স্বজাতির কাছে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হয়েছেন। কপোতাক্ষ নদের সাথে মিতালির সম্পর্ক বজায় রেখে এর বিস্তৃত দুপারের মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন সে মৈত্রীর বাণী。

উদ্দীপক (ii)-এ যমুনা নদীর কলকলিয়ে বয়ে চলার পাশাপাশি এর জলবিধৌত অঞ্চলের মানুষের সাথে নদীর গভীর সখ্যের কথা ফুটে উঠেছে। মানুষের সুখ-দুঃখ, কান্না-হাসি সবকিছু যেন নদীর সাথে একাকার হয়ে যায়। নদী কখনো শান্ত-স্নিগ্ধ আবার কখনো ফুঁসে ওঠে। তবে এসবই জীবনের ভিন্ন রূপ বৈ তো নয়。

যদিও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব দেশাত্মবোধকে ফুটিয়ে তোলার বৈশিষ্ট্যে অনন্য, তথাপি জনজীবনের সাথে নদের গভীর মিতালিও তারই বহিঃপ্রকাশ। উদ্দীপক (ii) ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা উভয় স্থানেই জনজীবনের সাথে নদীর গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। দেশাত্মবোধ তো আসলে জনজীবনের সম্পৃক্ততাই, সেই বিবেচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের (ii)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা ও উদ্দীপক (ii) উভয়ক্ষেত্রেই নদীর অন্তরালে মাতৃভূমির প্রতি কবিদ্বয়ের গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
আরাফ আর আয়মান যেন একবৃন্তে দুইটি কুসুম। এইচএসসি পাশের পর দুজনই ভর্তি হলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নের বুয়েটে। এর মধ্যে আয়মান আমেরিকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজখবর নেয়— কারণ, বুয়েট শেষ করে সে আমেরিকা পাড়ি জমাতে চায়। কিন্তু আরাফের এককথা পড়াশোনা শেষ করে সে দেশেই থাকবে। যা করবে দেশের জন্যই করবে— এভাবে সবাই দেশ ছেড়ে গেলে দেশই-বা কীভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করবে? আজ আয়মান আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে দেশের বিস্তীর্ণ মাঠ, অবারিত ধানখেত, বন্ধুবান্ধব, ছুটোছুটি এসবের মধ্যে। আরাফের সাথে কথা বললেই সে তার ফেলে যাওয়া সবকিছু নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কীরূপ?
খ. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদকে দুগ্ধ-স্রোতোরূপী বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের শেষাংশে আয়মানের মাধ্যমে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মনোভাবের কোন বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকের আরাফ ও আয়মান ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রতিফলিত মূল চেতনাকেই ধারণ করে আছে।”— বিশ্লেষণ করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস হলো— কখকখ কখখক।
খ. জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে কপোতাক্ষ নদকে কবি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন。

প্রবাসে থাকাকালীন কবি জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেছেন। শৈশব-কৈশোরের মধুর স্মৃতি কবির মনকে আচ্ছন্ন করেছিল। কবি বহু দেশ ঘুরে ঘুরে বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু নিজের দেশের মতো অনুভূতি কোথাও পাননি। কোনো জলেই তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ হয়নি। শিশু যেমন মায়ের দুগ্ধ পান করেই তৃপ্তি পায় বা তৃষ্ণা মেটায় তেমনি কবি শুধু কপোতাক্ষের জলেই তাঁর তৃষ্ণা মেটাতে চান।
উত্তরের সারবস্তু: কপোতাক্ষ নদকে কবি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে।
গ. উদ্দীপকের শেষাংশে আয়মানের মাধ্যমে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতর দেশপ্রেমী মানসিকতার বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আড়ালে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। যখন তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন, তখন জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের বেদনা-বিধুর স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়েছে ব্যাকুলতা। দূরে বসেও তিনি কপোতাক্ষ নদের মায়া ভুলতে পারেননি। কত দেশে কত নদনদী কবি দেখেছেন, কিন্তু জন্মভূমির এই নদ যেন মায়ের স্নেহডোরে তাঁকে বেঁধেছিল। কবির মনে সন্দেহ জাগে, আর এই নদের দেখা তিনি পাবেন কি না。

উদ্দীপকের আয়মান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আমেরিকায় পাড়ি জমায়। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে নিজ দেশের প্রকৃতি-পরিবেশের মাঝে। প্রবাসে গিয়ে বারবার তার দেশের বিস্তীর্ণ মাঠ, অবারিত ধানখেত, বন্ধুবান্ধব ও ছুটোছুটির কথা মনে পড়ে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাতেও জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবির স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে সুগভীর দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। তাঁর এ অনুরাগের কারণ শৈশবে এ নদের তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশেই তিনি বড়ো হয়েছেন। প্রবাসজীবনেও কবি এ নদের কথা ভুলতে পারেননি। তাই বলা যায়, স্মৃতিকাতর দেশপ্রেমী মানসিকতার দিকটি উদ্দীপকের আয়মান এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মনোভাবে ফুটে উঠেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা ভেবে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। একইভাবে উদ্দীপকের আয়মানও দেশের কথা ভেবে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে।
ঘ. উদ্দীপকের আরাফ ও আয়মান ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রতিফলিত প্রবল দেশপ্রেমের মূল চেতনাকেই ধারণ করে আছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মধুসূদন দত্ত তাঁর স্মৃতিকাতরতা ও দেশপ্রেমী মানসিকতাকেই প্রকাশ করেছেন। মধুসূদন দত্ত কপোতাক্ষ নদের তীরে প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হয়েছেন। তাই ফ্রান্সে বসবাসকালে মাতৃভূমির স্মৃতি তাঁর কাছে বেদনা-বিধুর হয়ে ধরা দিয়েছে। দূরে বসেও তিনি যেন কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কপোতাক্ষ নদের কাছে তাঁর সবিনয় মিনতি—বন্ধু ভাবে তাঁকে তিনি স্নেহাদরে যেমন স্মরণ করেন, তেমনি কপোতাক্ষও যেন তাঁকে স্মরণ করে এবং বঙ্গবাসীদের কাছে কবি হৃদয়ের কাতরতার বাণী পৌঁছে দেয়。

উদ্দীপকের আরাফ ও আয়মান দুইজনের মধ্যেই দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। এইচএসসি পাশের পর বুয়েটে ভর্তি হয়ে আয়মান আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজখবর নেয়। কিন্তু আরাফ দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ে স্বদেশ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আয়মান আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত হলেও তার মন পড়ে থাকে নিজ দেশে। সেখানে গিয়ে সে এক মুহূর্তের জন্যও নিজ দেশের বিস্তীর্ণ মাঠ, অবারিত ধানখেত, বন্ধুবান্ধব, ছুটোছুটি ভুলতে পারেনি। আরাফের সাথে কথা বললে এসব নিয়ে সে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। এতে আরাফ ও আয়মান উভয়ের প্রবল দেশপ্রেমের চেতনা প্রস্ফুটিত হয়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মানসিকতায়ও স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে প্রবল দেশপ্রেম লক্ষ করা যায়। কবিতায় মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের প্রতি কবিহৃদয়ের অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসী কবি শৈশবের চিরচেনা এই নদের সান্নিধ্য লাভের জন্য কাতর হয়েছেন। তাঁর সে কাতরতা এবং বিচ্ছেদ বেদনা কবিতাটির ছত্রে ছত্রে প্রকাশিত হয়েছে, যা কবির অকৃত্রিম দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। একই অনুভূতির প্রকাশ আমরা উদ্দীপকেও লক্ষ করি। সেখানেও আরাফ ও আয়মান উভয়ই স্বদেশের প্রেমে গভীরভাবে আবদ্ধ। আরাফ স্বদেশের টানে বিদেশের উন্নত জীবন বেছে নেয়নি। অন্যদিকে আয়মান আমেরিকায় পাড়ি জমালেও স্বদেশের প্রকৃতি পরিবেশের মায়ায় আপ্লুত হয়। তাই বলা যায়, তারা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রতিফলিত প্রবল দেশপ্রেমের মূল চেতনা ধারণ করে আছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের আরাফ ও আয়মান স্বদেশের প্রেমে গভীরভাবে আবদ্ধ যা মূলত কপোতাক্ষ নদের মূল চেতনারই ধারক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লি মায়ের কোল
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল,
কুলের কাঁটার, আঘাত সইয়া কাঁচা-পাকা কুল খেয়ে
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালি মেয়ে。
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে
আরও উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কোনটি?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা?’— কবি এ কথা বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্যগত অনুভূতি ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতির অন্তরালে যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে তা-ই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির মূল চেতনা।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য’।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতার জন্যই কবি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতরতার চিত্রের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অনুভূতিগত সাদৃশ্য রয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। কবি ফ্রান্সে থাকাকালীন বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু তাঁর শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের মতো কেউই তাকে মায়ের স্নেহডোরে বাঁধতে পারেনি। সুদূর প্রবাসে বসে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গভীর মমতায় তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে স্মরণ করেছেন। তিনি যেন সেখানে বসে কপোতাক্ষের কল কল ধ্বনি শুনতে পান。

উদ্দীপকেও গ্রাম প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠার স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে। ছোটোবেলায় গাছের ডালে দোল খাওয়া; কাঁটার আঘাত সহ্য করে কুল খাওয়া, পৌষ পার্বণে পিঠা খাওয়া ও মায়ের বকুনি খাওয়ার মধুর স্মৃতির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে যেভাবে স্মৃতিচারণ করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই কবি ফ্রান্সে বসে মাতৃভূমির কথা ভেবেছেন। এখানেই উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকেও কবির স্মৃতিকাতরতার বিষয়টিই প্রাধান্য লাভ করেছে।
ঘ. “উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতির অন্তরালে স্মৃতিকাতরতার যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে তাই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির মূল চেতনা।”— মন্তব্যটি যথার্থ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি সুদূর প্রবাসে বসে নিজ দেশের কথা ভেবেছেন। কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে তিনি স্মৃতিকাতরতায় জর্জরিত হয়েছেন। দেশ-বিদেশে অনেক নদনদী দেখলেও কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁকে গভীর মমতায় কাছে আটকে রাখে। এখানে মূলত কবির দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসে বসে তিনি গভীর মমতায় তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে স্মরণ করেছেন。

উদ্দীপকে কবির ছোটবেলার মধুর স্মৃতি ফুটে উঠেছে। ঝাউয়ের ডালে লতা বেঁধে দোল খাওয়া, কুল খাওয়ার আনন্দে কাঁটার আঘাত ভুলে যাওয়া, পিঠা খাওয়ার আনন্দ, ছোটোখাটো কারণে মায়ের বকুনি খাওয়া এসব স্মৃতি যেন তাঁর পল্লিমাযের প্রতি ভালোবাসার দিকই ইঙ্গিত করে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি সুদূর প্রবাসে বসেও ভেবেছেন তাঁর শৈশবের কথা। যে নদের সাথে তাঁর জীবনের বহু স্মৃতি জড়িত সেই ‘কপোতাক্ষ নদ’ এর কথা স্মরণ করছেন। কবি এখানে মাতৃভূমির প্রতি অগাধ টান অনুভব করছেন। কবি ফ্রান্সে অনেক কিছুই দেখেছেন কিন্তু মাতৃভূমির সৌন্দর্যের মতো কোনো সৌন্দর্যই তাঁর চোখে ধরা পড়েনি। একইভাবে উদ্দীপকের কবি যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তিনি তাঁর শৈশব স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম-প্রকৃতিকে ভুলতে পারছেন না। অর্থাৎ উদ্দীপকে যে দেশপ্রেমের চেতনা রয়েছে তাই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনা।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতর অনুভূতিই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
স্তবক-১: একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়。
যেথায় কোকিল ডাকে কুহু
দোয়েল ডাকে মুহু মুহু
নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়。

স্তবক-২: মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম,
তার চেয়ে রত্ন নাহি আর。
সুধাকরে কত সুধা, দূর করে তৃষা ক্ষুধা;
স্বদেশের শুভ সমাচার।
ক. সনেটের কোন অংশে ভাবের প্রবর্তনা থাকে?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা?’— এ অংশে কবিমনের অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা করো。
গ. স্তবক-১ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে ভাবের ইঙ্গিত বহন করে তা ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “স্তবক-২ যেন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনাকেই ধারণ করেছে।”— মূল্যায়ন করো।
৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতার জন্যই কবি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গ. স্তবক-১ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার স্মৃতিকাতরতার ভাবের ইঙ্গিত বহন করে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে। কবি প্রবাসে থাকলেও তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। মায়া-মন্ত্র-ধ্বনির মতো তিনি কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান, সর্বদা তার মনে জাগরূক এ নদী। বিশ্বের অনেক নদনদীর সংস্পর্শে এলেও মাতৃভূমির বুকে বয়ে চলা এ নদের মাতৃদুগ্ধরূপী স্নেহছায়া কবির স্মৃতিতে চির অম্লান。

স্তবক-১-এ কবির ছোট্ট সোনার গাঁয়ে যাওয়ার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। অন্তত একবারের জন্য হলেও তিনি সেখানে যেতে চান। সে গাঁয়ে কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু, নদী ছুটে চলে আপন ঠিকানায়। এসকল দৃশ্য স্তবক-১-এর কবিকে বারবার স্মৃতিকাতর করে তোলে। ঠিক তেমনি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও কবি কপোতাক্ষ নদ অর্থাৎ মাতৃভূমির স্মৃতিতে আকুল হয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: স্তবক-১ স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত স্মৃতিকাতরতার ভাবটিকেই ইঙ্গিত করে।
ঘ. স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হওয়ায় স্তবক-২ যেন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনাকেই ধারণ করেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতা প্রকাশিত হলেও এর অন্তরালে মূলত কবির অত্যুজ্জ্বল স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত নদকে কবি যেমন ভুলতে পারেননি, তেমনি এ দেশ ও দেশের মানুষের সাথেও রয়েছে কবির আত্মিক বন্ধন। তাইতো কবি কপোতাক্ষ নদ কবিতার মাধ্যমে বঙ্গবাসীর কানে তাঁর স্বদেশপ্রীতির কথা পৌঁছে দিতে প্রয়াসী হয়েছেন。

স্তবক-২-এ কবি স্বদেশপ্রেমের তুলনায় মণি-মুক্তা-হেম মূল্যবান বস্তুসমূহের তুচ্ছতা তুলে ধরে স্বদেশপ্রেমকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেছেন। তাঁর মতে, স্বদেশপ্রেম সবচেয়ে দামি রত্ন। স্বদেশের যেকোনো শুভ সমাচার বা বার্তা কবির সকল তৃষ্ণা দূর করে দেয়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদের সাথে কল্পিত কথোপকথনে স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বদেশত্যাগী হয়েও স্বদেশকে ভুলতে পারেননি এক মুহূর্তের জন্য। স্তবক-২ এও একই অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। এক্ষেত্রে বক্তব্য স্বতন্ত্র হলেও স্বদেশপ্রেমের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে উভয়ই অনন্য। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।
উত্তরের সারবস্তু: মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভাবাবেগের কারণে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনাকেই স্তবক-২ ধারণ করেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
উদ্দীপক-১: আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ওই পারে
যেথায় ধারে ধারে
বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকা
বাঁধা সারে সারে。

উদ্দীপক-২: ওগো আমার জন্মভূমি, ওগো অপরূপা
ফিরে কী আর পাব তোমায়?
এ বিদেশ, বিভুঁয়ে তোমারে স্মরি আনমনে
আঁখি মুছি সযতনে
তবু আশা পারি না ছাড়িতে,
বেঁধে রেখেছ যে মা, তোমার স্নেহডোরে।
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কী?
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!’— চরণটি ব্যাখ্যা করো。
গ. উদ্দীপক-১-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপক-২ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির মনোভাব একই সূত্রে গাঁথা।”— বিশ্লেষণ করো।
৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কখকখ কখখক।
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি ছেলেবেলার স্মৃতিজড়িত কপোতাক্ষ নদের প্রতিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলে কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি প্রবাসে বসেও যে নিজের আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন, সে বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপক-১-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মাতৃভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। কবি যৌবনে ইংরেজি সাহিত্যের চর্চায় মনোনিবেশ করে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ, দেশমাতৃকা ও ভাষাকে ত্যাগ করে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। কিন্তু কবির খ্যাতিলাভের মোহভঙ্গ হওয়ার পরে তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কাছে ফিরে যেতে চান। কপোতাক্ষ নদের জলে অঙ্গ জুড়ানোর সেই স্মৃতিকে তিনি ফিরে পেতে চান। সুদূরে বসে কবির মাতৃভূমির স্মৃতিঘেরা কপোতাক্ষ নদের কাছে ফিরে আসতে চান。

উদ্দীপকেও স্মৃতিকাতরতার আবরণে জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এখানে কবিও তাঁর স্মৃতিঘেরা নদীতে ছুটে যেতে চান। সেই নদীর ঘাট যেখানে সারি সারি নৌকা বাঁধা আছে। কবি নদীর ঘাটে নৌকায় চড়ে দিগন্তে বেরিয়ে পড়তে চান। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মাতৃভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার অনুভূতির সাথে উদ্দীপকের ভাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশে প্রকাশিত কবির অনুভূতি এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির আত্মভাবনার উপলব্ধি একই সূত্রে গাঁথা。

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসরত অবস্থায় জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের বেদনা-বিধুর স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়েছে কাতরতা। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতরতা প্রকাশের মাধ্যমে কবির স্বদেশপ্রেম ও গভীর ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়。

উদ্দীপক-২-এ কবি স্মৃতিকাতরতার আবরণে দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় আচ্ছন্ন। আলোচ্য কবিতায় জন্মভূমির প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত কবি আর জন্মভূমির দেখা পাবেন কি না এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। কবি তবুও আশা করেন মায়ের স্নেহডোরে বাঁধা জন্মভূমিতে তিনি ফিরবেন。

উদ্দীপক-২ এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির দেশাত্মবোধ ও স্মৃতিকাতরতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। উভয় অংশের কবিই স্মৃতিবিজড়িত স্থানের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাবেন কি না, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই আশঙ্কা থেকেই তাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কপোতাক্ষ নদ কিংবা জন্মভূমির সঙ্গে সাক্ষাতের আশা ব্যক্ত করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-২ এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মনোভাব একই সূত্রে গাঁথা।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাতৃভূমির সাথে কবির মিলনের শঙ্কা এবং প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশেও তাই প্রকাশ পেয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
উদ্দীপক-১: ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে-ঘেরা。

উদ্দীপক-২: ‘হাটে মাঠে বাটে এই মতো কাটে বছর পনেরো-ষোলো
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হলো。
অবারিত মাঠ, গগন ললাট চুমে তব পদধূলি—
ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।’
ক. ‘সনেট’-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?
খ. ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
গ. উদ্দীপক-২-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো。
ঘ. “উদ্দীপক-১ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের নামান্তর।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘সনেট’-এর বাংলা প্রতিশব্দ চতুর্দশপদী কবিতা।
খ. জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে কপোতাক্ষ নদকে কবি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন。

প্রবাসে থাকাকালীন কবি জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেছেন। শৈশব-কৈশোরের মধুর স্মৃতি কবির মনকে আচ্ছন্ন করেছিল। কবি বহু দেশ ঘুরে ঘুরে বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু নিজের দেশের নদীর মতো অনুভূতি কোথাও পাননি। একজন মা যেমন তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড়ো করে তোলে, নদীও তেমনই। কোনো জলেই তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ হয়নি। শিশু যেমন মায়ের দুগ্ধ পান করেই তৃপ্তি পায় বা তৃষ্ণা মেটায় তেমনি কবি শুধু কপোতাক্ষের জলেই তাঁর তৃষ্ণা মেটাতে চান।
উত্তরের সারবস্তু: প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা কবি কপোতাক্ষ নদের জলকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গ. উদ্দীপক-২-এ প্রকাশিত ভাবটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির ফেলে আসা স্মৃতি জেগে ওঠার দিকটি নির্দেশ করে。

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি শৈশবস্মৃতি স্মরণ করে কাতর হন। প্রবাসে থাকাকালেও তাঁর মনে পড়ে শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলো। কপোতাক্ষ নদের তীরে কাটানো সময়গুলো তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়。

উদ্দীপক-২-এর কবিতাংশেও অতীতের স্মৃতিকাতর মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। এ কবিতাংশে কবি অতীতের স্মৃতি মনে করে বেদনায় কাতর হয়েছেন। যেখানে আদর-আহ্লাদে পরম সুখে সময়গুলো কেটেছে। সে সময়কার স্মৃতি কবির জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আলোচ্য কবিতায়ও কবি শৈশবের স্মৃতিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। দেশ থেকে বহুদূরে থাকলেও তিনি তাঁর ছোটোবেলার সময়গুলো ভুলে থাকতে পারেন না। কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি তাঁকে বারবার আনমনা করে। হারানো স্মৃতি স্মরণ করার দিক থেকে উদ্দীপক-২ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাকে একই সূত্রে গ্রথিত করে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক-২ এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় হারানো স্মৃতি স্মরণ করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপক-১ স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবেরই নামান্তর。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার মাধ্যমে কবির স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এ নদ কবির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত। তাই সুদূর প্রবাসজীবনে কবি ভুলতে পারেননি তাঁর প্রিয় নদকে। এ নদের স্মৃতি তাঁকে প্রতিনিয়ত কাতর করে তুলেছে。

উদ্দীপক-১-এ স্বদেশপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের কবির কাছে নিজের দেশের চেয়ে সুন্দর আর কোনো দেশকেই মনে হয় না। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও সম্পদে ভরপুর কবির এ স্বদেশ। স্বপ্ন ও স্মৃতি দিয়েই কবির এ চিরসৌন্দর্যের দেশ গড়া。

উদ্দীপকে এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্বদেশকে নিয়ে ব্যক্তিমানুষের যে আবেগ-ভালোবাসা, তা প্রকাশ পেয়েছে। জন্মভূমির স্থান সব কিছুর ঊর্ধ্বে। স্বদেশের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। উভয় কবি স্বদেশপ্রেমে নিমগ্ন। স্বদেশকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসিয়ে তার জন্য যে ব্যাকুলতা, যে আর্তি তা ফুটে উঠেছে উদ্দীপক-১ ও আলোচ্য কবিতার মূলভাবে। এ যেন স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। তাই এ কথা সন্দেহাতীত যে, উদ্দীপক-১ ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব এক।
উত্তরের সারবস্তু: মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভূতির দিক থেকে উদ্দীপক-১ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের নামান্তর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৮
আমাদের দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান。
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবন প্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে,
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা—
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা।
ক. সনেটের অষ্টকে কী থাকে?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা?’— কবি এরূপ সংশয় প্রকাশ করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত সাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বিশেষ দিকের সাদৃশ্য থাকলেও আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।”— মন্তব্যটির যৌক্তিক মূল্যায়ন করো।
৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের অষ্টকে থাকে ভাবের প্রবর্তনা।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: কবি ফ্রান্সে বসে এই সনেটটি রচনার সময় স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতায় এ চরণটি ব্যক্ত করেছেন।
গ. উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো মাতৃভূমির সঙ্গে একাত্মতার বোধ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। মাতৃভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এজন্য সুদূর প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি দেশকে, দেশের মানুষকে ভুলতে পারেননি। প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে তাঁর সেই হৃদয়াবেগকেই প্রকাশ করেছেন。

উদ্দীপকের কবিতাংশে দেশমাতৃকার সঙ্গে কবির একাত্মতার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। সে বোধ থেকেই কবি মনে করেন, মাতৃভূমির মাটির সঙ্গে যেন তাঁর প্রাণস্পন্দন মিশে আছে। শুধু তা-ই নয়, এ মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি গৌরবময় জীবনের সন্ধান লাভ করেন। একইভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও তাঁর মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। সে ভালোবাসা থেকেই তিনি মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কপোতাক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। স্বদেশের প্রতি মমত্ব ও একাত্মতার অনুভবই কবির এমন অনুভূতির কারণ। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. মাতৃভূমির প্রতি মমত্ব ও একাত্মতার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মিল থাকলেও আঙ্গিক বা চেতনাগত দিক থেকে পার্থক্য লক্ষ করা যায়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের আশায় ফ্রান্সে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ তথা নিজ মাতৃভূমিকে বিস্মৃত করতে পারেননি। আর তাই প্রতিমুহূর্তে প্রিয় কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন তিনি。

উদ্দীপকের কবিতাংশে মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। সে ভালোবাসা থেকেই কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন তুলে ধরেছেন। কেননা, মাতৃভূমির সঙ্গে আমাদের প্রাণের সম্পর্ক বিদ্যমান। এর সঙ্গে আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা জড়িয়ে রয়েছে। এ কারণেই মাতৃভূমির মাটি বা মাতৃভাষা আমাদের কাছে এত মধুর লাগে। মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি কবির এই মমত্ববোধের দিকটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাতেও একইভাবে ফুটে উঠেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবির দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এ কবিতায় শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে কবি তাঁর হৃদয়াবেগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বস্তুত, কবিতাটিতে কপোতাক্ষ হাজির হয়েছে কবির ভাব প্রকাশের বাহন হিসেবে। স্মৃতিময় এ নদকে ঘিরেই কবি জন্মভূমির প্রতি তাঁর হৃদয়ের কাতরতাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে কেবল মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও মাতৃভূমির বন্দনা করা হয়েছে। সেখানে আলোচ্য কবিতার মতো স্মৃতিকাতরতা বা সংশয় প্রকাশ পায়নি। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয় ক্ষেত্রে দেশপ্রেম প্রকাশিত হলেও এগুলোর মধ্যে চেতনাগত পার্থক্য বিদ্যমান। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদের’ মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও স্মৃতিকাতরতা দিকটি উঠে আসেনি। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৯
(i) তোমরা যেখানে সাধ চ’লে যাও-আমি এই বাংলার
পারে র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে,
(ii) চ’লে যায় কুয়াশায়,-তবু জানি কোনোদিন পৃথিবী
ভিড়ে হারাব না তারে আমি-সে যে আছে আমার
এ বাংলার তীরে।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কী?
খ. ‘কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপক (ii)-এ ফুটে ওঠা দিকটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন নয়।”— যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য’।
খ. উদ্ধৃত চরণের মাধ্যমে কবি কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর মাতৃপ্রতিম স্নেহাভিলাষ ও দেশপ্রেম বুঝিয়েছেন。

কবি দেশ ত্যাগ করে প্রবাসে থেকেছেন দীর্ঘসময়। সেখানে বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণে তিনি অনেক নদ-নদীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। কিন্তু তারা কেউই কবির অন্তরের তৃষ্ণা মেটাতে সমর্থ হয়নি। কারণ, একমাত্র কপোতাক্ষকে তিনি মাতৃরূপে বন্দনা করেন যা তাঁর দেশপ্রেমেরও স্মারক। এ কারণে এ নদের স্নেহরূপ বারিধারাই কেবল তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে।
উত্তরের সারবস্তু: একমাত্র কপোতাক্ষ নদ ছাড়া অন্য কোনো নদনদী কবির তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
গ. উদ্দীপক (i)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার দেশপ্রেমের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আড়ালে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। জন্মভূমির প্রকৃতি ও কপোতাক্ষ নদ কবি মনে যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তারই স্মৃতি কবিমনকে প্রবাসজীবনে ব্যথিত করে রেখেছে। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষ নদের প্রতি কাতরতা প্রকাশের মাধ্যমে কবির স্বদেশপ্রীতি ও গভীর ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছে。

উদ্দীপকের (i)-এ কবি স্বদেশের প্রতি তাঁর সুগভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। অন্যরা কোথাও চলে গেলেও কবি তাঁর জন্মভূমি ছেড়ে কোথাও যাবেন না। বাংলাতেই তিনি থেকে যাবেন। ভোরের বাতাসে কাঁঠালপাতা ঝরে পড়ার মতো সৌন্দর্য তিনি উপভোগ করবেন দুইচোখ ভরে। অন্যদিকে, মাইকেল মধুসূদন দত্তও সর্বদা কপোতাক্ষ নদকে স্মরণের মাধ্যমে তাঁর দেশপ্রেমেরই প্রকাশ করেছেন। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় দেশের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে তারই প্রতিফলন উদ্দীপক (i)-এ ও ফুটে উঠেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ এবং উদ্দীপকে উভয়ক্ষেত্রেই মাতৃভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার দেশপ্রেম ও স্মৃতিকাতরতার দিকটি উদ্দীপক ধারণ করলেও নদের প্রতি কবির আকাঙ্ক্ষা ও বঙ্গবাসীদের প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত বলে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রতিফলিত করেনি。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর সুগভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রবাসে থেকেও মায়ামন্ত্রধ্বনির মতো কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কত দেশে, কত নদনদী তিনি দেখেছেন, কিন্তু জন্মভূমির এই নদ যেন মায়ের স্নেহডোরে তাঁকে বেঁধেছে, কিছুতেই তিনি তাকে ভুলতে পারছেন না। তাই তিনি কপোতাক্ষ নদকে অনুরোধ করেছেন যখন বঙ্গবাসীর পাশ দিয়ে বয়ে যাবে, তখন যেন তাঁর কথা সে বঙ্গবাসীকে জানিয়ে দেয়। বস্তুত, কপোতাক্ষ নদের মাধ্যমে কবি তাঁর সুগভীর স্বদেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন。

উদ্দীপক (ii)-এ স্বচ্ছন্দ পরিসরে বাংলার প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া হারানোর বেদনা তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে ওঠেনি। এই পৃথিবীর ভিড়েও তিনি স্মৃতির জগতে হারানো সুখ খুঁজে পেয়েছেন তাঁর নিজ জন্মভূমিতে。

উদ্দীপক (ii)-এ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার দেশপ্রেম এবং স্মৃতিকাতরতার দিকটি সুস্পষ্ট। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় বিচিত্র বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। কবি কপোতাক্ষ নদকে তাঁর সখা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নদের কাছে মিনতি করেন, এই নদ যেন তাঁর কথা বঙ্গবাসীকে পৌঁছে দেয়। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবাসীর প্রতিও কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii)-এ ফুটে ওঠা দিকটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাবের প্রতিফলন নয়, আংশিক প্রতিফলন।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার নদের প্রতি কবির আকাঙ্ক্ষা ও বঙ্গবাসীদের প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটি অনুপস্থিত। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১০
বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লিমাযের কোল;
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল;
কুলের কাঁটার আঘাত সহিয়া কাঁচাপাকা কুল খেয়ে
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালি মেয়ে
ক. সনেটের ষটকে কী থাকে?
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর অভিন্ন।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে।
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলে কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি নিজের আত্মতৃপ্তির বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন।
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতরতার চিত্রের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অনুভূতিগত সাদৃশ্য রয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির উজ্জ্বল দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। কবি ফ্রান্সে থাকাকালীন বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু তাঁর শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের মতো কোনো নদ তাঁর চোখে পড়েনি। প্রবাসে বসে তিনি গভীর মমতায় তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে স্মরণ করেছেন। তিনি যেন সেখানে বসে কপোতাক্ষের কল কল ধ্বনি শুনতে পান。

উদ্দীপকেও গ্রাম প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠার স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে। ছোটোবেলায় গাছের ডালে দোল খাওয়া, কাঁটার আঘাত সহ্য করে কুল খাওয়া, পৌষ পার্বণে পিঠা খাওয়া ও মায়ের বকুনি খাওয়ার মধুর স্মৃতির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে যেভাবে স্মৃতিচারণ করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই কবি ফ্রান্সে বসে মাতৃভূমির কথা ভেবেছেন। এখানেই উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতরতার চিত্রের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অনুভূতিগত সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর অভিন্ন।”— মন্তব্যটি যথার্থ কারণ উভয় স্থানে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিচারণার অন্তরালে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি ভাষাকে ভালোবেসে ইংরেজি সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশায় প্রবাসে পাড়ি জমান। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে তাঁর স্বপ্নভঙ্গ হয়। তাই প্রবাসে বসে তিনি সর্বদা তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা স্মরণ করেন। কপোতাক্ষ নদকে তিনি মাতৃজ্ঞানে ভক্তি করেন। কপোতাক্ষ নদের জল যেভাবে কবির পিপাসা মেটাত সেভাবে অন্য কোনো নদীর জল কবির পিপাসা মেটাতে পারে না। তাই তিনি প্রবাসে বসে জন্মভূমির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে সর্বদা মনে করেন。

উদ্দীপকেও জন্মভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতা ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পল্লিগ্রামকে খুবই ভালোবাসেন। পল্লিগ্রামের সঙ্গে মিশে থাকা স্মৃতিগুলো তাঁর কাছে মধুর মনে হয়। জন্মভূমির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো অমৃতের মতো মনে হয়। পল্লিমাযের সেই কোল, ঝাউশাখে দোল খাওয়া, কাঁচাপাকা কুল কবির স্মৃতিতে অক্ষয় ও অমলিন。

উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ কবিতার আলোকে বলা যায় যে, উভয় কবিতার মূলসুর এক ও অভিন্ন। উভয় স্থানে জন্মভূমি তথা মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। উভয় কবির স্মৃতিতে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভূমির রূপলাবণ্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। উভয় কবিই তাঁর জন্মভূমির সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর অভিন্ন।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় উভয়স্থানেই মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ব্যক্ত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১১
দৃশ্যকল্প-১: আজও আশা রাখি দেখা হবে বাল্যবন্ধুর
সাথে আবার জমবে আড্ডা মনুমিয়ার চায়ের
দোকানে, বন্ধু তোরা কে কোথায় আছিস?
চল এক হই বীরের বেশে একতার বলে
বিশ্ব করি জয়。

দৃশ্যকল্প-২: ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে
ভরে আছে এই মন
শ্যামল কোমল পরশ ছাড়া যে
নেই কিছু প্রয়োজন।’
ক. বহু দেশে কবি কী দেখেছেন?
খ. ‘লইছে যে নাম তব বঙ্গের সঙ্গীতে’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. দৃশ্যকল্প-১ এর ভাবের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বিশ্লেষণ করো。
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনা ধারণ করেছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. বহু দেশে কবি বহু নদ-নদী দেখেছেন।
খ. কবি প্রবাসজীবনেও তাঁর গানে, কবিতায় শৈশব স্মৃতিবিজড়িত নদীর গুণগান গেয়েছেন。

কপোতাক্ষ নদ কবির হৃদয়ের সবটুকু কাতরতা দখল করে আছে বলে তিনি বঙ্গবাসীর নিকটও তা কাব্যে ও গানে ব্যক্ত করেন। কবি যেমন স্নেহাদরে কপোতাক্ষনদকে গানের মাধ্যমে স্মরণ করেছেন, তিনি চান কপোতাক্ষও সস্নেহে তাকে স্মরণ করুক। তাই প্রবাসজীবনেও তাঁর সকল গান ও কবিতায় শৈশব স্মৃতিবিজড়িত নদীর নামই নিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: প্রবাসে থেকেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদীর কথা ভেবে কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এর ভাবের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রকাশিত কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশিত হয়েছে। এ নদের তীরেই কবির বেড়ে ওঠা। আর তাই আলোচ্য কবিতাটিতে কবি প্রিয় এ নদকে সখা বলে সম্বোধন করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রবাসে বসেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এ নদের কথা তিনি ভুলতে পারেননি。

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বাল্যবন্ধুদের সাহচর্যে কাটানো সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেছেন। তিনি মনুমিয়ার চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার স্মৃতি অনুভব করেন। তাই আবারো প্রত্যাশা করেন, সেই আড্ডা জমাবার জন্য সবার মিলিত হওয়ার। একইভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও কবি তাঁর প্রিয় কপোতাক্ষ নদের স্মৃতিচারণা করেছেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের কবিতাংশ এবং আলোচ্য কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই কবিদ্বয় স্মৃতিকাতরতায় নিমগ্ন হয়েছেন। এদিক বিবেচনায় বলা যায় দৃশ্যকল্প-১ অংশে আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত স্মৃতিকাতরতার দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক (১)-এ স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত কবির স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. স্বদেশের পরশের অপরিহার্যতা প্রকাশে দৃশ্যকল্প-২ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনা দেশাত্মবোধ ধারণ করেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে কবি তাঁর হৃদয়াবেগ প্রকাশ করেছেন। কবি কপোতাক্ষের তীরেই তাঁর শৈশবের সোনালি দিনগুলো কাটিয়েছেন। সংগত কারণেই এ নদের সঙ্গে তাঁর গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল। আর তাই প্রিয় এ নদকে আশ্রয় করেই তিনি মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম বোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন。

দৃশ্যকল্প-২-এর কবিতাংশে মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছে। জন্মভূমির প্রকৃতিকে তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর তাঁর চোখে এ দেশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি ধরা দিয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর রূপে। তাই কবি স্বদেশের মাটির গন্ধে তৃপ্ত হন। শ্যামল এ দেশের পরশ ছাড়া অন্যকিছুই তাঁর প্রত্যাশার বিষয় নয়। কবির এই পর্যবেক্ষণ এবং দেশমাতৃকার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাই আলোচ্য কবিতাংশটির মূল উপজীব্য。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে উদ্দেশ্য করে রচিত। সংগত কারণেই এ নদের স্মৃতি তাঁকে কাতর করে তোলে। প্রবাসের একাকী জীবনে তার মনে পড়ে বাল্যজীবনের ফেলে আসা স্নেহময় দিনের কথা আর তাই প্রিয় এ নদের কাছে তাঁর সবিনয় মিনতি— কবির মতো সেও যেন তাঁকে প্রেমভরে সস্নেহে স্মরণ করে। কবির এমন অনুভূতি প্রকৃতপক্ষে দেশাত্মবোধেরই নামান্তর। কেননা, জন্মভূমিকে ভালোবাসেন বলেই জন্মভূমির প্রিয় এ নদের কথা তাঁর মনে সদা জাগরূক। একইভাবে, দৃশ্যকল্প-২-এর কবিতাংশের কবিও দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়েই মাতৃভূমির রূপ-সৌন্দর্যের বন্দনা করেছেন। সে বিবেচনায় বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে না পারলেও মূল চেতনা ধারণ করেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল চেতনা গভীর দেশপ্রেম যা উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ প্রকাশ পেয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১২
মিজান সাহেব যে গ্রামে বড়ো হয়েছেন তার পাশে ছোটো একটি নদী ছিল। নদীটির নাম ভৈরব। শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ নদীটির সাথে। কত বছর কেটে গেল নদীটিকে চোখের দেখাও দেখতে পাননি তিনি। কিন্তু শহরে জীবনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তার শৈশবের সেই নদীটির স্মৃতি ম্লান হয়ে যায়নি। অবসরে কল্পনার সে নদীর ছবি আঁকেন তিনি।
ক. ‘বিরলে’ অর্থ কী?
খ. ‘বারি-রূপ কর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মিজান সাহেবের অনুভূতিতে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকের মিজান সাহেব ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধি একই ধারায় উৎসারিত।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘বিরলে’ শব্দের অর্থ— একান্ত নিরিবিলিতে।
খ. কপোতাক্ষ নদ নিজেকে প্রজা মনে করে রাজারূপী সাগরকে কর হিসেবে নিজের জল প্রদান করে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরকে দেখেছেন রাজারূপে। প্রজামাত্রই রাজাকে কর বা খাজনা দিয়ে থাকে। প্রজারূপী কপোতাক্ষের জল কর বা খাজনা হিসেবে সাগরে প্রতিনিয়ত প্রবাহিত হয়। প্রশ্নের কথাটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: বারি-রূপ কর বলতে বোঝানো হয়েছে কপোতাক্ষ নদ সাগরকে নিজের জল কর হিসেবে প্রদান করে।
গ. উদ্দীপকের মিজান সাহেবের অনুভূতিতে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশিত হয়েছে। কবি দীর্ঘ প্রবাসজীবনের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে থেকেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা ভুলতে পারেননি। এ কারণেই তিনি ভ্রান্তির ছলে এ নদের কলধ্বনি শুনতে পান。

উদ্দীপকের মিজান সাহেবের গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ভৈরব নামের একটি নদী। তাঁর ছেলেবেলার বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ নদীটির সঙ্গে। কিন্তু নগরজীবনের ব্যস্ততার কারণে শৈশবের স্মৃতিময় নদীটিকে তিনি বহুকাল দেখতে পান না। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও তার মন থেকে সে নদীর স্মৃতি মুছে যায়নি। তাই অবসর পেলেই তিনি প্রিয় সেই নদীর ছবি আঁকেন। একইভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষের কথা ভেবে আকুল হয়েছেন। এ নদের স্মৃতি প্রবাসী কবিকে স্নেহকাতর করে তোলে। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকের মিজান সাহেবের মধ্যে আলোচ্য কবিতার কবির শৈশবের প্রিয় নদকে কেন্দ্র করে স্মৃতিকাতরতার দিকটিই ফুটে উঠেছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় এবং উদ্দীপকে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নদীকে কেন্দ্র করে স্মৃতিকাতরতা লক্ষ করা যায়। সংগত কারণেই উদ্দীপকের মিজান সাহেবের অনুভূতিতে আলোচ্য কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের মিজান সাহেবের স্মৃতিকাতরতার আড়ালে জন্মভূমির প্রতি তার গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধির সমান্তরাল。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ কবিমনে যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তারই স্মৃতি কবিকে আকুল করে তুলেছে। প্রবাসজীবনে কবির এমন আকুলতা তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম ছাড়া আর কিছু নয়। এ নদের প্রতি গভীর কাতরতা প্রকাশের মাধ্যমে মূলত দেশের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ব ও ভালোবাসাই প্রকাশিত হয়েছে。

উদ্দীপকের মিজান সাহেব নগরজীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও শৈশবের প্রিয় নদীর স্মৃতিতে কাতর। উন্নত জীবনযাপনের কারণে তাকে শহরে থাকতে হলেও তিনি গ্রামের ছোটো নদী ভৈরবকে ভুলে থাকতে পারেননি। আর তাই এখনো অবসর সময়ে তিনি প্রিয় ভৈরবের ছবি আঁকেন। শৈশবের স্মৃতিময় নদীটিকে ঘিরে মিজান সাহেবের এই কাতরতার মূল কারণ জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর মমত্ব ও ভালোবাসা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবিতাটিতে তিনি প্রিয় কপোতাক্ষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। এ নদের স্নেহসুধা লাভ করেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। আর তাই প্রবাসজীবনে দেখা অন্য কোনো নদই তাঁর সে স্নেহের তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। এক্ষেত্রে দেশপ্রেমই তাঁর এমন অনুভূতির কারণ। একইভাবে, উদ্দীপকের মিজান সাহেবের মাঝে শৈশবের নদীকে নিয়ে যে উদ্দীপনা লক্ষ করা যায় তার গভীরেও দেশপ্রেম প্রোথিত। এ দিক বিবেচনায়, উদ্দীপকের মিজান সাহেবের অনুভূতি ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধি একই ধারায় উৎসারিত।
উত্তরের সারবস্তু: আলোচ্য কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের মিজান সাহেব উভয়েই শৈশবের স্মৃতিময় নদীর কথা ভেবে আকুল হয়েছেন, যা তাদের জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার অনুভূতিকেই তুলে ধরে। সেদিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৩
কামাল বাংলাদেশের একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। একসময় আমেরিকার ডিভি লটারিতে তার ভাগ্য খুলে যায়। কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে বিপুল ঐশ্বর্যের মাঝেও সে নিজ দেশের কথা ভুলতে পারে না। নিজ গ্রামের সেই ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা নির্মল প্রকৃতি তার মনকে আলোড়িত করে সব সময়। সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকলেও প্রতিরাতে কল্পনায় সে যেন ফিরে আসে তার নিজ গ্রামে, ফিরে পায় তার দুরন্ত শৈশব।
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় অষ্টকের মিলবিন্যাস কী?
খ. দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে কামালের অনুভূতিতে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকে প্রতিফলিত অনুভূতির অন্তরালে, যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে, তা-ই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব।”—বিশ্লেষণ করো।
১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় অষ্টকের মিলবিন্যাস কখকখ কখখক।
খ. জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে কপোতাক্ষ নদকে কবি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন。

প্রবাসে থাকাকালীন কবি জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেছেন। শৈশব-কৈশোরের মধুর স্মৃতি কবির মনকে আচ্ছন্ন করেছিল। কবি বহু দেশ ঘুরে ঘুরে বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু নিজের দেশের মতো অনুভূতি কোথাও পাননি। মাতৃদুগ্ধস্বরূপ এ নদীর জল বিনা কোনো জলেই তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ হয়নি। শিশু যেমন মায়ের দুগ্ধ পান করেই তৃপ্তি পায় বা তৃষ্ণা মেটায় তেমনি কবি শুধু কপোতাক্ষের জলেই তাঁর তৃষ্ণা মেটাতে চান।
উত্তরের সারবস্তু: মা যেমন তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাইয়ে বড় করেন, কবির মতে কপোতাক্ষ নদও তাঁর স্বদেশের ক্ষেত্রে সেই একই ভূমিকা পালন করেন।
গ. উদ্দীপকে কামালের অনুভূতিতে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় ফুটে ওঠা জন্মভূমিকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। একদা খ্যাতি লাভের আশায় কবি মাতৃভূমি ছেড়ে সুদূর ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবনে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি জন্মভূমিকে ভুলতে পারেননি। মাতৃভূমির স্মৃতি সর্বদা তাঁর মনে জাগরূক ছিল। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে তাঁর সেই অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের অনুভূতিই রূপায়িত হয়েছে。

উদ্দীপকের কামাল ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হয়ে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে শান্তি পায় না। নিজ গ্রাম ও শৈশবের স্মৃতি তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। একইভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও নিজ জন্মভূমিকে বিস্মৃত হতে পারেননি। এ কারণেই শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কলধ্বনি সর্বদা তাঁর কানে বাজে। প্রবাসী কবির কাছে এই কলধ্বনিকে মায়ামন্ত্রের মতো মনে হয়। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের কামাল উভয়ই মাতৃভূমির কথা ভেবে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকের কামালের অনুভূতিতে আলোচ্য কবিতায় ফুটে ওঠা স্মৃতিকাতরতার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় এবং উদ্দীপকে জন্মভূমির বিভিন্ন অনুষঙ্গকে ঘিরে স্মৃতিকাতর হওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। সে বিবেচনায়, কামালের অনুভূতিতে আলোচ্য কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে জন্মভূমিকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতারই মূলভাব。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে কবি তাঁর হৃদয়াবেগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবিতাটিতে কপোতাক্ষ নদকে তিনি গ্রহণ করেছেন সখারূপে। সখারূপী কপোতাক্ষের কাছে তাঁর একটাই মিনতি, সে যেন কবির হৃদয়ের কাতরতা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়। এর মধ্য দিয়ে আলোচ্য কবিতাটিতে কবির দেশাত্মবোধেরই প্রকাশ ঘটেছে。

উদ্দীপকের কামালের জন্ম প্রত্যন্ত এক গ্রামে। গ্রামের প্রকৃতি-পরিবেশের স্নেহছায়ায় লালিত হয়েই সে বেড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে আমেরিকার ডিভি লটারিতে জয়ী হয়ে কামাল সেই দেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু সেখানকার উন্নত পরিবেশেও তার মন ভরে না। সর্বদা নিজ গ্রাম ও গ্রামের প্রকৃতি তাকে টানে। এজন্য কর্মশ্রান্ত দিন শেষে তার মনে গ্রামের স্মৃতিই বারবার ফিরে আসে। কামালের এমন অবস্থার কারণ দেশমাতৃকার প্রতি তার প্রবল অনুরাগ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এ কবিতায় শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে কবি তাঁর হৃদয়াবেগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বস্তুত, কবিতাটিতে কপোতাক্ষ হাজির হয়েছে কবির ভাব প্রকাশের বাহন হিসেবে। স্মৃতিময় এ নদকে ঘিরেই কবি জন্মভূমির প্রতি তাঁর হৃদয়ের কাতরতাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। উদ্দীপকের কামালের মাঝেও নিজ গ্রাম তথা জন্মভূমিকে নিয়ে এমন কাতরতা প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশকে নিয়ে কামাল ও কবির অকৃত্রিম বোধকে তুলে ধরে। সংগত কারণে এটি আলোচ্য কবিতারও মূলভাব। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় ও উদ্দীপকে জন্মভূমির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে স্মৃতিচারণার অন্তরালে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৪
শুভ বাবু প্রায় এক যুগ আগে সরকারি বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় যান। পড়াশোনা শেষে সেখানেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি প্রচুর বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। কিন্তু, তারপরও তিনি সুখী নন। বিদেশে থেকেও সেখানকার প্রকৃতি-পরিবেশ, লোকালয় কোনো কিছুই তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। কাজের অবসরে মনটা শুধু পড়ে থাকে বাংলার সবুজ শ্যামল প্রান্তরে। যেখানে রয়েছে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, নদী তীরের সূর্যাস্তের দৃশ্য, সবুজ বনানী-কেটেছে তার শৈশব থেকে যৌবনের অফুরান সোনালি দিন।
ক. সনেটের অষ্টকে মূলত কী রয়েছে?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা?’— কবির এ সংশয়ের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো。
গ. সাদৃশ্যগত দিক হতে শুভ বাবুর উপলব্ধিটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধির সাথে কতটুকু সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।” — মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের অষ্টকে মূলত রয়েছে ভাবের প্রবর্তনা।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: কবি ফ্রান্সে বসে এই সনেটটি রচনার সময় স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতায় এ উক্তি।
গ. উদ্দীপকের শুভ বাবুর উপলব্ধিটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধির সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষের প্রতি অগাধ মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে। সে মমত্ববোধ থেকেই তিনি প্রিয় কপোতাক্ষকে গ্রহণ করেছেন সখারূপে। আর তাই বিদেশ-বিভুঁইয়ে থেকেও এ নদের কথা ভুলতে পারেননি তিনি。

উদ্দীপকের শুভ বাবু একজন প্রবাসী বাঙালি। সরকারি বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় আসার পর একযুগ কেটে গেলেও মাতৃভূমিকে তিনি ভুলতে পারেননি। ব্যক্তি জীবনে অগাধ বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেও তা তার মনে শান্তি এনে দিতে পারেনি। সবসময় তার মন পড়ে থাকে ছায়া সুনিবিড় বাংলার প্রকৃতিতে। বাংলার মাঠঘাট, নদী যেন তাকে ভিতর থেকে টানে। একইভাবে আলোচ্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও মাতৃভূমির প্রিয় নদের কথা ভেবে কাতর। সান্নিধ্যের ব্যাকুলতা থেকে কপোতাক্ষের কলধ্বনি তাঁর কানে সবসময় মায়ামন্ত্রের মতোই বাজে। অর্থাৎ উদ্দীপকের শুভ বাবু এবং আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েই জন্মভূমিকে কেন্দ্র করে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। এদিক থেকে শুভ বাবুর উপলব্ধি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির উপলব্ধির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাযুজ্যপূর্ণ।
উত্তরের সারবস্তু: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে স্বদেশের প্রতি টান অনুভব করেছেন তিনি। উদ্দীপকের শুভ বাবুর মাঝেও এই বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।”— মন্তব্যটি যথার্থ বলেই আমি মনে করি。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে কবি তাঁর হৃদয়াবেগের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এর মূলে রয়েছে জন্মভূমির প্রতি তাঁর অপার মমত্ববোধ。

উদ্দীপকের শুভ বাবু সরকারি বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি সেখানেই থেকে যান। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে অর্জিত বিত্ত-বৈভব তার মনে শান্তি এনে দিতে পারেনি। আর দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ এক যুগ কেটে গেলেও দেশের প্রকৃতি পরিবেশকে তিনি ভুলতে পারেননি। কাজের ফাঁকে বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি আর শৈশবের সোনালি দিনের কথা ভেবে কাতর হন তিনি। আলোচ্য কবিতাতেও এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছে। জন্মভূমিকে ভালোবাসেন বলেই জন্মভূমির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ তাঁর কাছে এত প্রিয়। সংগত কারণেই এ কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি কবির হৃদয়াবেগ প্রকাশিত হয়েছে কপোতাক্ষকে আশ্রয় করে। একইভাবে উদ্দীপকের শুভ বাবুও দেশের চিরচেনা প্রকৃতিকে স্মরণ করেন দেশকে ভালোবাসেন বলেই। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই স্মৃতিকাতরতার আবরণে মূলত দেশাত্মবোধের প্রকাশ ঘটেছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকেও একই বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৫
আকমল ইংল্যান্ড গেছে বার আ্যট-ল করতে। সেখান থেকে সে তার মাকে চিঠি লিখেছে— ‘মা, আমার কিছু ভালো লাগে না। সারাক্ষণ আমার অন্তর জুড়ে আছ তুমি আর আমার স্বজনেরা। আমার চোখজুড়ে বাংলার প্রকৃতি মায়ার অঞ্জন বুলিয়ে যায়। কখনো দেশ ও তুমি একাকার হয়ে যাও। আমার কিছু ভালো লাগে না।’
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
খ. ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
গ. উদ্দীপকের আকমল ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. উদ্দীপকের আকমল ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির ভাবানুভূতির আড়ালে যে মহতী আবেগ কাজ করেছে তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
১৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন।
খ. জন্মভূমির যে নদ কবিকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছিল, প্রবাসজীবনে সেই নদের সৌন্দর্যে কবির তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে বোঝানো হয়েছে。

শৈশবে কবি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হয়েছেন, এই নদের বয়ে চলা সান্নিধ্যেই তিনি প্রশান্তি লাভ করেছেন। এই নদই কবিকে মাতৃভূমির সাথে অকৃত্রিম এক বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। কবি ফ্রান্সে বসবাসরত অবস্থায় অনেক নদনদীর সান্নিধ্যে এলেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। তাই আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষের জলে মনের তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই কবি ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উত্তরের সারবস্তু: কপোতাক্ষ নদ কবিকে যেন মায়ের স্নেহডোরে বেঁধেছে যা তিনি ভুলতে পারেন না।
গ. উদ্দীপকের আকমল ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মধ্যে জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের সাদৃশ্য রয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি, তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ ও জন্মভূমিকে ভুলতে পারেন না। কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি সর্বদা তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। প্রবাসে থেকেও তিনি এই নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। স্বদেশের সাথে বিচ্ছেদ তাঁকে ব্যাকুল করে তোলে。

উদ্দীপকের আকমল বার অ্যাট-ল করতে ইংল্যান্ডে গিয়েও বাংলার প্রকৃতির মায়া ভুলতে পারে না। তার চোখজুড়ে বাংলার প্রকৃতি মায়ার অঞ্জন বুলিয়ে যায়। তার মনের মাঝে দেশ আর মায়ের প্রতি মমত্ববোধ ও বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মাকে লেখা চিঠিতে আকমল দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধের কথাই জানিয়েছে। আকমলের এমন দেশাত্মবোধ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্বদেশপ্রেমের দিকটি নির্দেশ করে। তিনিও প্রবাসজীবনে নিজ দেশের প্রকৃতি তথা জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন তাঁর ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মাধ্যমে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের মধ্যে দেশের প্রতি গভীর প্রেমাবেগ ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির ও উদ্দীপকের আকমলের ভাবানুভূতির আড়ালে যে পবিত্র অনুভূতি কাজ করেছে তা হলো স্বদেশপ্রেম。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। ইংরেজি সাহিত্যে খ্যাতি লাভের আশায় কবি মাতৃভূমি ছেড়ে সুদূর ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবনে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি জন্মভূমিকে ভুলতে পারেননি। মাতৃভূমির স্মৃতি সর্বদা তাঁর মনে জাগরূক ছিল। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরেই তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে。

উদ্দীপকের আকমল বার অ্যাট-ল করতে ইংল্যান্ড গিয়েও বাংলার প্রকৃতির মায়া ভুলতে পারে না। সারাক্ষণ তার অন্তরজুড়ে থাকে দেশ, মা আর দেশের প্রকৃতি। যা তার দেশপ্রেমের দিকটি তুলে ধরে। আলোচ্য কবিতায়ও কপোতাক্ষ নদকে নিয়ে স্মৃতিচারণার অন্তরালে স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি প্রবাসে উন্নত জীবনের আকর্ষণকে পাশ কাটিয়ে দেশের স্মৃতিতে বিভোর হন। দূরে বসেও তিনি প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। উদ্দীপকের আকমলও সুদূর ইংল্যান্ডে বসেও জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করতে পারেন না। তার চোখজুড়ে বাংলার প্রকৃতি মায়ার অঞ্জন বুলিয়ে যায়। উদ্দীপকের আকমল ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি দুজনই দেশাত্মবোধসম্পন্ন মানুষ, তাদের ভাবানুভূতির অন্তরালে মহত অনুভূতি দেশপ্রেম কাজ করেছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় উভয়ের মধ্যে পবিত্র অনুভূতি কাজ করেছে তা হলো দেশের প্রতি স্মৃতিকাতরতা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে বড়ো চাকরি নিয়ে মাহির ইতালি যান। কিন্তু একদমই কাজে মন বসাতে পারেন না। শুধু মনে হয় বাড়ির কথা, বন্ধুদের কথা আর দেশের মানুষের কথা। মাহির ভাবেন দেশের বন্ধুরাও কি তাকে মনে করে?
ক. সনেটের অষ্টকে মূলত কী রয়েছে?
খ. স্নেহের তৃষ্ণা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মাহিরের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির মনোভাবের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো。
ঘ. “উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
১৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সনেটের অষ্টকে মূলত থাকে ভাবের প্রবর্তনা।
খ. জন্মভূমির যে নদ কবিকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছিল, প্রবাসজীবনে সেই নদের মাতৃরূপ সৌন্দর্যে কবির তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে বোঝানো হয়েছে。

শৈশবে কবি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হয়েছেন। এই নদের বয়ে চলার সান্নিধ্যেই তিনি প্রশান্তি লাভ করেছেন। এই নদই কবিকে মাতৃভূমির সাথে অকৃত্রিম এক বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। কবি ফ্রান্সে বসবাসরত অবস্থায় অনেক নদনদীর সান্নিধ্যে এলেও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। তাই আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষের জলে মনের তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই কবি ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উত্তরের সারবস্তু: জন্মভূমির যে নদ কবিকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছিল, প্রবাসজীবনে সেই নদের মাতৃরূপ সৌন্দর্যে কবির তৃষ্ণা নিবারণের আকাঙ্ক্ষাকেই ‘স্নেহের তৃষ্ণা’ বলে বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের মাহিরের সঙ্গে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের মনোভাবের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রবাসজীবনে থাকাকালীন জন্মভূমির প্রতি কবির অগাধ মমত্ববোধ উপস্থাপিত হয়েছে। সুদূর ফ্রান্সে বসেও কবি ভুলতে পারেননি তাঁর শৈশবের স্মৃতিঘেরা কপোতাক্ষ নদের কথা। প্রতি মুহূর্তে জন্মভূমির মায়া তাঁকে অস্থির করে তোলে, তাঁর আকুল হৃদয় জন্মভূমির জন্য গুমরে কাঁদে। কপোতাক্ষ নদের স্নেহডোর থেকে তিনি কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারেন না। কপোতাক্ষের সাক্ষাৎ পাওয়ার আশায় তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, আদৌও আর দেখা হবে কি না。

উদ্দীপকে ইতালি প্রবাসী মাহিরের উপলব্ধিতে মিশে আছে তার জন্মভূমি, দেশের মানুষ ও বন্ধুদের প্রতি প্রবল ভালোবাসা। চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশে থাকলেও দেশপ্রেমে স্মৃতিকাতর মাহির কাজে মন বসাতে পারে ভাগে না। সর্বদা বাড়ি, বন্ধু ও দেশের জন্য তার মন কাঁদে। জন্মভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ তার মনে প্রশ্ন জাগায় যে, দেশের বন্ধুরাও তাকে স্মরণ করে কি না। যা তার ব্যাকুল হৃদয়ের জন্মভূমির বিচ্ছেদের অনুভূতি প্রকাশ করে। তেমনিভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির বেদনা-বিধুর বিচ্ছেদের অনুভূতি সর্বদা তাঁকে জন্মভূমির কথা ভাবায়। সুতরাং, কবি এবং উদ্দীপকের মাহিরের প্রবাসজীবনে স্মৃতিকাতর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের মনোভাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির স্বদেশ ও তার প্রকৃতির প্রতি স্মৃতিকাতর দেশপ্রেমের মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকের প্রবল স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কবির স্মৃতিচারণমূলক ও স্বদেশপ্রেমের উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ। যেখানে কবি দেশের প্রতি মায়া ও অগাধ ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন বেদনার ছলে। কবি মাতৃভূমি ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমালেও দেশের স্মৃতি তার হৃদয়পটে ভেসে ওঠে। মাতৃভূমির মতো শান্তি তিনি আর কোথাও পান না। তাই এই কবিতার মাধ্যমে তিনি ব্যথিত হৃদয়ের আশা ব্যক্ত করেন, প্রত্যাশা রাখেন জন্মভূমির দেখা পাওয়ার। কপোতাক্ষ নদের কাছে তাঁর মিনতি তাকেও যেন নদ মনে রাখে, তাঁর অনুভূতি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়。

উদ্দীপকে প্রবাসী মাহিরের চরিত্রে অপরিসীম দেশপ্রেম ও দেশের মাটি এবং মানুষের জন্য তার ব্যথিত হৃদয়াবেগ প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসে সে মন বসাতে পারে না জন্মভূমির স্মৃতির তাড়নায়। তার মনে পড়ে বাড়ি, দেশের মানুষ ও বন্ধুদের কথা। জানতে ইচ্ছা করে তার বন্ধুরাও কি তাঁর মতোই তার কথা মনে করে কি না। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও প্রবাসী কবির স্মৃতিচারণা প্রকাশিত হয়েছে。

উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে বোঝা যায়, মাহিরের মধ্যে প্রতিফলিত প্রবল স্বদেশপ্রেমই হলো ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাব। উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃভূমির জন্য হৃদয়াবেগ ও স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ উভয়ের মূলভাব স্বদেশপ্রেম ও স্বদেশের ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৭
‘রূপের সেরা বাংলা আমার রূপের নেই কো শেষ
দিন কাটে মোর সবুজ দেখে জীবন কাটে বেশ。
বৃক্ষের ঐ মগডালেতে কোকিল পাখির সুরে
আনন্দে মন লাফিয়ে উঠে জেগে উঠি ভোরে
ঝিলে ঝিলে শাপলা ফুটে নদীর জলে কমল
সাজগুজে আজ কাটছে সাঁতার নূতন কিশোরদল。
....................................................
জন্মভূমি বাংলাতে ভাই স্বর্গের সুখ পাই।’
ক. চতুর্দশপদী কবিতায় অষ্টকে কীসের প্রবর্তনা থাকে?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা’— কবি একথা কেন বলেছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সম্পর্ক তুলে ধরো。
ঘ. “উদ্দীপকে যে ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে সেটিই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূলসুর।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
১৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. চতুর্দশপদী কবিতায় অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: কবি ফ্রান্সে বসে এই সনেটটি রচনার সময় স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতায় এ উক্তি।
গ. উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মাতৃভূমির সাথে একাত্মতার বোধ ও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকাতরতার দিকটি ফুটে উঠেছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে তার মধুর শৈশবের স্মৃতির আখ্যান দিয়েছেন। নদের তীরে প্রাকৃতিক পরিবেশে বড়ো হওয়া কবি সুদূর ফ্রান্সে বসে মাতৃভূমির সঙ্গে তার শৈশবের গভীর সখ্যের স্মৃতি স্মরণ করে কাতর হয়ে পড়েন। তাঁর মতে, জন্মভূমির মতো এমন সৌন্দর্য আর কোথাও নেই, যা তাকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। কোনোভাবেই তিনি ভুলতে পারেন না প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে。

আলোচ্য উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে মাতৃভূমির অপার সৌন্দর্য। নদী, ফুল, পাখির বৈচিত্র্যে দেশ যেন অপরূপ রূপে সজ্জিত। কবি এখানে দুরন্ত কৈশোরের মধুর স্মৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন, সাজু নদীতে নতুন কিশোরদের সাঁতার দেখে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তদ্রূপ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে প্রিয় নদ ও মাতৃভূমির প্রতি কবির ভালোবাসা এবং শৈশবের স্মৃতিকাতরতা। এ বিবেচনায় উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সম্পর্ক বিদ্যমান।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির স্বদেশে কাটানো সুখের স্মৃতিময় দিনের কথা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্য।
ঘ. উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে কবির স্মৃতিকাতরতার মাধ্যমে। এ নদ কবির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত। তাই সুদূর প্রবাসজীবনেও কবি ভুলতে পারেননি তাঁর প্রিয় নদকে। এ নদের স্মৃতি তাঁকে প্রতিনিয়ত কাতর করে তুলেছে。

উদ্দীপকে স্বদেশপ্রেমের অত্যুজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের কবির কাছে নিজের দেশের চেয়ে সুন্দর আর কোনো দেশকেই মনে হয় না। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কবির স্বদেশ। চিরসৌন্দর্যের এই দেশের প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও স্বদেশের প্রতি কবির অনুরাগ ফুটে উঠেছে。

উদ্দীপকে এবং ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্বদেশকে নিয়ে ব্যক্তিমানুষের আবেগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। জন্মভূমির স্থান সব কিছুর ঊর্ধ্বে। স্বদেশের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। উভয় কবি স্বদেশপ্রেমে নিমগ্ন। স্বদেশকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসিয়ে তার জন্য যে ব্যাকুলতা, যে আর্তি, তা ফুটে উঠেছে উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার মূলভাবে। এ যেন স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। তাই সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্বদেশের সৌন্দর্যের কথা ও স্বদেশের প্রতি গভীর অনুভূতির প্রকাশ লক্ষণীয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৮
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে,
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে,
জানিনে তোর ধন রতন আছে কি না রানির মতন,
শুধু জানি, আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে
কোন বনেতে জানিনে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন গগনে ওঠেছে চাঁদ এমন হাসি হেসে,
আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ও আলোতেই নয়ন রেখে মুদবো নয়ন শেষে।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘পদ্মাবতী’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
খ. ‘আর কি হে হবে দেখা’— কবি কেন এ কথা বলেছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন বিষয়টি উঠে এসেছে তা ব্যাখ্যা করো。
ঘ. ‘কামনাগত দিক থেকে পার্থক্য থাকলেও মূল বিষয় একই।’— উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
১৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘পদ্মাবতী’ একটি নাটক।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উত্তরের সারবস্তু: প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা।
গ. উদ্দীপকে, মূলত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বর্ণিত স্মৃতিবিজড়িত নদের আড়ালে দেশপ্রেমই ফুটে উঠেছে。

স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির দেশপ্রেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে। এই নদ কবিকে মাতৃভূমির সঙ্গে অকৃত্রিম এক বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। কবি ফ্রান্সে থেকে অসংখ্য নদ-নদীর সান্নিধ্য পেলেও স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা ভুলতে পারেন না。

আলোচ্য উদ্দীপকে মূলত দেশপ্রেমের কথাই বলা হয়েছে। এদেশে জন্ম নিয়ে, দেশ আর মাকে ভালোবেসেই যেন কবির জীবন সার্থক হয়েছে। দেশমাতৃকার ছায়ায় যে অঙ্গজুড়ানো প্রশান্তি আর শোভা-সৌন্দর্য তা দেখেই যেন উদ্দীপকের কবি চিরবিদায় নিতে পারেন এমন মনোবাসনাই তিনি ব্যক্ত করেছেন। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মধ্যেও কবি প্রবাসে থেকে মাতৃভূমি ও দেশের নদকে ভুলতে পারেননি। কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসা প্রকৃতপক্ষে দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।
উত্তরের সারবস্তু: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় যে দেশপ্রেম কবির মধ্যে দেখা যায় উদ্দীপকেও দেশপ্রেমের সে দিকটি ফুটে ওঠে।
ঘ. উদ্দীপকের কবি দেশকে ভালোবেসে দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছেন, আর আলোচ্য কবিতার কবি প্রবাস থেকে দেশে ফেরার সংশয় প্রকাশ করলেও উভয় কবিই দেশপ্রেমে উজ্জ্বল。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। কবি প্রবাসে থাকাকালীন বহু নদনদী দেখেছেন কিন্তু তার শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের মতো কেউই তাঁকে মায়ের স্নেহ ডোরে বাঁধেনি। প্রবাসে বসে তিনি গভীর মমতায় তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে স্মরণ করেছেন। তিনি কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। স্বদেশের বিচ্ছেদ সহ্য করা ছিল তাঁর পক্ষে কঠিন。

আলোচ্য উদ্দীপকে দেশের রূপমুগ্ধতার পাশাপাশি দেশপ্রেমের চিত্রই ফুটে উঠেছে। দেশের শীতল ছায়া আর রূপ-রস-গন্ধে যেন কবির শরীর মন জুড়িয়ে যায়। উদ্দীপকের কবি চোখ মেলেই দেখতে চান এই শোভা-সৌন্দর্য এবং এই সৌন্দর্য দেখে দেখেই যেন তাঁর মৃত্যু ঘটে এমনটাই তিনি প্রত্যাশা করেন। কবি দেশকে ভালোবেসেই যেন জীবনে সার্থক হতে চান。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি সুদূর প্রবাসে বসে গভীর কাতরতায় নিজ দেশের কথা স্মরণ করেছেন। দেশের নদীর মতো কোনো নদী কোথাও তাঁর চোখে পড়েনি। কপোতাক্ষ নদ যেন গভীর মমতায় তাঁকে কাছে টেনে নেয়। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতায় মূলত কবির দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। একইভাবে উদ্দীপকের কবিও বাংলার শীতল ছায়ায় প্রাণ জুড়াতে চান এবং প্রত্যাশা করেন প্রকৃতি দেখে দেখেই যেন তাঁর মৃত্যু ঘটে। সুতরাং আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপকের মূলসুর একই।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে কবি দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার কামনা করেছেন আর আলোচ্য কবিতার কবি দেশে আর কখনো ফিরতে পারবেন কি না এমন সংশয় প্রকাশ করলেও দুই কবিই দেশপ্রেমের অনুভূতিতে মূলত এক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১৯
নাইয়ারে,
ভাটির দেশে যাও যদি তুমি হিজলতলির হাটে
সেথায় আমার ভাইজান থাকে
আমার কথা কইও তাকে
মইলাম দুখে জুইলা।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ কবিকীর্তি কী?
খ. ‘ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. ‘আমার কথা কইও তাকে’— উক্তিটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় বিধৃত কবির কোন ভাবাবেগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বুঝিয়ে লেখো。
ঘ. ‘উদ্দীপকটিতে প্রবাসী কবি চিত্তের অস্থির আকুতিই অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।’— উক্তিটির সত্যাসত্য যাচাই করো।
১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ কবিকীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য’।
খ. ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলে কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি নিজের আত্মতৃপ্তির বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: ‘জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে’ বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আলোচ্য উক্তিটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির দেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার ভাবাবেগ তুলে ধরেছে。

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় দেশের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুভূতির কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে তিনি অবলম্বন করেছেন শৈশবের স্মৃতিঘেরা কপোতাক্ষ নদকে। কবি জানেন না, কখনো তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না। তাই কপোতাক্ষ নদকে তিনি অনুরোধ করেছেন তাঁকে স্মৃতিতে ঠাঁই দিতে। কবির প্রত্যাশা যে, বাংলার মানুষের কাছে কপোতাক্ষ নদ যেন কবির হৃদয়ের কাতরতা ব্যক্ত করে。

উদ্দীপকের কবিতাংশে বিরহী এক নারীর হৃদয়ের গভীর অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। নৌকার মাঝির কাছে সে অনুরোধ করেছে মাঝি যেন তার মনের দুঃখের কথা তার ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেয়। একইভাবে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও কবি তাঁর আবেগ দেশের মানুষের কাছে প্রকাশের জন্য কপোতাক্ষ নদের সাহায্য চেয়েছেন।
উত্তরের সারবস্তু: কবি দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশের সাথে কবির যে স্মৃতি সেগুলো সে কপোতাক্ষ নদ দেশের মানুষকে জানায়। সেই আকৃতি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের নারীর মতোই ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবিচিত্তের অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়。

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্বদেশের কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর আকুলতার কথা প্রকাশ করেছেন। এই নদীর তীরে তাঁর মধুময় শৈশব-কৈশোর কেটেছে। প্রবাসজীবনে এই নদের কথা মনে করে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মূলত কপোতাক্ষ নদকে ঘিরেই কবির গভীর দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে。

উদ্দীপকে বর্ণিত নারী নৌকা বেয়ে যাওয়া মাঝির কাছে তার বেদনার কথা তুলে ধরেছে। মাঝি যেদিকে চলেছে সেদিকেই তার ভাইয়ের ঠিকানা। তাই সে মাঝির কাছে আবেদন করেছে মাঝি যেন তার দুঃখের কথা ভাইকে গিয়ে জানায়। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মাঝেও এমন আকুলতার প্রকাশ ঘটেছে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির বসবাস দেশ থেকে বহুদূরে। স্বদেশের জন্য তাঁর প্রাণ কাঁদে। তাঁর অস্থির চিত্ত বারবার ফিরে আসতে চায় জন্মভূমির বুকে। সেই আকুলতাই কপোতাক্ষ নদকে আশ্রয় করে প্রকাশ করেছেন তিনি。

উদ্দীপক ও কবিতায় বর্ণিত চিত্রে আবেগী মনের কাতরতার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। উভয়ের মাঝেই নির্দিষ্ট বিষয়ে অস্থিরতার প্রকাশ লক্ষণীয়। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় বলা যায়, আলোচ্য উক্তিটি যথাযথ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় প্রবাসে অবস্থানরত কবির দেশের প্রতি স্মৃতিকাতরতার দিকটি লক্ষণীয়।

Post a Comment

0 Comments