Ticker

6/recent/ticker-posts

কপোতাক্ষ নদ (জ্ঞান ও অনুধাবন মুলক প্রশ্ন ও সমাধান ) _ এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

■ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ১৭
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩. স্কুলজীবন শেষ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন কলেজে ভর্তি হন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: স্কুলজীবন শেষ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।

প্রশ্ন-৪. হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন ভাষার সাহিত্যের প্রতি তীব্র অনুরাগ জন্মে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ইংরেজি ভাষার সাহিত্যের প্রতি তীব্র অনুরাগ জন্মে।

প্রশ্ন-৫. মাইকেল মধুসূদন দত্ত খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন কত সালে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা; চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ; য. বো. ১৬
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন ১৮৪৩ সালে।

প্রশ্ন-৬. কত খ্রিষ্টাব্দে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের প্রথমে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; নাজমুল হক হাইস্কুল, রাজশাহী
উত্তর: ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের প্রথমে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

প্রশ্ন-৭. মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ হন কেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
উত্তর: পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগের কারণে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ হন।

প্রশ্ন-৮. মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কোনটি?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; দি. বো. ২৪, কু. বো. ২৩; বিএএফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম; বগুড়া জিলা স্কুল; দি. বো. ১৬, ১৭, ঢা. বো. ১৫
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি 'মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

প্রশ্ন-৯. মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্যের নাম কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্যের নাম 'বীরাঙ্গনা কাব্য'।

প্রশ্ন-১০. 'কৃষ্ণকুমারী' কার লেখা নাটক?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: 'কৃষ্ণকুমারী' মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা নাটক।

প্রশ্ন-১১. মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' কোন ধরনের রচনা?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' একটি নাটক।

প্রশ্ন-১২. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কয়টি প্রহসন রচনা করেছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রংপুর ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত দুইটি প্রহসন রচনা করেছেন।

প্রশ্ন-১৩. 'একেই কি বলে সভ্যতা' মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন ধরনের গ্রন্থ?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: 'একেই কি বলে সভ্যতা' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন গ্রন্থ।

প্রশ্ন-১৪. 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনটি কার লেখা?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা।

প্রশ্ন-১৫. বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন কে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন-১৬. বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তন করেন কে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ১৫
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন-১৭. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে পরলোকগমন করেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রা. বো. ১৫
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ সালে পরলোকগমন করেন।

প্রশ্ন-১৮. সব সময় কবির কার কথা মনে পড়ে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ১৯
উত্তর: সব সময় কবির কপোতাক্ষ নদের কথা মনে পড়ে।

প্রশ্ন-১৯. নিশার স্বপনে লোকে কী শোনে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: নিশার স্বপনে লোকে ‘মায়া-মন্ত্রধ্বনি’ শোনে।

প্রশ্ন-২০. কবি কীসের ছলনায় কান জুড়ান?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: কবি ভ্রান্তির ছলনায় কান জুড়ান।

প্রশ্ন-২১. বহু দেশে কবি কী দেখেছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; বি. বো. ২৩; ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম
উত্তর: বহু দেশে কবি বহু নদনদী দেখেছেন।

প্রশ্ন-২২. 'কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?'— এর পরের পঙ্ক্তি কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল
উত্তর: 'কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?'— এর পরের পঙ্ক্তি হলো— 'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে'।

প্রশ্ন-২৩. 'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী' বলতে কবি কোন নদীকে বুঝিয়েছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: 'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী' বলতে কবি 'কপোতাক্ষ নদ'কে বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-২৪. ‘সতত’ শব্দটির অর্থ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘সতত’ শব্দটির অর্থ সর্বদা।

প্রশ্ন-২৫. ‘বিরলে’ শব্দের অর্থ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২২; সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল, টাঙ্গাইল
উত্তর: ‘বিরলে’ শব্দের অর্থ একান্ত নিরিবিলিতে।

প্রশ্ন-২৬. ‘নিশা’ শব্দের অর্থ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘নিশা’ শব্দের অর্থ রাত্রি।

প্রশ্ন-২৭. ‘ভ্রান্তি’ শব্দের অর্থ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘ভ্রান্তি’ শব্দের অর্থ— ভুল।

প্রশ্ন-২৮. ‘প্রজারূপে রাজরূপ’ অর্থ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘প্রজারূপে রাজরূপ’ কথাটির অর্থ রাজা ও প্রজার ন্যায় সম্পর্ক; এখানে প্রজা বলতে কপোতাক্ষ নদকে এবং রাজা বলতে সাগরকে বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন-২৯. বারি-রূপ কর কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: প্রজা যেমন রাজাকে কর বা রাজস্ব দেয়, তেমনি কপোতাক্ষ নদও সাগরকে জলরূপ কর বা রাজস্ব দিচ্ছে।

প্রশ্ন-৩০. সনেট-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; বি. বো. ২৪
উত্তর: সনেটের বাংলা প্রতিশব্দ চতুর্দশপদী কবিতা।

প্রশ্ন-৩১. চতুর্দশপদী কবিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: চতুর্দশপদী কবিতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Sonnet.

প্রশ্ন-৩২. সনেট কাকে বলে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; সরকারি জুবিলী স্কুল, পটুয়াখালী; সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
উত্তর: চৌদ্দ-চরণ-সমন্বিত, ভাবসংহত সুনির্দিষ্ট গীতিকবিতাকে সনেট বলা হয়।

প্রশ্ন-৩৩. অষ্টক কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; সি. বো. ২০
উত্তর: সনেটের প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক বলে।

প্রশ্ন-৩৪. অষ্টককে ইংরেজিতে কী বলা হয়?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: অষ্টককে ইংরেজিতে Octave বলা হয়।

প্রশ্ন-৩৫. ‘ষটক’কে ইংরেজিতে কী বলা হয়?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘ষটক’কে ইংরেজিতে 'Sestet' বলা হয়।

প্রশ্ন-৩৬. সনেটের অষ্টকে কী থাকে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; ঢা. বো. ২৪; কু. বো. ২৪; ঢা. বো. ২৩; য. বো. ২০; রংপুর জিলা স্কুল
উত্তর: সনেটের অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে।

প্রশ্ন-৩৭. সনেটের কোন অংশে ভাবের প্রবর্তনা থাকে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২৪
উত্তর: সনেটের অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে।

প্রশ্ন-৩৮. সনেটের ষটকে কী থাকে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; য. বো. ২৩; য. বো. ২২; সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ
উত্তর: সনেটের ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে।

প্রশ্ন-৩৯. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন ধরনের কবিতা?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি একটি চতুর্দশপদী কবিতা।

প্রশ্ন-৪০. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কীরূপ?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রা. বো. ২৪; চ. বো. ২৪; য. বো. ২২; রা. বো. ২০; দি. বো. ২০; মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর; বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অষ্টকের মিল বিন্যাস কখকখ কখখক।

প্রশ্ন-৪১. অষ্টকের গঠন বিন্যাস কী?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: অষ্টকের গঠন বিন্যাস কখকখ কখখক বা কখখগ কখখগ।

প্রশ্ন-৪২. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্ত্যমিলবিন্যাস লেখো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রংপুর ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্ত্যমিলবিন্যাস হলো— কখকখ কখখক ঘঙঘ ঘঙঘ।

প্রশ্ন-৪৩. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার রচয়িতা কে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন-৪৪. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রশ্ন-৪৫. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে কী প্রকাশিত হয়েছে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২০
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন-৪৬. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির কোন ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির স্বদেশ ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রশ্ন-৪৭. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

■ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. 'জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।'- বুঝিয়ে লেখো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; ঢা. বো. ২৪; য. বো. ২৩
উত্তর: 'জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে' বলতে কবি আশার ছলনায় নিজের মনকে তৃপ্ত করার কথা বুঝিয়েছেন।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি খ্যাতি লাভের আশায় নিজ দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে সুদূর ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। প্রবাসজীবনে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি কপোতাক্ষ নদের প্রতি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। অনুভূতির গভীরে কপোতাক্ষকে স্থান দেন বলে কবির মনে হয় তিনি যেন সে নদীর কলধ্বনি শুনছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে কবি নিজের আত্মতৃপ্তির বিষয়টিকেই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-২. 'ভ্রান্তির ছলনে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; দি. বো. ১৭; কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ; ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ; সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ
উত্তর: অবচেতন মনে হঠাৎ কপোতাক্ষ নদের কলধ্বনি উপলব্ধি করাকেই কবি 'ভ্রান্তির ছলনে' বলেছেন。

কবিচেতনায় কপোতাক্ষ নদের কলধ্বনি সদাজাগ্রত; তাই রাতে যখন তিনি নিদ্রাযাপন করেন তখনো এ নদের স্রোতপ্রবাহজাত শব্দ তাঁর স্বপ্নে এসে হাজির হয়। কবি উপলব্ধি করেন, এ তাঁর মানসিক ভ্রান্তিরই নামান্তর; তবুও তিনি এই ভ্রান্তিতেই আবৃত থাকতে চান। কারণ এ ভ্রান্তিই কবির কানকে এক সুখানুভূতি প্রদান করে।

প্রশ্ন-৩. 'কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২৩, ১৭; বরিশাল ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: উদ্ভূত চরণের মাধ্যমে কবি কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর মাতৃপ্রতিম স্নেহবিলাশ ও দেশপ্রেমকে বুঝিয়েছেন।

কবি দেশ ত্যাগ করে প্রবাসে থেকেছেন দীর্ঘসময়। সেখানে বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণে তিনি অনেক নদনদীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। কিন্তু তারা কেউই কবির অন্তরের তৃষ্ণা মেটাতে সমর্থ হয়নি। কারণ একমাত্র কপোতাক্ষকে তিনি মাতৃরূপে বন্দনা করেন যা তাঁর দেশপ্রেমেরও স্মারক। এ কারণে এ নদের স্নেহরূপ বারিধারাই কেবল তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে।

প্রশ্ন-৪. ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; বি. বো. ২৪; য. বো. ২২; চ. বো. ২২; দি. বো. ২০; চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ; সরকারি জুবিলী স্কুল, পটুয়াখালী
উত্তর: কবির কাছে জন্মভূমি মায়ের মতো বলে কপোতাক্ষ নদকে তিনি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলেছেন।

কপোতাক্ষ কবির স্মৃতিবিজড়িত একটি নদ। মা যেমন তাঁর সন্তানকে নিবিড় মমতায় বুকের দুধ পান করিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন, তেমনি কপোতাক্ষের জলও বাংলা জনপদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে। তাই কবি কপোতাক্ষের জলকে ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রশ্ন-৫. ‘আর কি হে হবে দেখা?’— কবি এ কথা বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; দি. বো. ২৪; ঢা. বো. ২৩; য. বো. ২০; কু. বো. ১৯; রংপুর জিলা স্কুল
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ফুটে ওঠা কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে কাতর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরুক ছিল। সংগতকারণেই দীর্ঘ প্রবাসজীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়— তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।

প্রশ্ন-৬. ‘বারি-রূপ কর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২২; বগুড়া জিলা স্কুল; কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: কপোতাক্ষ নদ নিজেকে প্রজা মনে করে রাজারূপী সাগরকে কর হিসেবে নিজের জল প্রদান করে।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরকে দেখেছেন রাজারূপে। প্রজুমাত্রই রাজাকে কর বা খাজনা দিয়ে থাকে। প্রজারূপী কপোতাক্ষের জল কর বা খাজনা হিসেবে সাগরে প্রতিনিয়ত প্রবাহিত হয়। প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন-৭. ‘বারি-রূপ কর’ দেয় কপোতাক্ষ নদ। কেন এই কর প্রদান?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, টাঙ্গাইল
উত্তর: কপোতাক্ষ নদ নিজেকে প্রজা মনে করে রাজারূপী সাগরকে ‘বারি রূপ কর’ দেয়।

সকল নদীরই সর্বশেষ গন্তব্য হলো সাগর। নদীর জল গিয়ে সাগরে পতিত হয়। কপোতাক্ষ নদের জলও একইভাবে প্রতিনিয়ত সাগরে গিয়ে পড়ে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরকে দেখেছেন রাজারূপে। কপোতাক্ষ নদ যেন প্রজার মতোই সাগরকে খাজনা বা কর হিসেবে নিজের জল প্রদান করে।

প্রশ্ন-৮. ‘লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; বি. বো. ২৩; সি. বো. ২০; উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা; মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর; বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
উত্তর: কবি প্রবাসজীবনেও তাঁর গানে, কবিতায় শৈশব স্মৃতিবিজড়িত নদীর গুণগান গেয়েছেন।

কপোতাক্ষ নদ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের হৃদয়ের সবটুকু স্থান দখল করে আছে। ফলে দূর প্রবাসে বসেও তিনি কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। তাই প্রবাসজীবনেও তাঁর গান ও কবিতায় শৈশব স্মৃতিবিজড়িত নদীর নামই নিয়েছেন। আর একথা বোঝাতেই কবি বলেছেন, ‘লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে’।

প্রশ্ন-৯. ‘বঙ্গের সংগীত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; দি. বো. ১৬
উত্তর: ‘বঙ্গের সংগীত’ বলতে কবি বঙ্গদেশ তথা জন্মভূমির কবিতা ও গানকে বুঝিয়েছেন।

প্রবাসজীবনে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা ভেবে কবি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। এ নদকে একনজর দেখার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। সংশয় প্রকাশ করেন এই বলে যে আর কি তাঁর সঙ্গে কপোতাক্ষ নদের দেখা হবে? যদি তা নাও হয় তবে তাঁর আকুল মিনতি, বঙ্গবাসী যেন ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মাধ্যমে বঙ্গভাষায় রচিত কবিতা ও গানে তাঁকে স্মরণ করে।

প্রশ্ন-১০. কবি স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর প্রতি কীভাবে প্রকাশ করেছেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; কু. বো. ২০
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে কবি স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর প্রতি প্রকাশ করেছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশবের দিনগুলো অতিবাহিত হয়েছে নিসর্গ লালিত কপোতাক্ষ নদের তীরে। কপোতাক্ষ নদ মাতৃস্নেহে তার তৃষ্ণা মিটিয়েছে। কপোতাক্ষ নদের তীরে কাটানো শৈশবস্মৃতিকে স্মরণ করেই স্বদেশের জন্য কবি হৃদয়ের কাতরতা ও ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়। কপোতাক্ষ নদ যেন স্বদেশের প্রতি তাঁর হৃদয়ের যে কাতরতা তা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে, কবি সে প্রত্যাশাও করেন।

প্রশ্ন-১১. ‘সনেটের গঠন-প্রকৃতি ও চরণের মিল সুনির্দিষ্ট’— ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; রংপুর ক্যাডেট কলেজ
উত্তর: সনেটের গঠন-প্রকৃতি ও চরণের মিল সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীন।

ইংরেজি সনেটের বাংলা নাম চতুর্দশপদী কবিতা। চৌদ্দ চরণ সমন্বিত এই ভাবসংহত বিশেষ ধরনের কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবকের নাম অষ্টক ও পরবর্তী ছয় চরণের নাম ষটক। অষ্টকে থাকে মূল ভাবের প্রবর্তনা ও ষটকে থাকে ভাবের পরিণতি। সনেটের জন্য কয়েক প্রকার অন্ত্যমিল প্রচলিত আছে। যেমন— প্রথম আট চরণ: কখকখ কখখক। শেষ ছয় চরণ: ঘঙচ ঘঙচ। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সনেটের গঠন-প্রকৃতিও চরণের মিল সুনির্দিষ্ট।

প্রশ্ন-১২. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির যে স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮
উত্তর: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমির প্রতি স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশবের দিনগুলো অতিবাহিত হয়েছে নিসর্গ লালিত কপোতাক্ষ নদের তীরে। কবিকে কপোতাক্ষ যেন মায়ের স্নেহে তাঁর তৃষ্ণা মিটিয়েছেন। কপোতাক্ষের জল তাই কবির কাছে দুগ্ধ-স্রোতোরূপী বলে মনে হয়েছে। শৈশব-কৈশোরের এই স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়েছে কাতরতা।

প্রশ্ন-১৩. কবির মনে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে কেন?

সূত্র: পাঠ্যবই পৃষ্ঠা ১৯৮; সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
উত্তর: প্রবাসে কাতর কবি দেশ এবং তার প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে আর দেখতে না পাওয়ার শঙ্কা থেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের আশা ছিল প্রবাসে জগদ্বিখ্যাত কবিদের মাঝে ঠাঁই করে নিবেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। কারণ প্রবাসজীবন তাঁকে ব্যর্থতা ও বঞ্চনা ছাড়া কিছুই দেয়নি। আবার দেশমাতৃকাও তার পাশে নেই। এমতাবস্থায় কবির মনে সংশয় দেখা দেয় যে, আর হয়তো স্বদেশ ও তাঁর প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে তিনি দেখতে পাবেন না।

Post a Comment

0 Comments