Ticker

6/recent/ticker-posts

এসএসসি বাংলা ১ম পত্র _ সুভা _ কনসেপ্ট নোট

গদ্য

সুভা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


গদ্যটির আলোচ্য বিষয়

'সুভা' গল্পে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমতার প্রকাশ ঘটেছে। সুভা কথা বলতে পারে না। তাই সে মনের ভাব সবার মতো করে প্রকাশ করতে পারে না। বাবা-মা ও আপনজনেরা তাকে নিয়ে যে দুশ্চিন্তা করেন, তা সে বুঝতে পারে। তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে। মা এমন মেয়ের জন্য লজ্জা ও বিরক্তি বোধ করেন, কিন্তু বাবা তাকে খুব ভালোবাসেন। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সুভাকে ভয় পায়। তাই সে বন্ধুত্ব পাতায় গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সঙ্গে। ছাগল, বিড়ালও তার বন্ধু। যারা কথা বলতে পারে না সেই পোষা প্রাণীদের কাছে সুভা মুখর। আর বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির সনদ। সুভার সঙ্গী আরেকজন ছিল- গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ। নিতান্ত অকর্মণ্য এই ছেলেটির শখ ছিল- নদীতে ছিপ ফেলে মাছ ধরা। বাক্যহীন সঙ্গী হিসেবে সে সুভার মর্যাদা বুঝত। সুভা তেঁতুলতলায় বসে কখনো জলের দিকে, কখনো ছিপের দিকে তাকিয়ে থেকে প্রতাপের কোনো কাজ করে দেওয়ার কথা ভাবত। সুভা প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত। জগৎ-সংসারে সে আশ্রয় খুঁজে ফেরে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং তাদের প্রতি আমাদের মনে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা জাগাতে চেয়েছেন।

একনজরে লেখক-পরিচিতি
নাম প্রকৃত নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
জন্ম পরিচয় জন্ম তারিখ: ৭ই মে, ১৮৬১ সাল (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)।
জন্মস্থান: জোড়াসাঁকো, কলকাতা, ভারত।
বংশ পরিচয় পিতার নাম: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
মাতার নাম: সারদা দেবী। পিতামহের নাম: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
শিক্ষাজীবন রবীন্দ্রনাথ বাল্যকালে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করলেও স্কুলের পাঠ শেষ করতে পারেননি। ১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড গেলেও কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞানার্জনে তাঁর কোনো ত্রুটি হয়নি।
পেশা/ কর্মজীবন ১৮৮৪ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতার আদেশে বিষয়কর্ম পরিদর্শনে নিযুক্ত হন এবং ১৮৯০ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি দেখাশোনা করেন। এ সূত্রে তিনি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। তিনি ছিলেন অসামান্য শিক্ষা-সংগঠক ও চিন্তক। 'বিশ্বভারতী' নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা।
সাহিত্যকর্ম কাব্যগ্রন্থ: মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, বিচিত্রা, সেঁজুতি, জন্মদিনে, শেষ লেখা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে-বাইরে, চতুরঙ্গ, নৌকাডুবি, যোগাযোগ, রাজর্ষি, শেষের কবিতা প্রভৃতি।
নাটক: অচলায়তন, চিরকুমার সভা, ডাকঘর, মুকুট, মুক্তির উপায়, রক্তকরবী, রাজা প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ: গল্পগুচ্ছ, গল্পসল্প, তিনসঙ্গী, লিপিকা, সে, কৈশোরক প্রভৃতি।
প্রবন্ধগ্রন্থ: বিচিত্র প্রবন্ধ, শিক্ষা, কালান্তর, সভ্যতার সংকট ইত্যাদি।
ভ্রমণকাহিনি: জাপানযাত্রী, পথের সঞ্চয়, পারস্য, রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র প্রভৃতি।
পুরস্কার ও সম্মাননা 'গীতাঞ্জলি' এবং অন্যান্য কাব্যের কবিতার সমন্বয়ে স্বঅনূদিত Song Offerings গ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার (১৯১৩), কলকাতা, ঢাকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট প্রদান করেন।
জীবনাবসান ৭ই আগস্ট, ১৯৪১ সাল (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)।
উদ্দীপকের তথ্যসূত্র
  • দ্যা স্টোরি অফ মাই লাইফ— হেলেন কেলার
  • রিপভ্যান উইংকল— ওয়াশিংটন আরভিং; অনুবাদ— ফকরুজ্জামান চৌধুরী
  • অন্ধবধূ— যতীন্দ্রমোহন বাগচী
প্রশ্নের পরিসংখ্যান
• বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: ২৩২টি
• সৃজনশীল প্রশ্ন: ৩৩টি
• জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: ৮৪টি
• অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: ৫৮টি
১ এর ভিতর সব একনজরে এ গদ্যের সূচি

PART 01 বিশ্লেষণ (Analysis)

বোর্ড প্রশ্ন বিশ্লেষণপৃষ্ঠা ৭৪
শিখনফল বিশ্লেষণপৃষ্ঠা ৭৪
পাঠ বিশ্লেষণপৃষ্ঠা ৭৫

PART 02 অনুশীলন (Practice)

অনুশীলনীর কর্ম-অনুশীলন ও সমাধানপৃষ্ঠা ৭৭
সুপার কুইজপৃষ্ঠা ৭৮
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৭৮
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৭৯
শীর্ষস্থানীয় স্কুলসমূহের প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৮০
মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৮২
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৮৬
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ৮৭
শীর্ষস্থানীয় স্কুলসমূহের প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ১০২
মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ১০৪
অধিকতর অনুশীলন সহায়ক প্রশ্নব্যাংকপৃষ্ঠা ১০৭
জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ১০৭
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তরপৃষ্ঠা ১০৮

PART 03 এক্সক্লুসিভ সাজেশনস

পরীক্ষায় ১০০% প্রস্তুতি উপযোগী প্রশ্নপৃষ্ঠা ১১০

PART 04 যাচাই ও মূল্যায়ন

বহুনির্বাচনি অভীক্ষাপৃষ্ঠা ১১১
সৃজনশীল প্রশ্নপৃষ্ঠা ১১২
PART 01
বিশ্লেষণ
Analysis
সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর সহজে করার
জন্য একনজরে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়বস্তুর পর্যালোচনা
বোর্ড প্রশ্ন ও শিখনফল বিশ্লেষণ
সহজ প্রস্তুতির জন্য একনজরে অধ্যায়ের গুরুত্ব
বোর্ড প্রশ্ন বিশ্লেষণ: বিগত সকল বোর্ড পরীক্ষায় আসা বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন ছকে উপস্থাপন-
বোর্ড
সাল
ঢাকা রাজশাহী যশোর কুমিল্লা চট্টগ্রাম সিলেট বরিশাল দিনাজপুর ময়মনসিংহ
MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ MCQCQ
২০২৪ -১টি-১টি১টি১টি১টি-১টি-১টি১টি১টি-১টি-১টি-
২০২৩ ১টি১টি১টি-২টি-১টি-১টি-১টি১টি১টি-১টি১টি১টি১টি
২০২২ ১টি১টি১টি১টি২টি-২টি-১টি১টি১টি১টি১টি-১টি১টি২টি১টি
২০২১ ২০২১ সালে বোর্ড পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
২০২০ ১টি১টি১টি১টি১টি১টি১টি--১টি-১টি১টি১টি১টি-১টি১টি
২০১৯ ১টি-১টি-১টি-১টি-২টি-১টি---১টি---
শিখনফল বিশ্লেষণ: গদ্যটি অনুশীলন করে শিক্ষার্থীরা-
  • বাকপ্রতিবন্ধীদের মনোজগৎ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। [ঢা. বো. '২০; রা. বো. '২০; সি. বো. '২২]
  • প্রতিবন্ধীদের মানবিক অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [চ. বো. '২২; ব. বো. '২০ '১৯; দি. বো. '২৩, '২২; য. বো. '২৩]
  • বাকপ্রতিবন্ধীদের সঙ্গে প্রকৃতি ও জীবজন্তুর সম্পর্কের স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [ব. বো. '২০]
  • প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে পিতামাতার দুর্ভাবনা ও দায়িত্ববোধের স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [ম. বো. '২০; য. বো. '২০; দি. বো. '১৯]
  • প্রতিবন্ধীদের জীবনসংগ্রামের স্বরূপ ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৩; রা. বো. '২২; চ. বো. '২০; সি. বো. '২৪, '২০]
  • বাকপ্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • মায়া-মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশে প্রতিবন্ধীদের নিজস্ব জগৎ সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • প্রতিবন্ধীদের যথার্থ বিকাশ ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৪; য. বো. '২৪; সি. বো. '২৪, '২৩]
  • প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের অবহেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৪, '২২; ম. বো. '২২]
📖 পাঠ বিশ্লেষণ (Text Analysis)
⚙️ পাঠের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ধারণা
🎯 উৎস পরিচিতি

'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।

💡 পাঠের উদ্দেশ্য

সমাজে বিকশিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি সকলের মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটানো।

👥 চরিত্র পরিচিতি

সুভা : 'সুভা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা। বাবা তার নাম সুভাষিণী রাখলেও সে কথা বলতে পারে না। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। বাবা তাকে অন্য দুই মেয়ে অপেক্ষা বেশি আদর করতেন। সুভা কথা বলতে না পারলেও অনুভব করতে পারত। তার বড় বড় কালো চোখের উজ্জ্বল দৃষ্টির ভাষা বুঝতে কারও অসুবিধা হতো না। সে কাজকর্মে অবসর পেলে নদীতীরে গিয়ে বসে থাকত। মূক প্রকৃতি এবং প্রাণীর সঙ্গে তার ভাব ছিল। সে দিনে তিনবার গোয়ালঘরে গিয়ে দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সঙ্গে ভাব করত। ছাগল ও বিড়ালছানাও তার স্নেহের পরশ পেত। এ ছাড়া প্রতাপ নামে তার আরেকটি বন্ধু ছিল। প্রতাপ তাকে 'সু' বলে ডাকত। নদীতে ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় সুভা তার কাছাকাছি তেঁতুলতলায় বসে থাকত। প্রতাপের জন্য সে প্রতিদিন একটা করে পান সাজিয়ে আনত। সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইত। সে মনে মনে প্রতাপের জন্য জলকুমারী, মণিদীপ্ত গভীর নিস্তব্ধ পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা হতে চাইত। আর তার জন্য সে এক অলৌকিক ক্ষমতা প্রত্যাশা করত। পূর্ণিমা রাতে সে নিস্তব্ধ ব্যাকুল পূর্ণিমা প্রকৃতি উপভোগ করত। বিয়ের উদ্দেশ্যে তাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার আয়োজনের সময় প্রতাপের কথায় সে মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো আহত হয়। যাওয়ার দিন স্থির হলে সুভা গোয়ালঘরে বাল্যসাথিদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত হয় এবং শুক্লাদ্বাদশীর রাতে চিরপরিচিত পরিবেশ ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় সে চিরচেনা প্রকৃতি, পরিবেশ ও মাটির কাছে আবেদন জানায়, তাকে যেতে না দেওয়ার জন্য।

বাণীকণ্ঠ : 'সুভা' গল্পের অন্যতম চরিত্র বাণীকণ্ঠ সুভার বাবা। তিনি অন্য দুই মেয়ে সুকেশিনী ও সুহাসিনী অপেক্ষা সুভাষিণী তথা সুভাকেই বেশি ভালোবাসতেন। তিনি নদীর তীরে চণ্ডীপুর গ্রামের সচ্ছল গৃহস্থ। বাঁখারির বেড়া, আটচালা, গোয়ালঘর, ঢেঁকিশালা, খড়ের স্তূপ, তেঁতুলতলা, আম কাঁঠাল এবং কলার বাগান নৌকাবাহী-মাত্রেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সচ্ছল অবস্থার জন্য বাণীকণ্ঠের শত্রু ছিল। তারা সুভার বিয়ে নিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা হিসেবে তিনি সব লোকনিন্দা সহ্য করেছেন। অবশেষে সৎপাত্রে পাত্রস্থ করার জন্য মেয়েকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করেছেন। তিনি স্নেহ-মমতাবোধসম্পন্ন এবং আত্মমর্যাদার অধিকারী একজন পিতা। সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় তিনি স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, তার মতামত নিয়েছেন। গল্পে কোথাও তার অর্থ-বিত্তের অহংকার এবং পরিবারের লোকদের প্রতি দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তিনি একজন যথার্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তি।

সুভার মা : 'সুভা' গল্পের অন্যতম নারী চরিত্র সুভার মা। তিনি বাণীকণ্ঠের স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তানের জননী। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না বলে তিনি মেয়েকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। তিনি সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন এবং মেয়ের প্রতি তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ছিলেন। তিনি সুভাকে বিশেষ আদর-যত্ন করতেন না। তবে লোকনিন্দা থেকে বাঁচতে মেয়েকে পাত্রস্থ করার সিদ্ধান্তে তিনি স্বামী বাণীকণ্ঠের সঙ্গে একমত হয়েছেন। মেয়েকে দূরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার কথায় তিনি রাজি হয়েছেন।

প্রতাপ : 'সুভা' গল্পের অন্যতম পুরুষ চরিত্র প্রতাপ। সে গোঁসাইদের ছোট ছেলে, নিতান্ত অকর্মণ্য। কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতি করার ক্ষেত্রে তার কোনো আগ্রহ নেই। তার প্রধান শখ ছিপ ফেলে মাছ ধরা। নদীতীরে মাছ ধরতে গিয়ে সুভার সঙ্গে তার প্রায় দেখা হতো। মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বিবেচনায় সুভাকে প্রতাপ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে। সুভাকে সে আদর করে 'সু' বলে ডাকত। প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভার সাজিয়ে আনা পান খেত। সুভা যে তাকে পছন্দ করত সেটা প্রতাপ অনুধাবন করেনি। সুভাকে তার বাবা কলকাতা নিয়ে যাচ্ছে শুনেও প্রতাপ তাই অবাক হয়নি। বরং হেসে বলেছে- "কী রে সু, তোর নাকি বর পাওয়া গেছে, তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিসনে।" এখানে প্রতাপের উদাসীনতা ও অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে।

📚 শব্দার্থ ও টীকা
পাঠ-১ : বোর্ড বইয়ের শব্দার্থ ও টীকা

(জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রকাশিত 'বাংলা সাহিত্য' বইটি দেখ)

পাঠ-২ : বোর্ড বইয়ের অতিরিক্ত শব্দার্থ ও টীকা
বোবা - বাকশক্তিহীন, মূক, বাকপ্রতিবন্ধী, নির্বাক।
অনুরোধ - সুপারিশ, প্রার্থনা।
সংক্ষেপ - অস্বীকার, বাহুল্যবর্জিত রূপ, কমানো, ছোট আকার।
দস্তুরমত - যথারীতি, বিলক্ষণ, যথেষ্ট, নিতান্ত।
অনুসন্ধান - খোঁজখবর, অন্বেষণ, গবেষণা।
বিরাজ - শোভাযুক্ত হয়ে অবস্থিতি, শোভাসহকারে অবস্থান, অবস্থান করা।
অনুভব - উপলব্ধি।
দুশ্চিন্তা - দুর্ভাবনা, উৎকণ্ঠা।
অভিশাপ - অভিসম্পাত, শাপ, অনিষ্ট কামনা।
গোপন - কাউকে না জানানো, লুকানো, আড়াল।
জাগরূক - জাগ্রত, সজাগ, অবিস্মৃত, সতর্ক, হুঁশিয়ার।
বিরক্ত - অনুরাগশূন্য, অপ্রসন্ন, অসন্তুষ্ট, উদাসীন, নিস্পৃহ, জ্বালাতন।
অতলস্পর্শ - তলদেশ স্পর্শ করা যায় না এমন, অতি গভীর।
নিস্তব্ধ - স্থির, নিস্পন্দ, নীরব।
রঙ্গভূমি - রঙ্গালয়, নাট্যশালা।
নিরলসা - যে নারী অলস নয়, অনলসা, আলস্যহীনা, শ্রমশীলা।
কোলাহল - অনেক মানুষের মিলিত কণ্ঠস্বর, শোরগোল, হৈচৈ, গোলমাল।
মধ্যাহ্ন - মধ্যদিন, দিনের মধ্যভাগ, দুপুরবেলা, দ্বিপ্রহর।
অন্তরঙ্গ - আত্মীয়, বন্ধু, সুহৃদ, বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ।
পদশব্দ - পদধ্বনি, পায়ের আওয়াজ, হাঁটার ফলে সৃষ্ট শব্দ।
মর্ম - হৃদয়, নিগূঢ় অর্থ, রহস্য, গুপ্ততত্ত্ব।
ভর্ৎসনা - তিরস্কার, নিন্দা।
মিনতি - বিনীত প্রার্থনা, আবেদন, অনুরোধ, অনুনয়।
নিরীক্ষণ - মনোযোগের সঙ্গে পরীক্ষা, যত্নসহকারে অবলোকন, অভিনিবেশের সঙ্গে দর্শন।
সান্ত্বনা - প্রবোধ, আশ্বাস বাক্য।
আনুগত্য - বশ্যতা, অধীনতা, বাধ্যতা, অনুসরণ, তোষামোদ।
নিঃসঙ্কোচ - সঙ্কোচহীন, অকুণ্ঠ, কুণ্ঠাহীন।
অভিপ্রায় - ইচ্ছা, অভিলাষ, উদ্দেশ্য, মত, মতলব।
অকর্মণ্য - কর্মক্ষম নয় এমন, অপটু, অকেজো।
ক্ষমতা - শক্তি, সামর্থ্য, পটুতা, দক্ষতা, প্রভাব।
অট্টালিকা - প্রাসাদ, পাকা বাড়ি।
নিন্দা - কুখ্যাতি, অপযশ, কুৎসা, বদনাম, তিরস্কার।
জনরব - লোকমুখে প্রচারিত কথা, যে কথা লোকপরম্পরায় রটে, গুজব।
উদ্যোগ - আয়োজন, জোগাড়, উৎসাহ।
ব্যাধ - শিকারি জাতিবিশেষ, পশুপক্ষী বধকারী।
শষ্প - কচি ঘাস।
শষ্পশয্যা - কচি ঘাসের বিছানা।
⚠️ বানান সতর্কতা
অনুসন্ধান দস্তুরমতো দুশ্চিন্তা দৃষ্টিপথ জাগরূক
ত্রুটিস্বরূপ অসম্পূর্ণ বাণীকণ্ঠ ওষ্ঠাধর দিগ্বিদিক
আজন্মকাল অতলস্পর্শ স্বচ্ছ উদয়াস্ত নিস্তব্ধ
গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী বিস্তীর্ণ ভর্ৎসনা গ্রীবা
বেষ্টন নিরীক্ষণ পরিপূর্ণ মর্মবিদ্ধ শষ্পশয্যা
📌 চৌম্বক তথ্য
  • 'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত।
  • তিন বোনের মধ্যে সকলের ছোট সুভার নাম তার বাবা সুভাষিণী রেখেছিলেন।
  • মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন, আর বাবা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
  • আপনজনেরা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত বলে সুভা নিজেকে অভিশাপস্বরূপ মনে করত।
  • বাক্যহীন বলে সুভাকে তার সমবয়সীরা ভয় করত। তাই সে গাভী দুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিল।
  • গোঁসাইদের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপ ছিল সুভার সঙ্গী।
  • তেঁতুলতলায় বসে সুভা প্রতাপের মাছ ধরা দেখত এবং তার জন্য পান সাজিয়ে আনত।
  • বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় নিয়ে যেতে চান, কিন্তু সুভা নিজের জগৎ ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না।
  • কথা বলতে না পারলেও সুভা মনে মনে প্রতাপকে ভালোবাসত।
⚙️ জটিল ও দুরূহ পাঠের ব্যাখ্যা
মিলের অনুরোধে তাহার বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে— বাবা বড় দুই মেয়ের নাম রেখেছিলেন সুকেশিনী ও সুহাসিনী। তাদের নামের সাথে মিল রেখে তিনি ছোট মেয়ের নাম দেন সুভাষিণী।
এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করিতেছে— দস্তুরমতো অনুসন্ধান করে ও অনেক অর্থব্যয় করে বড় দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট মেয়েটি বাকপ্রতিবন্ধী বলে পিতা-মাতার হৃদয়ভার হয়ে রয়েছে। এখনও বিয়ে হয়নি বলে লোকের নিন্দামন্দ শুনতে হচ্ছে।
সে যে বিধাতার অভিশাপস্বরূপ তাহার পিতৃগৃহে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছে— সুভা কথা বলতে পারে না। কিন্তু সবকিছু অনুভব করতে পারে, তা কেউ মনে করে না। আর এজন্য তার সামনেই সবাই তার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। এটি অনুভব করেই সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপস্বরূপ মনে করে।
মা তাহাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখিতেন— সব মা-ই নিজের মেয়েকে নিজের অংশ মনে করে। মেয়ের কোনো অসম্পূর্ণতা দেখলে সেটাকে নিজের ত্রুটি ভেবে লজ্জা বোধ করে। সুভার মাও সুভাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন।
মন আপনি তাহার উপরে ছায়া ফেলে— সুভার কালো চোখকে মনের কোনো ভাব গড়ে নিতে হয় না, তর্জমাও করতে হয় না। মনের যেকোনো ভাব আপনা আপনিই এসে চোখের ওপর ছায়া ফেলে। সুভা বাক্‌হীন বলেই তার চোখ কথা বলে।
প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়— সুভার মুখে ভাষা নেই, সে কথা বলতে পারে না। প্রকৃতিই তার হয়ে কথা বলে। নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর- এ সবই যেন সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
সুভার যে গুটিকতক অন্তরঙ্গ বন্ধুর দল ছিল না তাহা নহে— সুভা বাক্‌হীন ছিল বলে সাধারণ ছেলেমেয়েরা তাকে ভয় পেত। বাড়ির অনেকেই তাকে পাশ কাটিয়ে চলত। তার পরও সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল দুটি গাভী- সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সুভার আদর, ভর্ৎসনা, মিনতি এরা সহজেই বুঝতে পারত।
কোনো কার্যে আবদ্ধ না থাকাতে তাহারা সরকারি সম্পত্তি হইয়া দাঁড়ায়— সরকারি সম্পত্তিতে সবারই সমান অধিকার। গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য, বেকার। আত্মীয়রা তার ওপর বিরক্ত হলেও নিঃসম্পর্ক লোকদের সে প্রিয়পাত্র। কেননা কাজে-কর্মে, আমোদ ও অবসরে তাকে বিস্তর পাওয়া যায় সরকারি সম্পত্তির মতোই।
মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ— মাছ ধরার সময় বড়শির দিকে অথলক লক্ষ রাখতে হয়। এ সময় কথা বললে মনোযোগ নষ্ট হয়। প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভা কাছেই থাকে। সে কথা বলতে পারে না অর্থাৎ বাক্যহীন। এরকম বাক্যহীন সঙ্গীই এ সময় সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
সে মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করিত— সুভার ক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত। তারপরও সে চাইত প্রতাপের কোনো একটা বিশেষ সাহায্য করতে, কোনো একটা কাজে লাগতে। কিন্তু কিছুই সে করতে পারত না। তাই বিধাতার কাছে সে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।
সে আপনাকে আপনি দেখিতেছে, ভাবিতেছে, প্রশ্ন করিতেছে এবং বুঝিতে পারিতেছে না— সুভার বয়স ক্রমশ বাড়ছে। নিজেকে অনুভব করতে পারছে। মনে হচ্ছে পূর্ণিমা তিথিতে সমুদ্রের জোয়ারের স্রোত এসে তাকে পরিপূর্ণ করে তুলছে। সে নিজেকে নিজে দেখছে, ভাবছে, প্রশ্ন করছে। কিন্তু কেন এ পরিবর্তন তা বুঝতে পারছে না।
এক-ঘরে করিবে এমন জনরবও শুনা যায়— সুভা বড় হয়েছে অর্থাৎ তাকে বিয়ে দেওয়ার বয়স হয়েছে। অথচ তার পিতামাতার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। কাজেই সমাজের মানুষকেই তা বলতে হবে। তাই লোকেরা নিন্দা, সমালোচনা করতে শুরু করেছে।
করতে শুরু করেছে। এমনকি প্রতিকারহীন নির্লিপ্ততার কারণে তাদেরকে একঘরে করবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।
মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে যেমন করিয়া তাকায়—
একদিন বিকেল সুভাকে দেখে প্রতাপ হেসে বলে উঠল, ‘কী রে সু... তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিসনে।’ কথাটি সুভার হৃদয়ে বিদ্ধ হলো। সে প্রতাপের দিকে এমন করে তাকাল যেমন করে তীরবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে তাকায়।
তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা—
সুভার বাল্যসখী, চিরপরিচিত জগৎ, নদীতীর— এসব ছেড়ে যেতে হবে ভেবে কান্না পায়। মায়া-মমতায় জড়ানো এসব ছেড়ে সে কোথাও যেতে চায় না। তাই তো নদীতীরে এসে ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়ে ধরণিকে দুই বাহুতে ধরে বলতে চায়, “তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা।” ধরণিই যেন তার শেষ ভরসা।
কর্ম-অনুশীলন ১ ‣ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়? এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে শ্রেণিশিক্ষকের নিকট জমা দাও। ▶ পাঠ্যবই; পৃষ্ঠা ১৬
☑ সমাধান :

কাজের প্রকৃতি : একক কাজ।

কাজের উদ্দেশ্য : বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীদের সাহায্য-সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং তাদের প্রতি সহমর্মী হওয়া।

কাজের বর্ণনা :

২৫ জুলাই, ২০২৫

শ্রদ্ধেয় শিক্ষক

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।


বিষয় : বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর সাহায্য-সহযোগিতার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়।


জনাব,

আপনার মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর ওপর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় নিচে সেগুলো প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করলাম।

আমাদের সমাজে পাঁচ ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। যেমন—

  • বাক্‌প্রতিবন্ধী : যারা কথা বলতে পারে না অথবা অস্পষ্ট শব্দ করে বা দু-চারটা শব্দ বলতে পারে তারা বাক্‌প্রতিবন্ধী।
  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী : যারা চোখে দেখে না তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
  • শ্রবণপ্রতিবন্ধী : যারা কানে শোনে না অর্থাৎ কোনো শব্দ শোনে না বা বুঝতে পারে না তারা শ্রবণপ্রতিবন্ধী।
  • মানসিক প্রতিবন্ধী : যাদের মেধার বিকাশ হয়নি অর্থাৎ তারা কিছু বুঝতে পারে না বা মনে রাখতে পারে না, সঠিকভাবে বা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে পারে না।
  • শারীরিক প্রতিবন্ধী : যাদের হাত অথবা পা থাকে না বা থাকলেও বাঁকা থাকে। অর্থাৎ যাদের হাত-পা কাজ করার উপযোগী থাকে না।

পরিবারে তথা সমাজে প্রতিবন্ধীরা অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত এবং কখনো কখনো নির্যাতিত। অথচ তারা আমাদেরই ভাই-বোন, নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী, পরিজন। তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করা এবং মানুষ হিসেবে মর্যাদা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সচেতন ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরই দায়িত্ব। এসব প্রতিবন্ধীকে সহযোগিতার জন্য নিম্নলিখিত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে—

  • ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ’ কথাটি সর্বত্র ও সর্বক্ষেত্রে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
  • তাদের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল হয়ে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়ানো এবং এর জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • স্বাভাবিক মানুষের মতোই দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা ও কর্মজীবনের সব ক্ষেত্রে তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া।
  • তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
  • পরিবার ও সমাজে তাদেরকে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে কাজ করা।
  • তারা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে সেজন্য তাদেরকে খেলাধুলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর তা কার্যকর হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।

‘ম’
প্রতিবেদক।

কর্ম-অনুশীলন ২ ‣ তোমার চারপাশের সমাজে সুভার মতো কারো জীবন-বাস্তবতা থাকলে তা নিজের ভাষায় লেখ। ▶ পাঠ্যবই; পৃষ্ঠা ১৬
☑ সমাধান :

কাজের প্রকৃতি : একক কাজ।

কাজের উদ্দেশ্য : চারপাশে কোনো প্রতিবন্ধী থাকলে তাদের সম্পর্কে জানা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব পোষণ করা।

কাজের বর্ণনা :

তোমার চারপাশের সমাজে সুভার মতো কারও জীবন-বাস্তবতা থাকলে প্রথমে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নাও। তারপর তাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেখ ও পর্যবেক্ষণ কর। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বল এবং তার সম্পর্কে জানো। তারপর তার সাথে কথা বল, পরিচিত হও এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোল। তাহলেই প্রতিটি পর্যায়ে তাকে জানতে ও বুঝতে পারবে এবং তার জীবন-বাস্তবতা সম্পর্কে সহজেই নিজের ভাষায় লিখতে পারবে।

প্রিয় শিক্ষার্থী, নতুন পাঠ্যবইয়ের লাইনের ধারাবাহিকতায় ভিন্ন ধারার কুইজ টাইপ প্রশ্নাবলি এ অংশে সংযোজন করা হলো। প্রশ্নগুলোর উত্তর ঝটপট পড়ে নাও। এরপর বহুনির্বাচনি অংশের প্রশ্নোত্তরের অনুশীলন করো। দেখবে, সহজেই যেকোনো বহুনির্বাচনির সঠিক উত্তর নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
১। সুভা কার পায়ের কাছে বসে মুখের দিকে চেয়ে কাঁদতে লাগল?
উ: বাবার
২। কে সুভার মর্যাদা বুঝত?
উ: প্রতাপ
৩। সুভার বাবার নাম কী?
উ: বাণীকণ্ঠ
৪। বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সুভা কী পায়?
উ: মুক্তির সনদ
৫। সুভার কোলে কে সুখনিদ্রার আয়োজন করিত?
উ: বিড়ালশিশু
৬। ‘কপোল’ শব্দের অর্থ কী?
উ: গাল
৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উ: ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান?
উ: গীতাঞ্জলি
৯। সুভাষিণীরা কয় বোন?
উ: তিন
১০। কে সুভাকে সুহাসিনী ও সুকেশিনী অপেক্ষা বেশি ভালোবাসেন?
উ: সুভার পিতা
১১। সুভার কী ছিল না?
উ: কথা
১২। মন আপনি কার উপর ছায়া ফেলে?
উ: কালো চোখের
১৩। বাণীকণ্ঠের বাড়িটি কেমন?
উ: আটচালা
১৪। সুভা অবসরে কোথায় বসে থাকে?
উ: নদীতীরে
১৫। লোকটি নিতান্ত অকর্মণ্য— লোকটি কে?
উ: প্রতাপ
১৬। মাছ ধরার সময় কেমন সঙ্গী সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ?
উ: বাক্যহীন
১৭। সুভা মনে মনে কী প্রার্থনা করত?
উ: অলৌকিক ক্ষমতা
১৮। পাতালের রূপার অট্টালিকায় কীসের পালঙ্ক?
উ: সোনার
১৯। সুভা ঘর থেকে বের হয়ে কোথায় লুটিয়ে পড়ে?
উ: নদীতটে
২০। ‘সুভা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উ: গল্পগুচ্ছ

Post a Comment

0 Comments