সুভা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
'সুভা' গল্পে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমতার প্রকাশ ঘটেছে। সুভা কথা বলতে পারে না। তাই সে মনের ভাব সবার মতো করে প্রকাশ করতে পারে না। বাবা-মা ও আপনজনেরা তাকে নিয়ে যে দুশ্চিন্তা করেন, তা সে বুঝতে পারে। তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে। মা এমন মেয়ের জন্য লজ্জা ও বিরক্তি বোধ করেন, কিন্তু বাবা তাকে খুব ভালোবাসেন। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সুভাকে ভয় পায়। তাই সে বন্ধুত্ব পাতায় গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সঙ্গে। ছাগল, বিড়ালও তার বন্ধু। যারা কথা বলতে পারে না সেই পোষা প্রাণীদের কাছে সুভা মুখর। আর বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির সনদ। সুভার সঙ্গী আরেকজন ছিল- গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ। নিতান্ত অকর্মণ্য এই ছেলেটির শখ ছিল- নদীতে ছিপ ফেলে মাছ ধরা। বাক্যহীন সঙ্গী হিসেবে সে সুভার মর্যাদা বুঝত। সুভা তেঁতুলতলায় বসে কখনো জলের দিকে, কখনো ছিপের দিকে তাকিয়ে থেকে প্রতাপের কোনো কাজ করে দেওয়ার কথা ভাবত। সুভা প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত। জগৎ-সংসারে সে আশ্রয় খুঁজে ফেরে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং তাদের প্রতি আমাদের মনে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা জাগাতে চেয়েছেন।
- দ্যা স্টোরি অফ মাই লাইফ— হেলেন কেলার
- রিপভ্যান উইংকল— ওয়াশিংটন আরভিং; অনুবাদ— ফকরুজ্জামান চৌধুরী
- অন্ধবধূ— যতীন্দ্রমোহন বাগচী
PART 01 বিশ্লেষণ (Analysis)
PART 02 অনুশীলন (Practice)
PART 03 এক্সক্লুসিভ সাজেশনস
PART 04 যাচাই ও মূল্যায়ন
| বোর্ড সাল |
ঢাকা | রাজশাহী | যশোর | কুমিল্লা | চট্টগ্রাম | সিলেট | বরিশাল | দিনাজপুর | ময়মনসিংহ | |||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | MCQ | CQ | |
| ২০২৪ | - | ১টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | - | ১টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | - | ১টি | - | ১টি | - |
| ২০২৩ | ১টি | ১টি | ১টি | - | ২টি | - | ১টি | - | ১টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি |
| ২০২২ | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | ২টি | - | ২টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | - | ১টি | ১টি | ২টি | ১টি |
| ২০২১ | ২০২১ সালে বোর্ড পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল না। | |||||||||||||||||
| ২০২০ | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | - | - | ১টি | - | ১টি | ১টি | ১টি | ১টি | - | ১টি | ১টি |
| ২০১৯ | ১টি | - | ১টি | - | ১টি | - | ১টি | - | ২টি | - | ১টি | - | - | - | ১টি | - | - | - |
- বাকপ্রতিবন্ধীদের মনোজগৎ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। [ঢা. বো. '২০; রা. বো. '২০; সি. বো. '২২]
- প্রতিবন্ধীদের মানবিক অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [চ. বো. '২২; ব. বো. '২০ '১৯; দি. বো. '২৩, '২২; য. বো. '২৩]
- বাকপ্রতিবন্ধীদের সঙ্গে প্রকৃতি ও জীবজন্তুর সম্পর্কের স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [ব. বো. '২০]
- প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে পিতামাতার দুর্ভাবনা ও দায়িত্ববোধের স্বরূপ নির্ণয় করতে পারবে। [ম. বো. '২০; য. বো. '২০; দি. বো. '১৯]
- প্রতিবন্ধীদের জীবনসংগ্রামের স্বরূপ ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৩; রা. বো. '২২; চ. বো. '২০; সি. বো. '২৪, '২০]
- বাকপ্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারবে।
- মায়া-মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশে প্রতিবন্ধীদের নিজস্ব জগৎ সম্পর্কে জানতে পারবে।
- প্রতিবন্ধীদের যথার্থ বিকাশ ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৪; য. বো. '২৪; সি. বো. '২৪, '২৩]
- প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের অবহেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। [ঢা. বো. '২৪, '২২; ম. বো. '২২]
'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।
সমাজে বিকশিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি সকলের মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটানো।
সুভা : 'সুভা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা। বাবা তার নাম সুভাষিণী রাখলেও সে কথা বলতে পারে না। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। বাবা তাকে অন্য দুই মেয়ে অপেক্ষা বেশি আদর করতেন। সুভা কথা বলতে না পারলেও অনুভব করতে পারত। তার বড় বড় কালো চোখের উজ্জ্বল দৃষ্টির ভাষা বুঝতে কারও অসুবিধা হতো না। সে কাজকর্মে অবসর পেলে নদীতীরে গিয়ে বসে থাকত। মূক প্রকৃতি এবং প্রাণীর সঙ্গে তার ভাব ছিল। সে দিনে তিনবার গোয়ালঘরে গিয়ে দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সঙ্গে ভাব করত। ছাগল ও বিড়ালছানাও তার স্নেহের পরশ পেত। এ ছাড়া প্রতাপ নামে তার আরেকটি বন্ধু ছিল। প্রতাপ তাকে 'সু' বলে ডাকত। নদীতে ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় সুভা তার কাছাকাছি তেঁতুলতলায় বসে থাকত। প্রতাপের জন্য সে প্রতিদিন একটা করে পান সাজিয়ে আনত। সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইত। সে মনে মনে প্রতাপের জন্য জলকুমারী, মণিদীপ্ত গভীর নিস্তব্ধ পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা হতে চাইত। আর তার জন্য সে এক অলৌকিক ক্ষমতা প্রত্যাশা করত। পূর্ণিমা রাতে সে নিস্তব্ধ ব্যাকুল পূর্ণিমা প্রকৃতি উপভোগ করত। বিয়ের উদ্দেশ্যে তাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার আয়োজনের সময় প্রতাপের কথায় সে মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো আহত হয়। যাওয়ার দিন স্থির হলে সুভা গোয়ালঘরে বাল্যসাথিদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত হয় এবং শুক্লাদ্বাদশীর রাতে চিরপরিচিত পরিবেশ ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় সে চিরচেনা প্রকৃতি, পরিবেশ ও মাটির কাছে আবেদন জানায়, তাকে যেতে না দেওয়ার জন্য।
বাণীকণ্ঠ : 'সুভা' গল্পের অন্যতম চরিত্র বাণীকণ্ঠ সুভার বাবা। তিনি অন্য দুই মেয়ে সুকেশিনী ও সুহাসিনী অপেক্ষা সুভাষিণী তথা সুভাকেই বেশি ভালোবাসতেন। তিনি নদীর তীরে চণ্ডীপুর গ্রামের সচ্ছল গৃহস্থ। বাঁখারির বেড়া, আটচালা, গোয়ালঘর, ঢেঁকিশালা, খড়ের স্তূপ, তেঁতুলতলা, আম কাঁঠাল এবং কলার বাগান নৌকাবাহী-মাত্রেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সচ্ছল অবস্থার জন্য বাণীকণ্ঠের শত্রু ছিল। তারা সুভার বিয়ে নিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা হিসেবে তিনি সব লোকনিন্দা সহ্য করেছেন। অবশেষে সৎপাত্রে পাত্রস্থ করার জন্য মেয়েকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করেছেন। তিনি স্নেহ-মমতাবোধসম্পন্ন এবং আত্মমর্যাদার অধিকারী একজন পিতা। সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় তিনি স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, তার মতামত নিয়েছেন। গল্পে কোথাও তার অর্থ-বিত্তের অহংকার এবং পরিবারের লোকদের প্রতি দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তিনি একজন যথার্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তি।
সুভার মা : 'সুভা' গল্পের অন্যতম নারী চরিত্র সুভার মা। তিনি বাণীকণ্ঠের স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তানের জননী। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না বলে তিনি মেয়েকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। তিনি সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন এবং মেয়ের প্রতি তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ছিলেন। তিনি সুভাকে বিশেষ আদর-যত্ন করতেন না। তবে লোকনিন্দা থেকে বাঁচতে মেয়েকে পাত্রস্থ করার সিদ্ধান্তে তিনি স্বামী বাণীকণ্ঠের সঙ্গে একমত হয়েছেন। মেয়েকে দূরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার কথায় তিনি রাজি হয়েছেন।
প্রতাপ : 'সুভা' গল্পের অন্যতম পুরুষ চরিত্র প্রতাপ। সে গোঁসাইদের ছোট ছেলে, নিতান্ত অকর্মণ্য। কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতি করার ক্ষেত্রে তার কোনো আগ্রহ নেই। তার প্রধান শখ ছিপ ফেলে মাছ ধরা। নদীতীরে মাছ ধরতে গিয়ে সুভার সঙ্গে তার প্রায় দেখা হতো। মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বিবেচনায় সুভাকে প্রতাপ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে। সুভাকে সে আদর করে 'সু' বলে ডাকত। প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভার সাজিয়ে আনা পান খেত। সুভা যে তাকে পছন্দ করত সেটা প্রতাপ অনুধাবন করেনি। সুভাকে তার বাবা কলকাতা নিয়ে যাচ্ছে শুনেও প্রতাপ তাই অবাক হয়নি। বরং হেসে বলেছে- "কী রে সু, তোর নাকি বর পাওয়া গেছে, তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিসনে।" এখানে প্রতাপের উদাসীনতা ও অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
(জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রকাশিত 'বাংলা সাহিত্য' বইটি দেখ)
| অনুসন্ধান | দস্তুরমতো | দুশ্চিন্তা | দৃষ্টিপথ | জাগরূক |
| ত্রুটিস্বরূপ | অসম্পূর্ণ | বাণীকণ্ঠ | ওষ্ঠাধর | দিগ্বিদিক |
| আজন্মকাল | অতলস্পর্শ | স্বচ্ছ | উদয়াস্ত | নিস্তব্ধ |
| গ্রামলক্ষ্মী | স্রোতস্বিনী | বিস্তীর্ণ | ভর্ৎসনা | গ্রীবা |
| বেষ্টন | নিরীক্ষণ | পরিপূর্ণ | মর্মবিদ্ধ | শষ্পশয্যা |
- 'সুভা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত।
- তিন বোনের মধ্যে সকলের ছোট সুভার নাম তার বাবা সুভাষিণী রেখেছিলেন।
- মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করতেন, আর বাবা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
- আপনজনেরা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত বলে সুভা নিজেকে অভিশাপস্বরূপ মনে করত।
- বাক্যহীন বলে সুভাকে তার সমবয়সীরা ভয় করত। তাই সে গাভী দুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিল।
- গোঁসাইদের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপ ছিল সুভার সঙ্গী।
- তেঁতুলতলায় বসে সুভা প্রতাপের মাছ ধরা দেখত এবং তার জন্য পান সাজিয়ে আনত।
- বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় নিয়ে যেতে চান, কিন্তু সুভা নিজের জগৎ ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না।
- কথা বলতে না পারলেও সুভা মনে মনে প্রতাপকে ভালোবাসত।
একদিন বিকেল সুভাকে দেখে প্রতাপ হেসে বলে উঠল, ‘কী রে সু... তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিসনে।’ কথাটি সুভার হৃদয়ে বিদ্ধ হলো। সে প্রতাপের দিকে এমন করে তাকাল যেমন করে তীরবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে তাকায়।
সুভার বাল্যসখী, চিরপরিচিত জগৎ, নদীতীর— এসব ছেড়ে যেতে হবে ভেবে কান্না পায়। মায়া-মমতায় জড়ানো এসব ছেড়ে সে কোথাও যেতে চায় না। তাই তো নদীতীরে এসে ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়ে ধরণিকে দুই বাহুতে ধরে বলতে চায়, “তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা।” ধরণিই যেন তার শেষ ভরসা।
কাজের প্রকৃতি : একক কাজ।
কাজের উদ্দেশ্য : বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীদের সাহায্য-সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং তাদের প্রতি সহমর্মী হওয়া।
কাজের বর্ণনা :
২৫ জুলাই, ২০২৫
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক
সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।
বিষয় : বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর সাহায্য-সহযোগিতার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়।
জনাব,
আপনার মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর ওপর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় নিচে সেগুলো প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করলাম।
আমাদের সমাজে পাঁচ ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। যেমন—
- বাক্প্রতিবন্ধী : যারা কথা বলতে পারে না অথবা অস্পষ্ট শব্দ করে বা দু-চারটা শব্দ বলতে পারে তারা বাক্প্রতিবন্ধী।
- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী : যারা চোখে দেখে না তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- শ্রবণপ্রতিবন্ধী : যারা কানে শোনে না অর্থাৎ কোনো শব্দ শোনে না বা বুঝতে পারে না তারা শ্রবণপ্রতিবন্ধী।
- মানসিক প্রতিবন্ধী : যাদের মেধার বিকাশ হয়নি অর্থাৎ তারা কিছু বুঝতে পারে না বা মনে রাখতে পারে না, সঠিকভাবে বা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে পারে না।
- শারীরিক প্রতিবন্ধী : যাদের হাত অথবা পা থাকে না বা থাকলেও বাঁকা থাকে। অর্থাৎ যাদের হাত-পা কাজ করার উপযোগী থাকে না।
পরিবারে তথা সমাজে প্রতিবন্ধীরা অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত এবং কখনো কখনো নির্যাতিত। অথচ তারা আমাদেরই ভাই-বোন, নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী, পরিজন। তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করা এবং মানুষ হিসেবে মর্যাদা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সচেতন ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরই দায়িত্ব। এসব প্রতিবন্ধীকে সহযোগিতার জন্য নিম্নলিখিত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে—
- ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ’ কথাটি সর্বত্র ও সর্বক্ষেত্রে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
- তাদের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল হয়ে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়ানো এবং এর জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা।
- স্বাভাবিক মানুষের মতোই দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা ও কর্মজীবনের সব ক্ষেত্রে তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া।
- তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
- পরিবার ও সমাজে তাদেরকে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে কাজ করা।
- তারা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে সেজন্য তাদেরকে খেলাধুলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর তা কার্যকর হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
‘ম’
প্রতিবেদক।
কাজের প্রকৃতি : একক কাজ।
কাজের উদ্দেশ্য : চারপাশে কোনো প্রতিবন্ধী থাকলে তাদের সম্পর্কে জানা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব পোষণ করা।
কাজের বর্ণনা :
তোমার চারপাশের সমাজে সুভার মতো কারও জীবন-বাস্তবতা থাকলে প্রথমে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নাও। তারপর তাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেখ ও পর্যবেক্ষণ কর। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বল এবং তার সম্পর্কে জানো। তারপর তার সাথে কথা বল, পরিচিত হও এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোল। তাহলেই প্রতিটি পর্যায়ে তাকে জানতে ও বুঝতে পারবে এবং তার জীবন-বাস্তবতা সম্পর্কে সহজেই নিজের ভাষায় লিখতে পারবে।

0 Comments