Ticker

6/recent/ticker-posts

এসএসসি বাংলা ১ম পত্র _ সুভা _ সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান ( ১১ - ১৬ )

রাজশাহী বোর্ড ২০২২ (বাংলা প্রথম পত্র)

উদ্দীপক: সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজিত প্যারালিম্পিক গেমসের ১৪তম আসর। এতে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে স্বর্ণপদক জয় করে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মেয়ে পারুল আক্তার। একসময় পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই তাকে অবহেলা ও কটাক্ষ করত। কিন্তু পারুলের অদম্য ইচ্ছা, কঠোর সাধনা ও মা-বাবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় পারুলের এ সাফল্য।

ক. কত সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান?

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

খ. সুভার পিতা-মাতা চিন্তিত হয়ে পড়লেন কেন?

সুভার পিতা-মাতা মেয়ের বিয়ের বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। 'সুভা' বাক্‌প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে। বড় দুই মেয়ে সুকেশিনী ও সুহাসিনীকে বাকীণ্ঠ বিয়ে দিলেও বাক্‌প্রতিবন্ধী বলে সুভার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। অন্যদিকে সুভার বিয়ের বয়স বেড়ে যেতে দেখে গ্রামের লোকজন বাকীণ্ঠকে নিন্দা করতে শুরু করেছিল। তারা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মিলে বাকীণ্ঠকে একঘরে করার গুঞ্জন তুলেছিল। মেয়ের বিয়ের জন্য সমাজ বাকীণ্ঠকে একঘরে করার হুমকি দিলে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান। সমাজের মতে সুভা আইবুড়ো মেয়ে। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধানে ব্যস্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

সারকথা: কথা বলতে না পারার কারণে সুভাকে বিয়ে দিতে না পারায় সুভার বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
গ. পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবের আচরণ 'সুভা' গল্পের যে দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।

পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবের আচরণ 'সুভা' গল্পের সুভার প্রতি সুভার মা ও তার সমবয়সি ছেলেমেয়েদের আচরণের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। স্বাভাবিক মানুষ যদি প্রতিবন্ধীদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হয় এবং তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

উদ্দীপকে প্রতিবন্ধী মেয়ে পারুল আক্তারকে এই ধরনের আচরণ সহ্য করতে হয়েছে তা পরিচয় পাওয়া যায়। প্রতিবন্ধী বলে পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই তাকে অবহেলা ও কটাক্ষ করেছে। তার দ্বারা কিছু সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেছে। এ দিকটি 'সুভা' গল্পের বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়ার সুভার সঙ্গে সুভার মা এবং সুভার সমবয়সি মেয়েদের আচরণের দিকটিকে নির্দেশ করে। সুভাকে সুভার মা তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন এবং সুভার প্রতি সব সময় বিরক্তি প্রকাশ করতেন। সমবয়সিরা সুভাকে তাদের বন্ধু, খেলার সাথী হিসেবে গ্রহণ করেনি। এ কারণে সুভা প্রকৃতির সঙ্গে মিশত এবং প্রকৃতি তার ভাষার অভাব পূরণ করে দিত। সুভার জন্য সমাজের লোকেরা বাকীণ্ঠকে একঘরে করার কথাও তুলেছে। এভাবে উদ্দীপকের পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের আচরণ 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সমাজের লোকদের আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে।

সারকথা: 'সুভা' গল্পের সুভার প্রতি অন্যদের স্বাভাবিক আচরণ না করার দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের পারুলের প্রতি পাড়াপ্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের আচরণের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. সাদৃশ্য থাকলেও সুভা পারুলের মতো হতে পারল না। উদ্দীপক ও 'সুভা' গল্পের আলোকে তোমার মতামত দাও।

সাদৃশ্য থাকলেও সুভা পারুলের মতো হতে পারল না— উদ্দীপক ও 'সুভা' গল্পের আলোকে এ বিষয়টির সত্যতা নিরূপণ করা যায়। আমাদের সমাজে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা নানাভাবে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হয়। তাদেরকে অবহেলা না করে আমাদের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের হওয়ার সুযোগ দেওয়া। তাদের দিকে একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

'সুভা' গল্পের সুভা বাক্‌প্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সিরা তাকে খেলায় নেয় না, তার সঙ্গে মেশে না। সুভার মা সুভাকে তার নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেন। বাবা বাকীণ্ঠ সুভাকে স্নেহ-মমতা দেখালেও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে পাত্রস্থ করতে না পারায় অস্থির হয়ে ওঠেন। সুভার মায়েত কোথাও সুভার কথা ভেবে তাকে নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার আয়োজন করেন। কারণ মেয়ের বিয়ের বয়স বেড়ে যাওয়ায় লোকেরা নিন্দা শুরু করেছে। বাকীণ্ঠকে একঘরে করার কথা বলতে শুরু করেছে। উদ্দীপকের পারুলের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পারুলের পাড়া-প্রতিবেশীরা পারুলের বাবাকে একঘরে করতে চায়নি। পারুলের বয়স নিয়েও কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। পারুলকে তার লক্ষ্য এগিয়ে যেতে তার মা-বাবা দুজনেই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে 'সুভা' গল্পে সুভার বাবা-মা ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ তারা মেয়েকে স্বাভাবিক মানুষের মতো বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে পারেননি।

'সুভা' গল্পের সুভা বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়ার সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় লাভ করেছে। অবলা পশুর সঙ্গে ভাব বিনিময় করেছে। প্রতাপের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব স্থায়ী হয়নি সে কথা বলতে পারে না বলে। বাবার সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার সময় প্রতাপ তাকে বাধা দেয়নি। প্রতাপ মাছ ধরার সময় নীরব সঙ্গী হিসেবে সুভাকে গ্রহণ করেছে। পরিবার, সমাজ ও সমবয়সি কারো কাছ থেকেই সুভা সহানুভূতি ও সহযোগিতা পায়নি। আর একারণেই সে পারুলের মতো হতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোত্তর মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা: 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও সুভা পারুলের মতো হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হলেও সে সুভার মতো স্বাভাবিক অবস্থার শিকার হয়নি।
প্রশ্ন ১২ ‣ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
নবম শ্রেণি পড়ুয়া প্রাণবন্ত তুহিন বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে খেলাধুলা করত। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটা পা হারানোর পর আগের মতো সে সবখানে আর প্রাণবন্ত সেই পরিবেশ পায় না। ফলে ধীরে ধীরে সে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
  • ক. সুভা কখন নদীতীরে এসে বসে?
  • খ. প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবার নিরাশ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে লেখ।
  • গ. উদ্দীপকটিতে 'সুভা' গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
  • ঘ. "উদ্দীপকের তুহিনের মতো মানুষদের প্রতি দরদি হওয়ার শিক্ষাই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য।" – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
১২নং প্রশ্নের উত্তর
ক ‣ জ্ঞান

সুভা কাজকর্মে যখনই অবসর পায় তখনই নদীতীরে এসে বসে।

খ ‣ অনুধাবন

প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল বলে মা-বাবা তার প্রতি নিরাশ হয়েছিলেন।

'সুভা' গল্পে প্রতাপ বাবা-মায়ের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো যেত না। এ কারণে মা-বাবা তাকে নিয়ে প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিলেন। ফলে সে অবহেলায় সময় কাটানোর জন্য অপরাহ্নে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। কারণ মাছ ধরার বাহানায় অনেকটা সময় কাটানো যায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতাপ ছিল প্রচণ্ড অলস। সে কোনো কাজ করতে চাইত না। এ কারণে প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবা নিরাশ হয়েছিলেন।

সারকথা:

অলসতা ও অকর্মণ্যতার কারণে প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবা নিরাশ হয়েছিলেন।

গ ‣ প্রয়োগ

উদ্দীপকটিতে 'সুভা' গল্পের সুভার নির্বাক প্রকৃতির মাঝে নিশ্চুপ হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখার দিকটি ফুটে উঠেছে।

আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও তার উপাদানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রকৃতির সঙ্গে গভীর বন্ধনে মানুষ বাঁধা পড়ে আছে। এক কথায় মানুষ প্রকৃতিরই সন্তান।

উদ্দীপকে হঠাৎ দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে তুহিনের নিশ্চুপ হয়ে যাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে। দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে সে আর তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে না। এ বিষয়টি 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে সবাক মানুষের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তার কথা বলার এই শূন্যতা পূরণ করেছে প্রকৃতি। সুভা তার অনুভূতি দিয়ে প্রকৃতিকে জয় করে নিয়েছে। প্রকৃতির মাঝে সে প্রাণের স্পর্শ খুঁজে পেয়েছে। প্রকৃতিই হয়ে উঠেছে তার আশ্রয়। সে বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে থাকতেই ভালোবাসে। উদ্দীপকের তুহিন প্রাণবন্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির স্পর্শ না পেয়ে নিশ্চুপ হয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে না পারার বেদনা তাকে বাক্শূন্য করে তোলে। তুহিন বাক্প্রতিবন্ধী না হয়েও কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তার এই নিশ্চুপ অবস্থা 'সুভা' গল্পের সুভার নীরবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সারকথা:

সুভা ও তুহিনের প্রতিবন্ধিতা তাদের প্রাণবন্ত জীবনকে নিশ্চুপ করে দিয়েছে। এই নির্বাক ও নিশ্চুপতার দিক থেকে দুজনের মধ্যে মিল লক্ষ করা যায়।

ঘ ‣ উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকের তুহিনের মতো মানুষদের প্রতি দরদি হওয়ার শিক্ষাই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য।” – মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের পরিবার ও সমাজেরই অংশ। আমরা অনেক সময় তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করি। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবন বিঘ্নিত হয়। আমাদের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা।

উদ্দীপকের তুহিন নবম শ্রেণির ছাত্র। এ বয়সের কিশোররা প্রাণবন্ত, দুরন্ত ও চঞ্চল হয়ে থাকে। তুহিনও ঠিক তেমনই প্রাণবন্ত এক কিশোর। দুর্ঘটনায় পড়ে একটি পা হারিয়েছে সে তার প্রাণবন্ত জীবনও হারিয়ে ফেলে। ফলে আগের মতো সুন্দর পরিবেশ সে পায় না। বেশিরভাগ সময়ই তাকে প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হয়। তুহিন ধীরে ধীরে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায়। 'সুভা' গল্পের সুভারও বাক্প্রতিবন্ধিতার কারণে জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্নিত। সে অন্যদের অবহেলার শিকার। তুহিন ও সুভার বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধিতা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধিতার কারণে সুভা পারিপার্শ্বিক ও মানসিক যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, ঠিক তেমনই উদ্দীপকের দুর্ঘটনায় পা হারানো তুহিনও মুক্ত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবার সঙ্গে আগের মতো মিশতে পারে না। এসব বঞ্চিত শিশু-কিশোরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য। কারণ সামান্য সহানুভূতি ও ভালোবাসা তাদের এই ছোট্ট জীবনকে আলোকিত করে তুলতে পারে। এতে করে তারা সমগ্র জীবন আত্মনির্ভরশীল হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে এবং পরিবার ও দেশের জন্যও অবদান রাখতে পারে। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা:

'সুভা' গল্পের সুভার দুঃখবোধ উপলব্ধি করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠার মনোভাবই 'সুভা' গল্পের মূল উপজীব্য। উদ্দীপকের তুহিনের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য।

Post a Comment

0 Comments