বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
চতুর্থ অধ্যায়: বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাংলাদেশ কত ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত? [রা. বো. ’২৪]
ব্যাখ্যা: ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে অবস্থিত।
২. বাংলাদেশ কত ডিগ্রি দ্রাঘিমায় অবস্থিত? [কু. বো. ’২৪]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫′) অতিক্রম করেছে।
৩. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিজয়ের উচ্চতা কত? [য. বো. ’২৩]
ব্যাখ্যা: সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং; যা বিজয় নামেও পরিচিত। এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবানের রুমা উপজেলার সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। এর উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
৪. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে— [রা. বো. ’২৩]
ব্যাখ্যা: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ অবস্থিত।
৫. বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম— [রা. বো. ’১৯; কু. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চল, যার বিস্তীর্ণ সমভূমি নদী বাহিত পলি দ্বারা গঠিত।
৬. কোন রেখাটি বাংলাদেশের মাঝামাঝি দিয়ে অতিক্রম করেছে? [য. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। এর মধ্যে ২৩°৫′ উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি রেখা।
৭. বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত কোনটি? [ব. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
৮. কোনটির স্থানীয় নাম টিলা? [সি. বো. ’২৫; সি. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের উত্তরের পাহাড়গুলোর উচ্চতা কম হওয়ায় এগুলোকে টিলা বলা হয়। বাংলাদেশের উত্তরে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। উচ্চতা কম হওয়ার কারণে এগুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
৯. নিচের কোনটি সর্বনিম্ন পর্বত শৃঙ্গ? [ব. বো. ’২৫; য. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: প্রদত্ত পর্বতশৃঙ্গগুলোর মধ্যে পিরামিড শৃঙ্গের উচ্চতা সবচেয়ে কম (প্রায় ৯১৫ মিটার)।
১০. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী? [কু. বো. ’২৫; চ. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো তাজিংডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
১১. টাঙ্গাইলের শালবনের বনভূমি কোন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত? [সি. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বিস্তীর্ণ শালবন অঞ্চল প্লাইস্টোসিনকালের মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমির অন্তর্গত।
১২. লালমাই পাহাড়ের আয়তন কত বর্গ কি.মি.? [সি. বো. ’১৯; ব. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গ কিলোমিটার।
১৩. লালমাই পাহাড়ের অবস্থান কোন জেলায়? [ঢা. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: প্লাইস্টোসিন যুগের সোপানভূমির অন্তর্গত লালমাই পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
১৪. লালমাই পাহাড়টির গড় উচ্চতা কত মিটার? [দি. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১ মিটার।
১৫. লালমাই পাহাড় কুমিল্লা শহর থেকে অবস্থিত— [সি. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এই পাহাড়টি বিস্তৃত।
১৬. বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমির আয়তন কত? [আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০ শতাংশই প্লাবন সমভূমি, যার আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গ কিলোমিটার।
১৭. খুলনা, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার কিয়দংশ নিয়ে গঠিত হয়— [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
ব্যাখ্যা: খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা ও বরিশাল জেলার কিয়দংশে জোয়ার-ভাটার পলি জমে স্রোতজ সমভূমি গঠিত হয়েছে।
১৮. বাংলাদেশের ব-দ্বীপ সমভূমি অঞ্চল— [ঢা. বো. ’২০; বীণাপাণি মথুরানাথ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ]
ব্যাখ্যা: ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে বাংলাদেশের ব-দ্বীপ সমভূমি অঞ্চল গঠিত।
১৯. বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের সব স্থানে লোক বাস করে কেন? [ম. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল সমতল ও সমরূপ হওয়ায় দেশের প্রায় সব স্থানেই মানুষের বসবাস রয়েছে।
২০. বাংলাদেশের কোন ভূমিরূপটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি? [য. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: উর্বর পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন, বসতি স্থাপন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্লাবন সমভূমির অর্থনৈতিক গুরুত্ব সর্বাধিক।
২১. বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব হলো— [কু. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ের তথ্য ও জনশুমারি অনুযায়ী প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১১৯ জন।
২২. বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য কোনটি? [ঢা. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন না হয়ে সমভাবাপন্ন।
২৩. বাংলাদেশের জলবায়ু কেমন? [চ. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। বাংলাদেশ নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার তাপমাত্রা কখনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় না।
২৪. বাংলাদেশে শীতলতম মাস কোনটি? [দি. বো. ’২৪]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশে শীতকালের মধ্যে জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে বলে এটি শীতলতম মাস।
২৫. বাংলাদেশে যখন শীতকাল তখন সূর্য কোন গোলার্ধে থাকে? [চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ]
ব্যাখ্যা: শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বাংলাদেশে এর রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। এদেশে শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাণ যথাক্রমে ২৯ ডিগ্রি সে. ও ১১ ডিগ্রি সে.।
২৬. গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি? [কু. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে এবং গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস হলো এপ্রিল।
২৭. গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল মাসে) নারায়ণগঞ্জ এবং রাজশাহীর তাপমাত্রার পার্থক্য কত? [হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা]
ব্যাখ্যা: এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬° সে. এবং রাজশাহীতে ৩০° সে. থাকে, ফলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১.৩৪° সে.।
২৮. জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণত কোন জেলায় তাপমাত্রা বেশি থাকে? [চ. বো. ’২৫; ব. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: শীতকালে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে উত্তর দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকে; তাই দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে।
২৯. জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? [সি. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: শীতলতম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১৭.৭° সেলসিয়াস।
৩০. বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু কোনটি? [কু. বো. ’১৬]
ব্যাখ্যা: মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। দেশের উষ্ণতম ঋতু হিসেবে এসময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়। গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস হলো এপ্রিল।
৩১. বাংলাদেশের কোন ঋতুতে কালবৈশাখি হয়? [য. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মকালের শুরুতে (বৈশাখ মাসে) বায়ুচাপের পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে কালবৈশাখি ঝড় হয়ে থাকে।
৩২. ‘North Westerlies’ একটি— [ঢা. বো. ’২৫; ব. বো. ’২৩]
ব্যাখ্যা: উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত কালবৈশাখি ঝড়কে ইংরেজিতে ‘North Westerlies’ বলা হয়।
৩৩. North Westerlies এর অর্থ কী? [সি. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে এক ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখি (North Westerlies) বলা হয়।
৩৪. বাংলাদেশে বর্ষাকালে গড়ে সর্বোচ্চ কত সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়? [য. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশে বর্ষাকালে সর্বনিম্ন প্রায় ১১৯ সে.মি. এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৩৪০ সে.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
৩৫. বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা কতভাগ বর্ষাকালে হয়? [চ. বো. ’২৪]
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই বর্ষাকালে হয়।
৩৬. বাংলাদেশের কোন জেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হয়? [য. বো. ’২৩]
ব্যাখ্যা: পাহাড়ি অবস্থান ও মৌসুমি বায়ুর বাধাপ্রাপ্তির কারণে বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
৩৭. ভারতের ঋতুবৈচিত্র্য নির্ভর করে কীসের পার্থক্যের ওপর? [ব. বো. ’১৬]
ব্যাখ্যা: বিশাল আয়তনের দেশ হওয়ায় ভারতের জলবায়ুতে বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির ভিন্নতার কারণে ভারতের জলবায়ুও ভিন্ন। উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের ঋতুকে চার ভাগে ভাগ করা হয়।
৩৮. কোন দেশের শীতকাল ডিসেম্বর হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়? [রা. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: ভারতের জলবায়ুতে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল স্থায়ী হয়।
৩৯. শীতকালে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে কেন? [চ. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করায় উত্তর গোলার্ধে তাপমাত্রা কমে যায় এবং বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
৪০. ২১ মার্চ সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধ হতে নিরক্ষরেখায় আসার পর ক্রমশ কোন রেখার দিকে অগ্রসর হয়? [চ. বো. ’১৬]
ব্যাখ্যা: ২১ মার্চ সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে নিরক্ষরেখায় আসে এবং তারপর ক্রমশ উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখার দিকে অগ্রসর হয়। সূর্যের এ উত্তরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
৪১. অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে যে ঝড় হয় তাকে কী বলে? [কু. বো. ’১৫]
ব্যাখ্যা: ভারতে শরৎ ও হেমন্তকালে সৃষ্ট ঝড়ের নাম হলো আশ্বিনা ঝড়। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হতে থাকে বলে ভারতের কোনো কোনো স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমবঙ্গে এ ঝড়কে আশ্বিনা ঝড় বলে।
৪২. বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার পরিবর্তনে প্রধান নিয়ামক কোনটি? [সি. বো. ’২৫; দি. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার পরিবর্তনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
৪৩. কোন কারণে বর্ষাকাল দেরিতে আসছে এবং অধিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে? [কু. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ঋতুচক্রে অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে এবং বর্ষাকাল দেরিতে আসছে।
৪৪. বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়? [য. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: বঙ্গোপসাগর থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
৪৫. ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠ কুঁচকে ভাঁজের সৃষ্টি হয় কেন? [কু. বো. ’২৪]
ব্যাখ্যা: ভূমিকম্পের সময় আনুভূমিক পার্শ্বচাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ কুঁচকে ভাঁজের সৃষ্টি হয়।
৪৬. ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল কীরূপ? [সি. বো. ’১৬]
ব্যাখ্যা: কখনো কখনো ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ হঠাৎ কোনো কারণে কেঁপে ওঠে। এ কম্পন অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচণ্ড হয়ে থাকে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূপৃষ্ঠের এরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
৪৭. সুনামির মূল কারণ কী? [সি. বো. ’১৯; ব. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়াই সুনামি সৃষ্টির মূল কারণ।
৪৮. আসামের ডাউকি ডেঞ্জার চ্যুতি বাংলাদেশের কোন দিকে? [সিলেট ক্যাডেট কলেজ]
ব্যাখ্যা: আসামের ডাউকি ডেঞ্জার ফল্ট বা চ্যুতি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে (সিলেট-মেঘালয় সীমান্তে) অবস্থিত।
৪৯. নিচের কোনটি ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল নয়? [সিলেট ক্যাডেট কলেজ]
ব্যাখ্যা: প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভূমধ্যসাগরীয়-হিমালয় বলয়ের প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ তালিকার বাইরে থাকায় এখানে সঠিক উত্তর (ঘ)।
৫০. ভূমিকম্পের ভয়ে কোন দেশের মানুষ কাঠ ও কাগজ দিয়ে ঘর-বাড়ি তৈরি করে? [ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ]
ব্যাখ্যা: জাপান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেখানকার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে কাঠ ও হালকা উপকরণ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে।
৫১. বাংলাদেশকে কেন ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল বলা হয়? [সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সিলেট]
ব্যাখ্যা: ইন্ডিয়ান প্লেট এবং মিয়ানমার সাবপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
৫২. সাম্য ঢাকা জেলায় বসবাস করে। সে ভূমিকম্পের কোন বলয়ে রয়েছে? [রা. বো. ’২৫]
ব্যাখ্যা: সিসমিক রিস্ক জোন অনুযায়ী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভূমিকম্পের ‘বিপজ্জনক’ (২য়) বলয়ে অবস্থিত।
৫৩. খুলনা, বরিশাল জেলা বাংলাদেশের ভূমিকম্পের কোন বলয়ে রয়েছে? [ঢা. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল ভূমিকম্পের তৃতীয় বা ‘লঘু’ বলয়ে অবস্থিত।
৫৪. নীলিমা পটুয়াখালীতে বাস করে। সে ভূমিকম্পের কোন বলয়ে রয়েছে? [চ. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: পটুয়াখালী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত হওয়ায় এটি ভূমিকম্পের ‘লঘু’ বলয়ে অবস্থিত।
৫৫. ভূমিকম্পের বিপজ্জনক বলয়ে অবস্থিত কোন জেলা? [সি. বো. ’২০; ঢা. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটি ভূমিকম্পের বিপজ্জনক বলয়ে অবস্থিত।
৫৬. ঢাকায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেশি কেন? [দি. বো. ’১৯; ব. বো. ’১৭]
ব্যাখ্যা: বিল্ডিং কোড না মেনে অপরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন ও নগরায়ণ গড়ে ওঠায় ঢাকায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
৫৭. ‘সিসমিক রিস্ক জোন’ কী? [কু. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: ১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সংবলিত মানচিত্র তৈরি করে। এতে তিনটি বলয় দেখানো হয়েছে। প্রথম বলয়কে ‘প্রলয়ঙ্করী’; দ্বিতীয় বলয়কে ‘বিপজ্জনক’ এবং তৃতীয় বলয়কে ‘লঘু’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ বলয়সমূহকে বলা হয় ‘সিসমিক রিস্ক জোন’।
৫৮. ভূমিকম্পের লঘু বলয়ে অবস্থিত স্থান কোনটি? [চ. বো. ’১৯]
ব্যাখ্যা: খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল বাংলাদেশের ভূমিকম্পের লঘু বলয়ে অবস্থিত।
৫৯. ভূমিকম্পের পর একজন সচেতন ব্যক্তির করণীয় কোনটি? [য. বো. ’২০]
ব্যাখ্যা: ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা রোধে সর্বপ্রথম পানি, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হয়।
৬০. কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করে— [রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ]
- i. কুমিল্লা
- ii. ময়মনসিংহ
- iii. যশোর
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল (কুমিল্লা, যশোর, ফরিদপুর, মাগুরা প্রভৃতি জেলা) দিয়ে অতিক্রম করেছে, তবে ময়মনসিংহ এর উত্তরে অবস্থিত।
৬১. বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ হলো— [ধানমন্ডি গবঃ বয়েজ হাই স্কুল, ঢাকা]
- i. খাসিয়া
- ii. জয়ন্তিয়া
- iii. চিকনাগুল
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ও টিলাগুলো খাসিয়া, জয়ন্তিয়া ও চিকনাগুল নামে পরিচিত।
৬২. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত— [রা. বো. ’২৫; ব. বো. ’২৩]
- i. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- ii. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- iii. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
৬৩. ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলো হলো— [ম. বো. ’২৪]
- i. প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশ
- ii. ভূমধ্যসাগরীয়-হিমালয় অংশ
- iii. আরব সাগরীয় অংশ
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশ এবং ভূমধ্যসাগরীয়-হিমালয় অংশে বিস্তৃত।
৬৪. ভূমিকম্পের প্রলয়ঙ্করী বলয়ে রয়েছে বাংলাদেশের— [কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ]
- i. বান্দরবান ও রংপুর
- ii. রাঙ্গামাটি ও ফরিদপুর
- iii. চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: বান্দরবান, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর অঞ্চল প্রলয়ঙ্করী বলয়ে রয়েছে; কিন্তু ফরিদপুর লঘু/বিপজ্জনক বলয়ে অবস্থিত।
৬৫. বাংলাদেশে বেশি ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কী? [ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ]
- i. ইন্দো-ইউরোপীয় প্লেট এর কাছাকাছি
- ii. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং সুনামি
- iii. ভূমির নিচে চ্যুতি রয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান এবং ভূ-অভ্যন্তরে একাধিক চ্যুতি (Fault) থাকার কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।
৬৬. প্রধান তিনটি বলয় ছাড়াও ভূমিকম্পের প্রকোপ দেখা যায়— [বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ]
- i. ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
- ii. মহাসাগরের কাছে
- iii. নদীর গতি পথে
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: প্রধান বলয়গুলো ছাড়াও ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে এবং মহাসাগরের শৈলশিরা ও গভীর খাতের কাছে ভূমিকম্পের প্রকোপ দেখা যায়।
৬৭. ভূমিকম্পের ফলে যেটি হয়— [রা. বো. ’১৬]
- i. সুনামি
- ii. জলোচ্ছ্বাস
- iii. প্লাবন
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে বিশাল ঢেউ বা সুনামি এবং উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।
৬৮. ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে— [ঢা. বো. ’১৯]
- i. বহুতল ভবনে জরুরি সিঁড়ি রাখতে হবে
- ii. বাড়িতে প্রতি সদস্যদের জন্য হেলমেট রাখতে হবে
- iii. ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ, জরুরি নির্গমন সিঁড়ি রাখা এবং পরিবারের সবার জন্য হেলমেট রাখা প্রয়োজন।
শীতের ছুটিতে রনি তার মামার সাথে সিলেটে এবং রাণী তার বাবার সাথে কুমিল্লায় বেড়াতে যায়। [ম. বো. ’২৪]
৬৯. রনির বেড়াতে যাওয়া জায়গাটির সাথে মিল রয়েছে—
ব্যাখ্যা: রনি সিলেটে বেড়াতে গেছে, আর সিলেটের পাহাড় ও টিলাগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত।
৭০. রাণীর বেড়ানো জায়গাটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
- i. লালচে মাটি
- ii. মাটি নুড়ি ও বালি মিশ্রিত
- iii. সবুজ প্রকৃতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: রাণী কুমিল্লায় (লালমাই পাহাড় অঞ্চলে) বেড়াতে গেছে, যা প্লাইস্টোসিনকালের সোপানভূমি এবং এর মাটি লালচে ও নুড়ি-বালি মিশ্রিত।
বাংলাদেশের ভূমিরূপ
৭১. চিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমির পরিমাণ কত শতাংশ?
ব্যাখ্যা: চিত্রে প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি ৮% এবং টারশিয়ারি পাহাড় ১২% দেখানো হয়েছে; সুতরাং বাকি (১০০ - ২০) = ৮০% হলো প্লাবন সমভূমি।
৭২. উক্ত প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয় কীভাবে?
ব্যাখ্যা: পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও এদের শাখা-প্রশাখা বাহিত বন্যার পলিমাটি বছরের পর বছর জমা হয়ে এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
৭৩. ‘A’ চিহ্নিত অঞ্চলে কোন ধরনের সমভূমি গড়ে উঠেছে?
ব্যাখ্যা: ‘A’ চিহ্নিত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা অঞ্চল) ব-দ্বীপ সমভূমি গড়ে উঠেছে।
৭৪. ‘B’ চিহ্নিত অঞ্চলে স্বল্প জনবসতি গড়ে ওঠার কারণ—
- i. ভূমির বন্ধুরতা
- ii. জলাভূমির আধিক্য
- iii. হিংস্র জীবজন্তুর উপস্থিতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: ‘B’ চিহ্নিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমির বন্ধুরতা এবং বনাঞ্চলে হিংস্র জীবজন্তুর উপস্থিতির কারণে জনবসতি কম।
জনাব 'P' বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বেড়াতে যান। সেখানকার আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু রাস্তা তাকে মুগ্ধ করে। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন এখানকার মতো এত উঁচু রাস্তা বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। [চ. বো. ’১৯]
৭৫. জনাব 'P' এর ভ্রমণকৃত এলাকার ভূমিরূপ—
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকার পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত।
৭৬. উক্ত এলাকায়—
- i. জনসংখ্যার ঘনত্ব কম
- ii. জীবন ধারণ কষ্টকর
- iii. পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনা কম
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: পাহাড়ি এলাকায় জীবনধারণ ও যোগাযোগ কষ্টকর হওয়ায় জনসংখ্যার ঘনত্ব কম, তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে সেখানে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
তানিশা ও তানজিম দুই ভাই-বোন। তারা শীতের ছুটিতে বেড়াতে যায়। তানজিম তার চাচার সাথে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেড়াতে যায়। আর তানিশা বাবার সাথে পাহাড়ি বনাঞ্চলে ঘেরা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যায়। [সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা]
৭৭. তানজিমের দেখা জায়গাটির সাথে মিল রয়েছে—
ব্যাখ্যা: দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ও টিলাগুলো (ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট অঞ্চল) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অন্তর্গত।
৭৮. তানিশার বেড়ানো জায়গাটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
- i. পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার
- ii. পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল দ্বারা গঠিত
- iii. পাহাড়চূড়া মোদকমুয়াল রয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার, এগুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত এবং এখানে মোদকমুয়াল শৃঙ্গ অবস্থিত।
রাজু ফরিদপুরের অধিবাসী। তার এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়। [কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল]
৭৯. রাজুর বসবাসের স্থান যে সমভূমির অন্তর্গত তা হলো—
ব্যাখ্যা: ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা বাংলাদেশের ব-দ্বীপ সমভূমির অন্তর্গত।
৮০. রাজুর বসবাসের অঞ্চল জনবসতিপূর্ণ কেননা সেখানে রয়েছে—
- i. উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা
- ii. কৃষির উপযোগী জলবায়ু
- iii. বিস্তীর্ণ সমভূমি
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: উর্বর বিস্তীর্ণ সমভূমি, কৃষির অনুকূল জলবায়ু এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সমভূমি অঞ্চলে ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে।
রাফিন ঢাকা থেকে একটি পার্বত্য এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখানে সে লক্ষ করে লোক বসতি কম এবং বাড়ি-ঘরগুলো দূরে দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে ঢাকায় লোক বসতি খুবই বেশি এবং বাড়ি-ঘরগুলো খুবই কাছাকাছি। রাস্তাঘাটে হাটাচলা কষ্টকর। [চ. বো. ’২০]
৮১. রাফিনের বেড়াতে যাওয়া স্থানটিতে লোক বসতি কম হওয়ার কারণ—
- i. জীবিকার সংস্থান কষ্টসাধ্য
- ii. অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা
- iii. অসমতল ভূমিরূপ
নিচের কোনটি সঠিক?
ব্যাখ্যা: পার্বত্য এলাকায় অসমতল ভূমিরূপ, অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হওয়ায় লোকবসতি কম।
৮২. রাফিনের যে স্থানে বাস করে সে স্থানে লোক বসতি বেশি হওয়ায় কোনটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে?
ব্যাখ্যা: ঢাকা শহরে অতিরিক্ত জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা মেটাতে জলাভূমি ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মিত হচ্ছে, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
একদিন জনাব আরমান গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভব করলেন। তার চারপাশের সবকিছুই নড়তে শুরু করলো। [ব. বো. ’২৩]
৮৩. ঐ সময়ে জনাব আরমানের কী করা উচিত ছিল?
ব্যাখ্যা: ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে কোনো ভবন, সেতু বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে ফাঁকা স্থানে তাৎক্ষণিক গাড়ি থামিয়ে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করা উচিত।
